সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬

কমিউনিটি সেন্টার, সাশ্রয়ী ফিউনারেল সেবা ও আর্থিক স্বচ্ছতায় কুনু-ফিরোজ পরিষদের অঙ্গীকার

প্রকাশিত: ০৬:৩৮, ১৯ অক্টোবর ২০২৬ | ১৬

আগামী ২৫ অক্টোবর বাংলাদেশ সোসাইটি ইনকের নির্বাচন সামনে রেখে সাত দফা নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেছে আজমল হোসেন কুনু ও ফিরোজ আহমেদের নেতৃত্বাধীন কুনু-ফিরোজ পরিষদ। ইশতেহারে নিউইয়র্কে স্থায়ী বাংলাদেশ কমিউনিটি সেন্টার প্রতিষ্ঠা, ধর্ম-বর্ণনির্বিশেষে সাশ্রয়ী ফিউনারেল সেবা, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের সরাসরি ফ্লাইট পুনরায় চালুর উদ্যোগ, ইমিগ্রেশন ও আইনি সহায়তা, কর্মসংস্থান, তরুণদের নেতৃত্ব বিকাশ এবং উচ্চশিক্ষায় সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সংগঠনের আর্থিক স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও ভোটার নিবন্ধনপ্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার অঙ্গীকার করেছেন পরিষদের নেতারা।

বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) নিউইয়র্কের জ্যাকসন হাইটসের ৭৩ স্ট্রিটে পরিষদের নির্বাচনী প্রচারণা ক্যাম্পের অস্থায়ী কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ‘আমাদের অঙ্গীকার, কমিউনিটির অগ্রযাত্রা’ শিরোনামে ইশতেহার ঘোষণা করা হয়। এতে সভাপতিপ্রার্থী আজমল হোসেন কুনু, সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী ফিরোজ আহমেদ এবং পরিষদের অন্য প্রার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

ইশতেহার পাঠ করে ফিরোজ আহমেদ বলেন, বাংলাদেশ সোসাইটি যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশিদের ঐক্য, সম্প্রীতি, অধিকার ও কল্যাণের গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম। সংগঠনটিকে আরও কার্যকর, স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও জনকল্যাণমুখী প্রতিষ্ঠানে পরিণত করাই তাঁদের লক্ষ্য। ইশতেহারের প্রথম অঙ্গীকার নিউইয়র্কে একটি আধুনিক ও স্থায়ী বাংলাদেশ কমিউনিটি সেন্টার প্রতিষ্ঠা। সোসাইটির নিজস্ব তহবিল, সদস্যদের সহযোগিতা এবং প্রবাসী দাতাদের অনুদানের মাধ্যমে এ উদ্যোগ বাস্তবায়নের পরিকল্পনা তুলে ধরেছে পরিষদ।

দ্বিতীয় অঙ্গীকারে রয়েছে সব ধর্মের মানুষের জন্য সাশ্রয়ী ফিউনারেল সেবা নিশ্চিত করা। স্বজন হারানোর কঠিন সময়ে মুসলিম, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টানসহ বিভিন্ন সম্প্রদায়ের পরিবার যেন প্রয়োজনীয় সহযোগিতা পায়, সে লক্ষ্যে কার্যকর সেবাব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। তৃতীয় অঙ্গীকার নিউইয়র্ক থেকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের সরাসরি ফ্লাইট পুনরায় চালুর উদ্যোগ। এ বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা ও সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়েছে পরিষদ।

চতুর্থ দফায় ইমিগ্রেশন সহায়তা, আইনি পরামর্শের হেল্পলাইন এবং কনস্যুলার সেবা সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে। অভিজ্ঞ ইমিগ্রেশন আইনজীবীদের সহযোগিতায় প্রবাসীদের প্রাথমিক আইনি দিকনির্দেশনা দেওয়ার পাশাপাশি নিউইয়র্কের প্রতিটি বরোতে কনস্যুলার সেবা সহজলভ্য করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। পঞ্চম অঙ্গীকার কর্মসংস্থান ও দক্ষতা উন্নয়ন। নিউইয়র্ক সিটি, স্টেট ও ফেডারেল সরকারের চাকরির সুযোগ সম্পর্কে প্রবাসীদের জানাতে নিয়মিত জব সেমিনার, চাকরির আবেদন ও সাক্ষাৎকার প্রস্তুতিতে সহায়তা এবং তথ্যপ্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বিষয়ে স্বল্প খরচে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করার পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়েছে।

ষষ্ঠ দফায় বাংলাদেশি-আমেরিকান তরুণদের যুক্তরাষ্ট্রের মূলধারার রাজনীতি, সামাজিক নেতৃত্ব ও নীতিনির্ধারণী প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ বাড়াতে প্রতিবছর ‘ইয়ুথ কনভেনশন’ আয়োজনের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন জাতি, ধর্ম ও সম্প্রদায়ের সঙ্গে সম্প্রীতি ও সহযোগিতা জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

সপ্তম অঙ্গীকার মেধাবী শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষায় সহযোগিতা। যুক্তরাষ্ট্রের কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির প্রস্তুতি, মানসম্মত কোচিং এবং শিক্ষাবিষয়ক পরামর্শের মাধ্যমে বাংলাদেশি-আমেরিকান পরিবারের সম্ভাবনাময় শিক্ষার্থীদের সহায়তার পরিকল্পনা জানিয়েছে পরিষদ।

