ছবি: সংগৃহীত
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ভারতের প্রতিরক্ষা কেনাকাটা ও বাণিজ্য–সংক্রান্ত একাধিক ঝুলে থাকা ইস্যুতে স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তার সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন। দীর্ঘদিন ধরে আটকে থাকা অ্যাপাচি হেলিকপ্টার সরবরাহ নিয়েও মোদি তার কাছে আসেন বলে দাবি করেন ট্রাম্প। এ সময় মোদি তাকে ‘স্যার’ সম্বোধন করেছিলেন—এমন দাবিও করেন তিনি।
ওয়াশিংটনে রিপাবলিকান পার্টির হাউস সদস্যদের এক রিট্রিটে বক্তব্য দিতে গিয়ে ট্রাম্প বলেন, ‘ভারত অ্যাপাচি হেলিকপ্টার অর্ডার করেছিল, কিন্তু পাঁচ বছরেও সেগুলো পায়নি। প্রধানমন্ত্রী মোদি আমার সঙ্গে দেখা করতে আসার আগে বললেন, “স্যার, আমি কি আপনার সঙ্গে একটু দেখা করতে পারি?” আমি বললাম, “হ্যাঁ।”’ এরপর ট্রাম্প যোগ করেন, মোদির সঙ্গে তার ব্যক্তিগত সম্পর্ক খুবই ভালো। তার ভাষায়, ‘আমি তার সঙ্গে খুব ভালো সম্পর্ক রাখি।’
তবে একই বক্তব্যে ট্রাম্প ইঙ্গিত দেন, শুল্কনীতি নিয়ে মোদি তার ওপর সন্তুষ্ট নন। ট্রাম্প বলেন, ‘সে আমার ওপর খুব একটা খুশি নয়, কারণ এখন তাদের অনেক শুল্ক দিতে হচ্ছে। তারা (রাশিয়া থেকে) তেল কেনা বন্ধ করেনি।’ এরপর তিনি দাবি করেন, ভারত রাশিয়া থেকে তেল কেনা উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়েছে। ট্রাম্পের ভাষায়, ‘তারা রাশিয়া থেকে তেল কেনা খুবই উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়েছে—আপনারা জানেন।’
যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিতে শুল্ক আরোপের প্রভাব তুলে ধরে ট্রাম্প বলেন, ‘শুল্কের কারণে আমরা ধনী হয়ে যাচ্ছি—আশা করি সবাই এটা বোঝেন।’ তিনি আরও দাবি করেন, ‘আমাকে জানাতে হচ্ছে, শুল্কের কারণে ৬৫০ বিলিয়ন ডলারের বেশি অর্থ আমাদের দেশে আসছে বা খুব শিগগিরই আসবে।’
প্রতিরক্ষা সহযোগিতা প্রসঙ্গে ট্রাম্প আবারও ভারতের সামরিক কেনাকাটায় বিলম্বের বিষয়টি তোলেন। বিশেষ করে অ্যাপাচি হেলিকপ্টার সরবরাহের দীর্ঘসূত্রতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিষয়টি এখন এগোচ্ছে। ট্রাম্পের দাবি, ‘আমরা এটা বদলাচ্ছি। ভারত ৬৮টি অ্যাপাচি অর্ডার করেছিল।’ তবে এ বিষয়ে তিনি আর কোনো বিস্তারিত তথ্য দেননি।
এর আগে চলতি সপ্তাহের শুরুতে ট্রাম্প আরও শুল্ক আরোপের হুমকিও দেন। এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘রাশিয়ার তেলের বিষয়টি নিয়ে যদি তারা সহযোগিতা না করে, তাহলে আমরা ভারতের ওপর শুল্ক বাড়াতে পারি।’
তবে একই সঙ্গে মোদির প্রতি কিছুটা সৌহার্দ্যপূর্ণ অবস্থানও দেখান ট্রাম্প। তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী মোদি খুব ভালো মানুষ। তিনি জানতেন আমি খুশি নই। আমাকে খুশি করা তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ ছিল। তারা বাণিজ্য করে, আর আমরা খুব দ্রুত তাদের ওপর শুল্ক বাড়াতে পারি।’
এরই মধ্যে ট্রাম্প প্রশাসন ভারতের পণ্যের ওপর মোট ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছে। এর মধ্যে রাশিয়া থেকে তেল কেনার সঙ্গে যুক্ত ২৫ শতাংশ অতিরিক্ত শুল্কও রয়েছে। ওয়াশিংটনের ভাষ্য অনুযায়ী, এই পদক্ষেপ মস্কোর সঙ্গে জ্বালানি বাণিজ্য নিরুৎসাহিত করতে যুক্তরাষ্ট্রের বৃহত্তর চাপ প্রয়োগ কৌশলের অংশ।
Publisher & Editor