রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬

অলিভ অয়েল কি রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে কার্যকরী? যা বলছে গবেষণা

প্রকাশিত: ০৬:১২, ০১ নভেম্বর ২০২৬ | ২

সামাজিক মাধ্যমে সম্প্রতি খালি পেটে অলিভ অয়েল বা জলপাই তেল খাওয়ার প্রবণতা বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। এর পক্ষে দাবি করা হয় যে এটি ত্বকের স্বাস্থ্য ভালো রাখে, বার্ধক্য ধীর করে এবং সামগ্রিক সুস্থতা বজায় রাখতে সাহায্য করে। তবে অনেক বিশেষজ্ঞের মতে, এসব দাবির পেছনে যথেষ্ট শক্ত বৈজ্ঞানিক প্রমাণ এখনো সীমিত।

সম্প্রতি চিকিৎসা বিষয়ক সাময়িকী ‘ডায়াবেটিস’-এ প্রকাশিত একটি নতুন গবেষণায় দেখা গেছে, ভারী বা শর্করা জাতীয় খাবার খাওয়ার আগে অলিভ অয়েল খেলে তা রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে কেমন প্রভাব ফেলতে পারে।

ইঁদুরের ওপর চালানো এক গবেষণায় গবেষকরা গ্লুকোজ দেওয়ার ১৫ মিনিট আগে অলিভ অয়েল খাওয়ান। এরপর এর ফলাফল তুলনা করা হয় দুটি দলের সঙ্গে—যাদের একটি দলকে গ্লুকোজের আগে শুধু পানি এবং অন্য দলকে গ্লুকোজ খাওয়ার পরে অলিভ অয়েল দেওয়া হয়েছিল।

গবেষণায় দেখা গেছে, যে ইঁদুরগুলো আগে অলিভ অয়েল খেয়েছিল, তাদের রক্তে শর্করার প্রাথমিক বৃদ্ধি কিছুটা কম হয়েছে। 

গবেষকরা গ্যাস্ট্রিক এমপ্টিং বা পাকস্থলী থেকে খাবার ক্ষুদ্রান্ত্রে যাওয়ার প্রক্রিয়াটি ধীরগতির হতে দেখেছেন। টাইপ-২ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত এবং তীব্র ইনসুলিন ঘাটতিযুক্ত ইঁদুরের ক্ষেত্রেও একই রকম প্রভাব লক্ষ্য করা গেছে। 

এ ছাড়া অলিভ অয়েল খাওয়ার ১৫ থেকে ৩০ মিনিটের মধ্যে গ্লুকাগন, জিআইপি এবং জিএলপি-১ এর মতো কিছু অন্ত্রের হরমোনে পরিবর্তন দেখা যায়।

জাপানের কিওটো বিশ্ববিদ্যালয়ের এক প্রধান গবেষকের মতে, অন্ত্রে পুষ্টি উপাদান পৌঁছানোর এই ধারা অন্ত্রের হরমোন এবং স্নায়ুতন্ত্রকে উদ্দীপ্ত করতে পারে, যা গ্লুকোজ রক্তপ্রবাহে প্রবেশ করার গতিকে প্রভাবিত করে। তবে রক্তে শর্করার প্রাথমিক বৃদ্ধি ধীর হওয়া মানেই শরীর সামগ্রিকভাবে কম গ্লুকোজ শোষণ করছে—এমন নয়। 

মানবদেহের ওপর গবেষণার ফলাফল কী?

মানুষের ওপর করা কিছু সীমিত গবেষণাতেও এমন কিছু প্রভাব দেখা গেছে, তবে তা নিশ্চিত হওয়ার জন্য যথেষ্ট নয়। 

পুষ্টিবিদ জেনিফার প্যালিয়ানের উল্লেখ করা একটি ছোট গবেষণায় টাইপ-২ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ছয়জন পুরুষকে কার্বোহাইড্রেট বা শর্করা সমৃদ্ধ খাবারের ৩০ মিনিট আগে ৩০ মিলিলিটার অলিভ অয়েল দেওয়া হয়েছিল।

সেটিতে দেখা যায়, অলিভ অয়েল খাওয়ার ফলে খাবার হজম বা পাকস্থলী খালি হওয়ার গতি ধীর হয়েছে, রক্তে গ্লুকোজের বৃদ্ধি বিলম্বিত হয়েছে এবং জিএলপি-১ এর মাত্রা বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে অংশগ্রহণকারী সংখ্যা অত্যন্ত কম থাকায় এই ছোট গবেষণাটি থেকে বড় বা দীর্ঘস্থায়ী কোনো স্বাস্থ্যগত সুফল নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।

এটি কি ডায়াবেটিসের চিকিৎসা বা ওষুধের বিকল্প হতে পারে?

বিশেষজ্ঞদের সতর্কবার্তা হলো, খাবার আগে অলিভ অয়েল খাওয়াকে ডায়াবেটিসের কোনো প্রমাণিত চিকিৎসা বা রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণের নির্ভরযোগ্য উপায় হিসেবে এখনো গণ্য করা যায় না। কারণ এর অধিকাংশ প্রমাণই ইঁদুরের ওপর চালানো পরীক্ষার ওপর ভিত্তি করে তৈরি এবং মানবদেহের ওপর গবেষণা এখনও সীমিত।

অলিভ অয়েল একটি সুষম ও স্বাস্থ্যকর ডায়েটের অংশ হতে পারে, তবে ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য এটি কোনোভাবেই চিকিৎসকের নির্ধারিত ওষুধ বা জীবনযাত্রার অন্যান্য নিয়মকানুনের বিকল্প হতে পারে না। 

Mahfuzur Rahman

Publisher & Editor