সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬

বিশ্বজুড়ে আলোচনায় তুর্কি সিরিজ ‘নট আ স্ট্রেঞ্জার’, কী আছে এতে

প্রকাশিত: ০৭:৫৮, ১৯ অক্টোবর ২০২৬ | ৭

অনেক আগে থেকেই দেশের বিভিন্ন টিভি চ্যানেলে বাংলায় ডাবকৃত তুর্কি সিরিয়াল জনপ্রিয়তা পেয়েছে। সামাজিক মাধ্যমে নেটিজেনদের মাঝে এসব সিরিজের রিলসও ভাইরাল হয়েছে। এখন বিশ্বজুড়ে জমজমাট তুর্কি সিরিজ। এর জনপ্রিয়তা কাজে লাগাতে চাইছে ওটিটি প্ল্যাটফর্মগুলো। আর এ মুহূর্তে বিশ্বজুড়ে আলোচনায় তুরস্কের ওয়েব সিরিজ ‘নট আ স্ট্রেঞ্জার’। এ সিরিজটি এর মধ্যেই কোটি ভিউ ছাড়িয়েছে। 

গত কয়েক বছরে নেটফ্লিক্সে বেশ কয়েকটি তুর্কি সিরিজ ও সিনেমা এসেছে। সেই ধারাবাহিকতায় এবার এসেছে ওয়েব সিরিজ ‘নট আ স্ট্রেঞ্জার’। মের্ত বায়কাল পরিচালিত এ সিরিজটি মুক্তির পর বিশ্বজুড়ে দর্শকদের মধ্যে সাড়া ফেলেছে। 

এ সিরেজের গল্পের সবচেয়ে বড় শক্তি চিত্রনাট্য। গল্প চেনা হলেও নির্মাতারা পর্দায় রোমাঞ্চ তৈরি করতে পেরেছেন। সুখী দাম্পত্যে থেকে বিশ্বাসের সংকট—চিত্রনাট্যের গাঁথুনি এতটা মজবুত যে, দর্শকরা আগ্রহে থাকেন পরের পর্বে কী ঘটবে। রহস্যময় নাজলির চরিত্রটিও ভালোভাবে লেখা। তিনি যত বেশি পরিবারের আস্থাভাজন হয়ে ওঠেন, তার অতীত সম্পর্কে জানার আগ্রহও তত বাড়ে। দর্শক কেবল পরবর্তী ঘটনা কী ঘটবে, তা জানতে চান না— চরিত্রগুলোর আচরণের আড়ালে কী লুকিয়ে আছে, সেটিও বোঝার চেষ্টা করেন থাকে।

এ সিরিজটির কেন্দ্রীয় চরিত্র ফুন্দা (এলচিন সাঙ্গু); চিত্রশিল্পী। মা হওয়ার পর সংসার ও সন্তানের দায়িত্ব সামলাতে গিয়ে নিজের শিল্পীজীবন থেকে অনেকটাই দূরে সরে গেছেন তিনি। নিজের পুরোনো সত্তায় ফিরে যাওয়ার আকাঙ্ক্ষা থাকলেও বাস্তবতার চাপে তা সহজ ছিল না। তাই চাপ সামলাতে মেয়ের দেখাশোনার জন্য একজন আয়া নিয়োগের সিদ্ধান্ত নেন তিনি। সেই সূত্রে তার জীবনে আসে নাজলি (মেলিস সেজেন)। 

ধীরে ধীরে নাজলির ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েন ফুন্দা। কিন্তু পরিস্থিতি পাল্টে যায় যখন ফুন্দার স্বামী ইলকার (ওজান দোলুনাই) বাড়ি ফিরে আসেন। আর নাজলিকে দেখে চিনতে পারেন তার পুরোনো অতীত। অতীতে তাদের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল! এই পুরোনো সম্পর্কের কথা জানতে পেরে ফুন্দার জীবনের স্বস্তি উবে যায়। 

স্বামীর অতীত, সংসার আর নিজের অবস্থান নিয়ে নতুন করে ভাবতে শুরু করেন ফুন্দা। নাজলি কি কেবল চাকরির জন্য এই বাড়িতে এসেছেন, নাকি তার অন্য কোনো উদ্দেশ্য আছে?

সিরিজটি প্রথম পর্ব প্রচারের পর প্রশংসা পেয়েছে। ফুন্দার মানসিক চাপ, নিজের শিল্পীসত্তায় ফিরে যাওয়ার আকাঙ্ক্ষা এবং দুই নারী চরিত্রের মধ্যকার রহস্যকে গল্প এগিয়ে নেওয়ার কার্যকর উপাদান হিসেবে দেখা হয়েছে। তবে সব সমালোচক সমানভাবে সন্তুষ্ট হতে পারেননি। তুরস্কের একটি গণমাধ্যমে সাবাহর পর্যালোচনায় গল্পের অস্পষ্টতা এবং কিছু বিষয় বারবার ব্যাখ্যা করার প্রবণতা নিয়ে আপত্তি তোলা হয়েছে, যা গল্পে সম্ভাবনা থাকলেও চিত্রনাট্য সবসময় সেই সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে পারেনি।

সবচেয়ে অবাক করার বিষয় হচ্ছে, ওয়েব সিরিজ ‘নট আ স্ট্রেঞ্জার’ মুক্তির প্রথম সপ্তাহেই নন–ইংলিশ সিরিজের তালিকায় শীর্ষে উঠেছে। প্রথম দুই সপ্তাহে সিরিজটির ভিউ ছিল ১ কোটি ৪৩ লাখ।

Mahfuzur Rahman

Publisher & Editor