শুক্রবার, ০৬ মার্চ ২০২৬

টি-টোয়েন্টির ইতিহাস সেরা ১০ অলরাউন্ডার

প্রকাশিত: ০৬:৪৭, ০৬ মার্চ ২০২৬ |

ক্রিকেটের সংক্ষিপ্ত ফরম্যাট হলো টি-টোয়েন্টি। ২০ ওভারের এই ক্রিকেট আবিস্কারের পর থেকেই জনপ্রিয়তায় তুঙ্গে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) প্রতি সপ্তাহে খেলোয়াড়রা কে কোন পজিশনে আছে তার র‌্যাংকিং হালনাগাদ করে। 

ব্যক্তিগত অর্থায়ন কোর্স
অলরাউন্ডারদের ব্যাটিং ও বোলিং পয়েন্টের গুণফলকে ১০০০ দিয়ে ভাগ করে পজিশন নির্ধারণ করা হয়। এই সমীকরণ মিলিয়ে ইতিহাসের সেরা রেটিং পয়েন্ট অর্জন করেছেন যারা-


শেন ওয়াটসন

শীর্ষ দশে থাকা একমাত্র পেস-বোলিং অলরাউন্ডার এবং একমাত্র খেলোয়াড় যার রেটিং ৫০০ ছাড়িয়েছে। ২০১২ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত টানা এক বছরের বেশি সময় ৪০০-এর ওপর রেটিং ধরে রেখেছিলেন তিনি। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ৭০ রান ও ২ উইকেট নিয়ে যখন ৫৬৬ পয়েন্টের চূড়ায় পৌঁছান, তখন তাঁর ব্যাটিং রেটিং ছিল ৮৪৭, বোলিং রেটিং ৬৬৯।


মোহাম্মদ হাফিজ

পাকিস্তানের তারকা অলরাউন্ডার। মূলত ব্যাটসম্যান ছিলেন, শুরুর দিকে অফ স্পিন করতেন খণ্ডকালীন হিসেবে। তবে বল হাতে ধারাবাহিকতা একপর্যায়ে তাকে শীর্ষ অলরাউন্ডারে পরিণত করে। ২০১৩ সালে ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের সুবাদে ৪৫২ রেটিং পয়েন্ট তোলেন ‘প্রফেসর’ নামে পরিচিত এই অলরাউন্ডার।


শহীদ আফ্রিদি

বিধ্বংসী ব্যাটিং আর কার্যকর লেগ স্পিন—শহীদ আফ্রিদি যেন ছিলেন টি-টোয়েন্টির আদর্শ প্যাকেজ। ২০০৯ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ১৭৬ রান ও ১১ উইকেট নিয়ে পাকিস্তানকে শিরোপা জেতাতে বড় ভূমিকা রাখেন। সেই বছরের শেষ দিকে নিউজিল্যান্ড সফরে ক্যারিয়ার–সর্বোচ্চ ৪৩৭ রেটিং পয়েন্ট স্পর্শ করেন।


সাকিব আল হাসান

বাংলাদেশ দলের সাবেক অধিনায়ক সাকিব আল হাসান দীর্ঘসময় অলরাউন্ডার র‌্যাংকিংয়ের শীর্ষে ছিলেন। ২০১৪ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে প্রতিবছরই অন্তত একবার হলেও টি-টোয়েন্টি অলরাউন্ডার র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষে ছিলেন সাকিব।  এর মধ্যে ২০১৫ সালের এপ্রিলে পাকিস্তান সিরিজের সময় তার রেটিং উঠেছিল সর্বোচ্চ ৪২০ পর্যন্ত।


গ্লেন ম্যাক্সওয়েল

অস্ট্রেলিয়ান তারকা গ্লেন ম্যাক্সওয়েল এখনো খেলা ছাড়েননি। এই ব্যাটিং অলরাউন্ডার ইদানীং বোলিং কমই করেন। ২০১৬ সালে শ্রীলংকা সিরিজে টানা দুই ম্যাচে অপরাজিত ১৪৫ ও ৬৬ রানের ইনিংস খেলে অলরাউন্ডার র‌্যাংকিংয়ের শীর্ষে উঠেছিলেন ম্যাক্সওয়েল। তখন তার রেটিং পয়েন্ট ছিল ৩৭৫।


সনাৎ জয়াসুরিয়া

সনাৎ জয়াসুরিয়া তার সময়ের সেরাদের মধ্যে অন্যতম একজন ছিলেন।  নব্বইয়ের দশকে ওয়ানডেতে শ্রীলংকার বদলে যাওয়ার অন্যতম কারিগর ছিলেন জয়াসুরিয়া। তার আক্রমণাত্মক ধারার ব্যাটিং পরবর্তী সময়ে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের জন্যও আদর্শ হয়ে ওঠে।  ২০১০ সালের এপ্রিলে তার ২৪তম ম্যাচের পর জয়াসুরিয়ার পরিসংখ্যান ছিল—২৭ গড়ে ৬০৬ রান এবং ২৩ গড়ে ১৭ উইকেট; রেটিং উঠে যায় ৩৬৬-তে।


যুবরাজ সিং

টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটের শুরুর দিকের ‘পোস্টার বয়’ ছিলেন যুবরাজ সিং।  ২০০৭ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে স্টুয়ার্ট ব্রডের এক ওভারে ছয় ছক্কার সেই দৃশ্য। এই সংস্করণে আইসিসির ব্যাটিং র‌্যাংকিংয়ে ৮০০ রেটিং ছোঁয়া প্রথম ব্যাটসম্যানও তিনি। ২০১৩ সালের অক্টোবরে রাজকোটে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে অপরাজিত ৩৫ বলে ৭৭ রানের ইনিংস খেলে অলরাউন্ডার হিসেবে নিজের সর্বোচ্চ ৩৬৩ রেটিংয়ে পৌঁছান। সেই ম্যাচের পর তার ব্যাটিং রেটিং ছিল ৭০০-এর বেশি, বোলিং রেটিং ৫০০-এর বেশি।


মোহাম্মদ নবী

আফগান তারকা মোহাম্মদ নবী ২০১৮ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে বেশ কয়েকবার টি-টোয়েন্টি র‌্যাংকিংয়ে এক নম্বর অলরাউন্ডার হয়েছিলেন।  এর মধ্যে ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বরে শীর্ষে ছিলেন ৩৬১ রেটিং পয়েন্ট নিয়ে। 


ডেভিড হাসি

ডেভিড হাসি মূলত ব্যাটসম্যান হলেও পার্ট-টাইম বোলিং দিয়েই অলরাউন্ডার র‌্যাংকিংয়ের চূড়ায় উঠেছিলেন। ২০১২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ভারতের বিপক্ষে সিরিজের পর তিনি ৩৩৭ রেটিং পয়েন্ট অর্জন করেন। সে বছর বল হাতেও দারুণ কিপটে ছিলেন তিনি, ওভারপ্রতি খরচ ছিল ৬-এরও কম রান।

১০

সিকান্দার রাজা

চলমান টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের মধ্যেই ৩২৮ রেটিং পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে উঠেছেন জিম্বাবুয়ের সিকান্দার রাজা।  আইসিসির পূর্ণ সদস্যদেশগুলোর মধ্যে রাজাই প্রথম ক্রিকেটার, যিনি ৩০০০ রান ও ১০০ উইকেটের ‘ডাবল’ মাইলফলক স্পর্শ করেছেন।

Mahfuzur Rahman

Publisher & Editor