ছবি: সংগৃহীত
ভেনেজুয়েলায় স্থানীয় সময় আজ শনিবার ভোররাতে যুক্তরাষ্ট্রের দফায় দফায় চালানো হামলায় আবাসিক এলাকাও আক্রান্ত হয়েছে। দেশটি এ অভিযোগ করেছে। একই সঙ্গে ব্যাপকভাবে নিজেদের সামরিক বাহিনী মোতায়েনের ঘোষণা দিয়েছে কারাকাস।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক ভিডিও বিবৃতিতে ভেনেজুয়েলার প্রতিরক্ষামন্ত্রী ভ্লাদিমির পাদ্রিনো লোপেজ বলেন, ‘আগ্রাসী মার্কিন বাহিনী আমাদের মাটি অপবিত্র করেছে। তারা সামরিক হেলিকপ্টার থেকে ক্ষেপণাস্ত্র ও রকেট ছুড়ে বেসামরিক নাগরিক অধ্যুষিত আবাসিক এলাকায় আঘাত হেনেছে।’
লোপেজ আরও জানান, দক্ষিণ আমেরিকার এই দেশটি এখন থেকে সমন্বিত প্রতিরক্ষার জন্য নিজেদের স্থল, বিমান ও নৌবাহিনী এবং ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতাসহ সব ধরনের সামরিক শক্তির ব্যাপক মোতায়েন শুরু করবে।
ওয়াশিংটনের এই হামলাকে ‘হীন ও কাপুরুষোচিত’ আখ্যা দিয়ে ভেনেজুয়েলার প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেন, কর্তৃপক্ষ এই হামলায় নিহত ও আহত ব্যক্তিদের তথ্য সংগ্রহ করছে।
লোপেজের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, কারাকাসের দক্ষিণে অবস্থিত ভেনেজুয়েলার বৃহত্তম সামরিক কমপ্লেক্স ‘ফুয়ের্তে তিউনা’র আবাসিক এলাকাগুলোতে হামলা চালানো হয়েছে। এ ছাড়া রাজধানীর আশপাশের মিরান্দা, আরাগুয়া ও লা গুয়াইরা রাজ্যেও হামলা হয়েছে বলে তিনি জানান।
এএফপির সাংবাদিকেরা জানান, রাত আনুমানিক দুইটার দিকে কারাকাসজুড়ে ভয়াবহ বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়, যার কম্পনে শহরতলির অনেক এলাকার জানালার কাচ কেঁপে ওঠে। পরে দেশের অন্যান্য শহরেও আরও বিস্ফোরণের খবর পাওয়া যায়।
রাজধানীতে প্রায় এক ঘণ্টা ধরে এ ধরনের বিস্ফোরণ চলতে থাকে। এ সময় মাথার ওপর উড়োজাহাজের মতো কিছুর চলাচলের আওয়াজ শোনা যাচ্ছিল। বিস্ফোরণের কারণে রাজধানীর বেশ কিছু এলাকা বিদ্যুৎ–বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।
প্রতিরক্ষামন্ত্রী লোপেজ মার্কিন হামলার তীব্র নিন্দা জানান। তিনি বলেন, এই হামলা জাতিসংঘের সনদ এবং আন্তর্জাতিক আইনের চরম লঙ্ঘন।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলায় ‘বড় ধরনের হামলা’ চালিয়েছে। দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলা মাদুরো ও তাঁর স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে আটক করা হয়েছে এবং দেশের বাইরে নিয়ে আসা হয়েছে। তবে তাঁদের ঠিক কোথায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে তিনি কিছু বলেননি।
Publisher & Editor