সিঁড়ি ভাঙতে গিয়ে হাঁটুতে ব্যথা, সকালে ঘুম থেকে উঠে গোড়ালি শক্ত হয়ে থাকা কিংবা অনেক দিন পর জিমে ফিরতেই কাঁধে যন্ত্রণা এমন অভিজ্ঞতা অনেকেরই আছে। খবর এনডিটিভি
বয়স বেড়েছে, শরীরচর্চা কম হয়েছে কিংবা হঠাৎ পরিশ্রম বেড়েছে, ব্যথার কারণ হিসেবে আমরা এসবই ভাবি।
কিন্তু কয়েক বছর আগে খেলাধুলা করতে গিয়ে পাওয়া কোনো চোটও কি এর পেছনে দায়ী হতে পারে?
বিশেষজ্ঞদের মতে, এমনটা হতে পারে। পুরনো আঘাতের ব্যথা সেরে গেলেও জয়েন্টের ভেতরের সংযোগকারী টিস্যু বা লিগামেন্টে ক্ষতি থেকে যেতে পারে। সময়ের সঙ্গে সেই ক্ষতি জয়েন্টের স্বাভাবিক নড়াচড়া ও ভার বহনের ক্ষমতাকে প্রভাবিত করতে পারে। ফলে দীর্ঘদিন পর আবারও দেখা দিতে পারে ব্যথা, ফোলা কিংবা নড়াচড়ায় অসুবিধা।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির স্বাস্থ্যবিষয়ক প্রতিবেদনে এ বিষয়ে বিস্তারিত তুলে ধরা হয়েছে। প্রতিবেদনটিতে কথা বলেছেন অর্থোপেডিকস চিকিৎসক কিরণ কুমার।
পুরনো চোট কেন আবার সমস্যা তৈরি করে
খেলাধুলার সময় হাঁটু বা গোড়ালির লিগামেন্টে গুরুতর আঘাত, তরুণাস্থির ক্ষতি, হাড় ভাঙা কিংবা একই জয়েন্টে বারবার আঘাত লাগলে তার স্বাভাবিক কার্যকারিতা বদলে যেতে পারে। চিকিৎসার পর ব্যথা কমে গেলেও জোড়াটি আগের মতো কাজ করছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া জরুরি।
অ্যান্টেরিয়র ক্রুশিয়েট লিগামেন্ট (এসিএল) হাঁটুর স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এই লিগামেন্টে আঘাত পাওয়া ব্যক্তিদের পরবর্তী সময়ে হাঁটুর অস্টিওআর্থ্রাইটিস বা ক্ষয়জনিত সমস্যার ঝুঁকি বেশি থাকতে পারে। হাঁটুর মেনিসকাসে আঘাত লাগলেও সেই ঝুঁকি বাড়তে পারে, বিশেষ করে লিগামেন্টের ক্ষতি একসঙ্গে থাকলে। তাই কয়েক বছর ভালো থাকার পরও দৌড়ানো, সিঁড়ি ভাঙা কিংবা দীর্ঘক্ষণ হাঁটার সময় ব্যথা দেখা দিতে পারে। শরীরের ওজন বেড়ে গেলে বা দীর্ঘ বিরতির পর হঠাৎ খেলাধুলা শুরু করলেও পুরনো সমস্যাটি নতুন করে প্রকাশ পেতে পারে।
যেসব লক্ষণগুলো অবহেলা করবেন না?
পুরোনো চোটের পর একই জায়গায় বারবার ব্যথা হলে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন। বিশেষ করে নিচের লক্ষণগুলো খেয়াল রাখুন— ব্যায়াম বা খেলাধুলার পর জোড়া ফুলে যাওয়া।
দীর্ঘ সময় ধরে জড়তা থাকা।
হাঁটু বা অন্য কোনো জোড়া আটকে যাওয়ার অনুভূতি।
হাঁটার সময় জোড়া হঠাৎ দুর্বল হয়ে যাওয়া বা ভরসা হারানো।
জোড়া আগের মতো ভাঁজ করতে বা সোজা করতে না পারা।
অল্প পরিশ্রমেই বারবার ব্যথা ফিরে আসা।
উদাহরণ হিসেবে, প্রতি বার তিন কিলোমিটার দৌড়ানোর পর হাঁটুতে ব্যথা হওয়া কিংবা ব্যাডমিন্টন খেলার পর গোড়ালি ফুলে যাওয়ার বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়া উচিত নয়। কখন ব্যথা হচ্ছে, কতক্ষণ থাকছে এবং ফোলা দেখা দিচ্ছে কি না, সেসব লিখে রাখলে চিকিৎসকের জন্য সমস্যাটি বুঝতে সুবিধা হতে পারে।
পুরোনো চোটের সমস্যা বাড়ার আগেই যা করবেন
দীর্ঘ বিরতির পর খেলাধুলায় ফিরলে আগের মতো সক্ষমতা আছে ধরে নিয়ে শুরুতেই কঠিন ব্যায়াম করা ঠিক নয়। ধীরে ধীরে অনুশীলনের সময় ও তীব্রতা বাড়ানো প্রয়োজন।
পেশি শক্তিশালী : জোড়ার চারপাশের পেশি শক্তিশালী হলে স্থিতিশীলতা বাড়ে এবং নড়াচড়া নিয়ন্ত্রণ করা সহজ হয়। হাঁটুর ক্ষেত্রে উরুর সামনের ও পেছনের পেশি এবং নিতম্বের পেশির ব্যায়াম কাজে আসতে পারে। গোড়ালির সমস্যায় পায়ের পেশির শক্তি ও ভারসাম্য বাড়ানোর ব্যায়াম প্রয়োজন হতে পারে।
নমনীয়তা বাড়ান : কোনো জোড়া শক্ত হয়ে গেলে শরীরের অন্য অংশের নড়াচড়াও প্রভাবিত হতে পারে। ফিজিওথেরাপিস্টের সাহায্যে জোড়ার নড়াচড়ার সীমা, পেশির দুর্বলতা ও চলাফেরার ধরন মূল্যায়ন করানো যেতে পারে।
শরীরের ওজন নিয়ন্ত্রণ : হাঁটু ও নিতম্বের মতো ওজন বহনকারী জোড়ায় অতিরিক্ত চাপ পড়তে পারে। অতিরিক্ত ওজন থাকলে স্বাস্থ্যকর উপায়ে তা কমানো হাঁটুর ওপর চাপ কমাতে সাহায্য করতে পারে।
ব্যথা উপেক্ষা করে অনুশীলন না করা : একই জায়গায় বারবার ব্যথা ফিরে এলে বিশ্রাম নিয়ে কারণটি বোঝার চেষ্টা করুন। ব্যথা কমেছে কি না পরীক্ষা করতে বারবার একই ধরনের কঠিন ব্যায়াম করাও ঠিক নয়।
বারবার জয়েন্ট পেইন, ফোলা এবং নড়াচড়ায় সমস্যা দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। বিশেষ করে হঠাৎ জয়েন্ট পেইন বেড়ে গেলে যদি বেশি সমস্যা হয় তাহলে সময় নষ্ট না করাই ভালো।
Publisher & Editor