আর্থিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির প্রতিশ্রুতি
সংবাদ সম্মেলনে সভাপতিপ্রার্থী আজমল হোসেন কুনু বলেন, ব্যক্তিগত আক্রমণ বা বিদ্বেষের রাজনীতি নয়, সবাইকে সঙ্গে নিয়ে বাংলাদেশ সোসাইটিকে এগিয়ে নেওয়াই তাঁদের লক্ষ্য। নির্বাচিত হলে সংগঠনের আয়-ব্যয়ের নিরীক্ষিত ও প্রত্যয়নকৃত হিসাব প্রকাশ করা হবে এবং আর্থিক ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হবে।

তিনি জানান, সোসাইটির কার্যালয়ে স্থায়ী হেল্প ডেস্ক চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে, যাতে সদস্য ও সাধারণ প্রবাসীরা প্রয়োজনীয় তথ্য ও সহযোগিতা পেতে পারেন। নিজস্ব ভবন কেনার বিষয়ে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। তবে অর্থায়ন ও বাস্তবায়নপদ্ধতির বিস্তারিত পরে প্রকাশ করা হবে বলে জানান। নিউইয়র্ক থেকে বিমানের সরাসরি ফ্লাইট চালুর দাবিকে প্রবাসীদের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা উল্লেখ করে কুনু বলেন, নির্বাচিত হলে বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে আলোচনা করবেন। প্রত্যাশিত অগ্রগতি না হলে কমিউনিটিকে সঙ্গে নিয়ে আন্দোলনের কর্মসূচি নেওয়ার কথাও জানান তিনি।

ভোটার নিবন্ধনপ্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্ব দিয়ে কুনু বলেন, ভোটারদের নিবন্ধন ফি নিজেদেরই পরিশোধ করার ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে চান তাঁরা। একজনের নিবন্ধন ফি অন্যজনের পরিশোধের সুযোগ বন্ধ করার পক্ষেও মত দেন তিনি। তাঁর ভাষ্য, বাস্তবায়নযোগ্য প্রতিশ্রুতিই তাঁরা ভোটারদের সামনে তুলে ধরছেন।

সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী ফিরোজ আহমেদ বলেন, নির্বাচিত হলে ঘোষিত অঙ্গীকার বাস্তবায়নে আন্তরিকভাবে কাজ করবেন। বাংলাদেশ সোসাইটিকে জনবান্ধব ও কার্যকর সংগঠনে পরিণত করতে তিনি ভোটারদের সমর্থন কামনা করেন।

বর্তমান কমিটির কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন
সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ সোসাইটির ট্রাস্টি বোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যান এম এ আজিজ সংগঠনের বর্তমান কার্যক্রম ও আর্থিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। অন্য একটি সংগঠনের ব্যানারে সাউথ এশিয়ান প্যারেডে বাংলাদেশ সোসাইটির অংশগ্রহণের সমালোচনা করে তিনি জানতে চান, এতে সোসাইটির কী অর্জন হয়েছে।

নিজস্ব ভবন কেনার উদ্যোগ নিয়েও প্রশ্ন তুলে এম এ আজিজ দাবি করেন, ভবনটির মালিকের সঙ্গে যোগাযোগ ও চুক্তির প্রকৃত অবস্থা সম্পর্কে স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি। সোসাইটির সুবর্ণজয়ন্তী ও অভিষেক অনুষ্ঠানসহ বিভিন্ন আয়োজনে অর্থ ব্যয়ের ক্ষেত্রেও যথাযথ সংযম ও জবাবদিহি অনুসরণ করা হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি। এসব অভিযোগের বিষয়ে সংবাদ সম্মেলনে বর্তমান কমিটির বক্তব্য উপস্থাপন করা হয়নি। ভোটারদের উদ্দেশে এম এ আজিজ বলেন, ভোটাধিকার কারও কাছে বিক্রি করা উচিত নয়। অর্থের বিনিময়ে ভোট না দিয়ে প্রত্যেককে স্বাধীনভাবে নিজের ভোট প্রয়োগের আহ্বান জানান তিনি।

অনুষ্ঠানে কুনু-ফিরোজ পরিষদের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান জামাল আহমেদ জনিসহ কমিটির নেতারা বক্তব্য দেন। উপস্থিত ছিলেন মঈনুল ইসলাম, বেলাল মাহমুদ, অধ্যাপক সৈয়দ জহির উদ্দিন আজাদ ও আনোয়ারসহ অন্যরা। পরিষদের সহসভাপতি প্রার্থী আবুল কালাম ভূঁইয়া, সহসাধারণ সম্পাদক প্রার্থী মোহাম্মদ নওশেদ হোসেন এবং বিভিন্ন পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী প্রার্থী, সমর্থক ও কমিউনিটির বিশিষ্ট ব্যক্তিরাও উপস্থিত ছিলেন।

২৫ অক্টোবরের নির্বাচন সামনে রেখে কুনু-ফিরোজ পরিষদের ঘোষিত ইশতেহারে কমিউনিটির দীর্ঘদিনের কিছু প্রত্যাশা ও সংগঠন পরিচালনায় স্বচ্ছতার বিষয়গুলো গুরুত্ব পেয়েছে। এসব প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়নযোগ্যতা, নেতৃত্বের সক্ষমতা এবং সংগঠনের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা বিবেচনায় নিয়ে ভোটাররা তাঁদের সিদ্ধান্ত নেবেন।

Mahfuzur Rahman

Publisher & Editor