শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬

স্মার্টফোন-টাকার নোট ধরার পর যে কারণে হাত ধোয়া জরুরি

প্রকাশিত: ১০:৫৮, ১৭ অক্টোবর ২০২৬ | ১০

দরজার হাতল, স্মার্টফোন, টাকার নোট কিংবা গণপরিবহনের হাতল—প্রতিদিন অসংখ্য জিনিস স্পর্শ করি আমরা। এসব বস্তুর মাধ্যমে হাতে জীবাণু জমতে পারে। পরে সেই হাত দিয়ে চোখ, নাক ও মুখ স্পর্শ করলে কিংবা খাবার খেলে জীবাণু শরীরে প্রবেশের সুযোগ পায়। ফলে ডায়রিয়া, খাদ্যবাহিত অসুস্থতা ও কিছু শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়তে পারে।

সংক্রামক রোগ প্রতিরোধে সবচেয়ে সহজ ও কার্যকর অভ্যাসগুলোর একটি হলো সাবান ও নিরাপদ পানি দিয়ে সঠিক নিয়মে হাত ধোয়া। ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা সম্পর্কে সবারই সচেতন হওয়া উচিত এবং হাত যথাযথভাবে ধোয়া উচিত।

হাত না ধুলে যেসব সমস্যা হতে পারে

দূষিত হাতের মাধ্যমে জীবাণু খাবার ও শরীরে প্রবেশ করে বিভিন্ন সংক্রমণ ঘটাতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে ডায়রিয়া, খাদ্যবাহিত অসুস্থতা এবং কিছু শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণ। অপরিষ্কার হাতের মাধ্যমে নির্দিষ্ট কিছু পরজীবীও শরীরে প্রবেশ করতে পারে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও ইউনিসেফের মতে, সাবান দিয়ে হাত ধোয়ার অভ্যাস সংক্রমণের ঝুঁকি কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তবে সব রোগ হাতের মাধ্যমে ছড়ায় না। নিরাপদ পানি, স্বাস্থ্যসম্মত পয়োনিষ্কাশন, পরিচ্ছন্ন খাবার ও প্রয়োজনীয় টিকাদানও রোগ প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ।

কখন হাত ধোয়া জরুরি?

দৈনন্দিন জীবনে কয়েকটি সময়ে হাত ধোয়ার বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। যেমন-

টয়লেট ব্যবহারের পর এবং শিশুর মল পরিষ্কার করার পর।
খাবার তৈরি ও খাওয়ার আগে।
কাঁচা মাছ, মাংস বা ডিম ধরার পর।
হাঁচি-কাশির পর এবং নাক পরিষ্কার করার পর।
অসুস্থ ব্যক্তির পরিচর্যার আগে ও পরে।
আবর্জনা বা পশুপাখি স্পর্শ করার পর।
বাইরে থেকে বাড়ি ফেরার পর এবং হাত দৃশ্যত নোংরা হলে।
সঠিক নিয়মে হাত ধোয়ার পদ্ধতি

শুধু পানি দিয়ে হাত ভেজানো যথেষ্ট নয়। সাবান দিয়ে হাতের সব অংশ ভালোভাবে পরিষ্কার করতে হবে। সাধারণত পুরো প্রক্রিয়ায় ৪০-৬০ সেকেন্ড সময় রাখা যায়।

প্রথমে পরিষ্কার পানিতে হাত ভিজিয়ে সাবান লাগান। এরপর দুই হাতের তালু, হাতের পিঠ, আঙুলের ফাঁক, বুড়ো আঙুল, নখের চারপাশ ও আঙুলের ডগা ভালোভাবে ঘষুন। শেষে পরিষ্কার পানি দিয়ে হাত ধুয়ে নিরাপদ উপায়ে শুকিয়ে নিন।

সাবান ও পানি না থাকলে অন্তত ৬০ শতাংশ অ্যালকোহলযুক্ত হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে হাতে দৃশ্যমান ময়লা বা তেল থাকলে সাবান-পানিতে হাত ধোয়াই ভালো।

শীতকালেও হাত ধোয়া বন্ধ নয়

শীতকালে ঠান্ডার কারণে অনেকেই হাত ধোয়ার সময় কমিয়ে দেন। কিন্তু এ সময়ও পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা জরুরি। একই সঙ্গে বারবার হাত ধোয়ার ফলে ত্বক শুষ্ক হয়ে গেলে মৃদু সাবান ও স্বাভাবিক বা কুসুম গরম পানি ব্যবহার করা যেতে পারে। হাত ধোয়ার পর ময়েশ্চারাইজার লাগালে ত্বকের শুষ্কতা কমতে পারে।

মনে রাখতে হবে, জীবাণু দূর করার ক্ষেত্রে পানির তাপমাত্রার চেয়ে সাবান দিয়ে হাতের সব অংশ ভালোভাবে ঘষে পরিষ্কার করাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

শিশু ও চিকিৎসাকেন্দ্রে হাতের পরিচ্ছন্নতা

শিশুরা খেলাধুলা ও বিভিন্ন বস্তু স্পর্শ করার সময় সহজেই জীবাণুর সংস্পর্শে আসে। তাই ছোটবেলা থেকেই তাদের হাত ধোয়ার অভ্যাস গড়ে তোলা প্রয়োজন। বিদ্যালয়ে সাবান ও নিরাপদ পানির ব্যবস্থা থাকাও জরুরি।

হাসপাতাল ও চিকিৎসাকেন্দ্রে রোগীকে স্পর্শ করার আগে ও পরে এবং চিকিৎসাসেবার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে হাত পরিষ্কার করা প্রয়োজন। এতে রোগী ও স্বাস্থ্যকর্মীদের মধ্যে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি কমানো যায়।

বাংলাদেশে হাত ধোয়ার সুবিধা বাড়ানো প্রয়োজন

বাংলাদেশে হাত ধোয়ার বিষয়ে সচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি সাবান ও নিরাপদ পানির সহজলভ্যতা নিশ্চিত করাও জরুরি। ইউনিসেফ ও বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর ২০২৫ সালের বহুসূচক গুচ্ছ জরিপের প্রাথমিক ফল অনুযায়ী, দেশের ৬৮.৬ শতাংশ পরিবারের বাড়িতে পানি ও সাবানসহ হাত ধোয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। অর্থাৎ উল্লেখযোগ্যসংখ্যক পরিবারের ক্ষেত্রে এই সুবিধা নিশ্চিত করা এখনও প্রয়োজন।

এ জন্য বাসাবাড়ি, বিদ্যালয়, বাজার, গণশৌচাগার ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হাত ধোয়ার উপযোগী স্থান, নিরাপদ পানি এবং সাবানের ব্যবস্থা বাড়াতে হবে।

সঠিক সময়ে সাবান দিয়ে হাত ধোয়া একটি সহজ অভ্যাস হলেও সংক্রমণ প্রতিরোধ ও জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় এর গুরুত্ব অনেক। তাই প্রতিদিনের জীবনে পরিচ্ছন্ন হাতের অভ্যাস গড়ে তোলাই হোক সবার অঙ্গীকার।

Mahfuzur Rahman

Publisher & Editor