বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬

বিচ্ছেদের খরচ জোগাতে অভিনেত্রীকে ‘বুয়ার কাজ’ করতে বলেছিলেন স্বামী!

প্রকাশিত: ০৬:৫৮, ১৪ অক্টোবর ২০২৬ | ১১

অস্ট্রিয়ার ব্যবসায়ী স্বামী পিটার হাগের সঙ্গে বিচ্ছেদ নিয়ে আইনি লড়াই চলছে বলিউড অভিনেত্রী সেলিনা জেটলির। এবার সেই দাম্পত্যের তিক্ত অভিজ্ঞতা নিয়ে মুখ খুলেছেন সাবেক মিস ইন্ডিয়া ইউনিভার্স।

চার সন্তানের ভবিষ্যতের কথা ভেবে শান্তিপূর্ণভাবে বিচ্ছেদ চেয়েছিলেন তিনি। কিন্তু তাতে সাড়া না দিয়ে বিচ্ছেদের আইনি খরচ জোগাতে না পারলে পরিচারিকার কাজ করে উপার্জনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ করেছেন অভিনেত্রী। পিটার হাগের সঙ্গে ১৫ বছরের দাম্পত্যের ইতি টানার সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর একের পর এক কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছেন বলে জানিয়েছেন সেলিনা। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে সেই অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন তিনি।

অভিনেত্রীর দাবি, ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরের শুরুতে বিবাহবার্ষিকীর উপহার পাওয়ার প্রত্যাশা করেছিলেন তিনি। কিন্তু উপহারের বদলে হাতে আসে বিচ্ছেদের নোটিশ। সেই মুহূর্তের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে সেলিনা লেখেন, ‘এক বছর আগে একটি স্যুটকেস নিয়ে মুম্বাইয়ে ফিরেছিলাম। তাতে ছিল প্রয়োজনীয় নথি, প্রয়াত মায়ের শাড়ি আর একরাশ যন্ত্রণা।

সেলিনা জানান, মামলার প্রথম শুনানিতে বিচারক তাদের সমঝোতার মাধ্যমে বিচ্ছেদের জন্য নভেম্বর পর্যন্ত সময় দিয়েছিলেন। সেই সুযোগে চার সন্তানের কথা ভেবে স্বামীর কাছে শান্তিপূর্ণভাবে আলাদা হওয়ার অনুরোধ করেছিলেন তিনি। এ সময় স্বামীর বিরুদ্ধে অত্যাচার ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ আদালতে না তোলার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছিলেন বলে দাবি তার।

এ প্রসঙ্গে অভিনেত্রী বলেন, ‘আমি কথা দিয়েছিলাম, ওর অত্যাচার ও মানসিক যন্ত্রণার কথা আদালতে বলব না। সন্তানদের কথা ভেবে যেন শান্তিপূর্ণভাবে আলাদা হয়ে যাই— এটুকুই চেয়েছিলাম।

কিন্তু তার অভিযোগ, বিচ্ছেদের আইনি খরচ বহন করতে না পারার কথা জানালে পিটার তাকে আইনজীবীদের সঙ্গে কথা বলতে বলেন। এমনকি অর্থের অভাব হলে পরিচারিকার কাজ করার পরামর্শও দেওয়া হয়েছিল বলে দাবি সেলিনার। ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি লেখেন, ‘১৫ বছরের দাম্পত্য, চার সন্তান। এই কি সেই মানুষ?’

দাম্পত্যের তিক্ততা নিয়ে বলতে গিয়ে সেলিনা আরো অভিযোগ করেন, বিয়ের আগের সম্পত্তির ওপরও দাবি জানানো হয়েছিল। সন্তানদের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রাখতে হলে তাকে অস্ট্রিয়ায় থাকতে হবে বলেও জানানো হয়েছিল। একপর্যায়ে সন্তানদের সঙ্গে কথা বলার সুযোগও বন্ধ হয়ে যায় বলে দাবি অভিনেত্রীর।

সেলিনার আরো অভিযোগ, সন্তানদের তার বিরুদ্ধে প্রভাবিত করা হচ্ছে এবং তাকে মানসিকভাবে অসুস্থ মা হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা চলছে। এমন পরিস্থিতিতে অস্ট্রিয়ায় প্রতিবেশীদের সহায়তায় রাত ১টার দিকে বাড়ি ছাড়তে বাধ্য হয়েছিলেন বলে জানিয়েছেন তিনি। বলিউড অভিনেত্রী লারা দত্তও তার সঙ্গে ঘটে চলা পরিস্থিতির সাক্ষী ছিলেন বলে দাবি সেলিনার।

সন্তানদের যৌথ অভিভাবকত্ব নিয়ে এখনো আইনি লড়াই চলছে বলে জানিয়েছেন অভিনেত্রী। কঠিন পরিস্থিতির মধ্যেও ন্যায়বিচারের প্রত্যাশা ছাড়তে চান না তিনি। সেলিনার ভাষায়, ‘তবু আমি ন্যায়বিচারের অপেক্ষা করব। এই একা মা লড়াই চালিয়ে যাবে।’

২০০৩ সালে ফিরোজ খানের ‘জানশীন’ সিনেমার মাধ্যমে বলিউডে অভিষেক হয় সেলিনা জেটলির। এরপর ‘নো এন্ট্রি’, ‘গোলমাল রিটার্নস’ ও ‘থ্যাঙ্ক ইউ’-এর মতো সিনেমায় অভিনয় করে পরিচিতি পান তিনি। তবে অভিনয়জীবনের সাফল্যের বাইরে ব্যক্তিগত জীবনের এই আইনি লড়াই এখন নতুন করে আলোচনায় এনেছে অভিনেত্রীকে।

Mahfuzur Rahman

Publisher & Editor