শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬

দিল্লি গেলে কেন ঘুরে দেখবেন হুমায়ুনপুর, বিশ্বের ‘কুলেস্ট’ এলাকা

প্রকাশিত: ১১:১০, ১৭ অক্টোবর ২০২৬ | ৯

সরু রাস্তা, যানবাহনের ভিড়, ধুলাবালি আর রাস্তার পাশে ময়লার স্তূপ প্রথম দেখায় দিল্লির হুমায়ুনপুরকে খুব একটা আকর্ষণীয় মনে নাও হতে পারে। কিন্তু খাবার, ফ্যাশন ও বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতির কারণে ভারতের রাজধানীর এই এলাকাই এখন জায়গা করে নিয়েছে বিশ্বের সবচেয়ে আকর্ষণীয় পাড়াগুলোর তালিকায়।

ইন্ডিয়া টুডের এল প্রতিবেদনে এ তথ্য জানায়।

টাইম আউটের ২০২৬ সালের বিশ্বের ‘কুলেস্ট’ এলাকার তালিকায় ১৬তম স্থানে রয়েছে হুমায়ুনপুর। তালিকায় টোকিওর কোয়েঞ্জি, রোমের এসকুইলিনো ও সিউলের জংনো ৩-গার মতো এলাকাও রয়েছে। ভারতের মুম্বাইয়ের বান্দ্রা ওয়েস্টও তালিকায় ২৩তম স্থানে আছে।
 
খাবারেই আলাদা পরিচয়
দিল্লির তরুণদের কাছে হুমায়ুনপুরের অন্যতম আকর্ষণ এর খাবার। মোমো, থুকপা, নাগা থালি, সি-ফুড থেকে শুরু করে অসমিয়া ও মণিপুরি খাবার—উত্তর-পূর্ব ভারতের নানা অঞ্চলের স্বাদ পাওয়া যায় এখানকার রেস্তোরাঁগুলোতে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এলাকায় ৫০টির বেশি রেস্তোরাঁ রয়েছে। সেখানে অসম, মণিপুর, নাগাল্যান্ড, মিজোরাম ও সিকিমের খাবারের পাশাপাশি ভিয়েতনামি, কোরিয়ান ও থাই খাবারও পাওয়া যায়।

একসময় মূলত উত্তর-পূর্ব ভারতের বাসিন্দাদের খাবারের জায়গা হিসেবে পরিচিত হলেও এখন দিল্লির বিভিন্ন প্রান্তের মানুষও এসব খাবারের স্বাদ নিতে হুমায়ুনপুরে আসেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রেস্তোরাঁগুলোর ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে পড়ায় এলাকাটির জনপ্রিয়তা আরও বেড়েছে।

ফ্যাশন ও সৌন্দর্যেরও ঠিকানা
খাবারের পাশাপাশি হুমায়ুনপুর ধীরে ধীরে ফ্যাশন ও সৌন্দর্যচর্চার কেন্দ্র হিসেবেও পরিচিত হয়েছে। কোরিয়ান ধাঁচের পোশাক, স্ট্রিটওয়্যার, পার্টিওয়্যার ও থ্রিফট শপের পাশাপাশি রয়েছে নানা ধরনের জুতার দোকান।

কোরিয়ান ও জাপানি প্রসাধনী, ট্যাটু পার্লার, কারাওকে ও ফটো বুথও রয়েছে এলাকায়।

এ ছাড়া এশীয় বিভিন্ন খাবারের উপকরণ বিক্রি করা দোকানও দেখা যায়।

ফলে বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত হুমায়ুনপুরের সরু গলিতে দেখা মেলে নানা বয়সী তরুণ-তরুণীর আনাগোনা। আধুনিক পোশাক ও নতুন ধারার ফ্যাশনের সঙ্গে স্থানীয় জীবনের পুরোনো চিত্রও এখানে পাশাপাশি চোখে পড়ে।

পুরোনো-নতুনের মিশেলে আলাদা হুমায়ুনপুর
হুমায়ুনপুরের বৈশিষ্ট্য শুধু খাবার বা ফ্যাশনে নয়, এর মানুষের বৈচিত্র্যেও। এলাকার অনেক বাড়ির মালিক জাট পরিবার, যারা প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে সেখানে বসবাস করছেন। তাদের ঐতিহ্যবাহী জীবনযাপনের পাশেই গড়ে উঠেছে তরুণদের আধুনিক সংস্কৃতির জগৎ।

একদিকে আধুনিক ফ্যাশনে সজ্জিত তরুণদের ভিড়, অন্যদিকে স্থানীয় পরিবারের স্বাভাবিক জীবনযাপন—এই বৈপরীত্যই এলাকাটিকে আরও আলাদা করে তুলেছে।

জনপ্রিয়তার পাশাপাশি উদ্বেগও
তবে হুমায়ুনপুরের গল্প পুরোপুরি ইতিবাচক নয়। চলতি বছরের শুরুতে দিল্লির মালভিয়া নগরে প্রাণঘাতী অগ্নিকাণ্ডের পর আবাসিক এলাকায় বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান পরিচালনার বিরুদ্ধে অভিযান শুরু হয়। সরু রাস্তা ও অগ্নিনিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের কারণে হুমায়ুনপুরের কয়েকটি প্রতিষ্ঠানও সাময়িকভাবে বন্ধ করা হয়েছিল।

অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা, জরুরি বহির্গমন পথ ও লাইসেন্সসংক্রান্ত কিছু সমস্যা এখনো রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। স্থানীয়দের মধ্যেও ভবিষ্যতে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে।

তবু খাবার, ফ্যাশন, সংস্কৃতি ও পুরোনো-নতুন জীবনযাপনের অনন্য মিশ্রণে হুমায়ুনপুর দিল্লির এমন এক পাড়া হয়ে উঠেছে, যার জনপ্রিয়তা এখন স্থানীয় গণ্ডি পেরিয়ে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিও পেয়েছে।

Mahfuzur Rahman

Publisher & Editor