সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬

সিইসি জ্ঞানেশ কুমারের ঘুম উড়ে গেছে: রাহুল গান্ধী

প্রকাশিত: ০৭:০৪, ১২ অক্টোবর ২০২৬ | ১৬

মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার ভয়ে ভয়ে দিন কাটাচ্ছেন এবং রাতে তার ঘুম আসে না বলে সোমবার (১২ অক্টোবর) মন্তব্য করেছেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী। দলীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন,‘আমি জানি, উনিও এই সংবাদ সম্মেলন দেখছেন। তার উচিত এখন রাজসাক্ষী হয়ে যাওয়া।’

রাহুল গান্ধী বলেন, প্রধান বিচারপতি বিরোধীদের সঙ্গে দেখা করতে রাজি হননি বলে যে প্রচার চলছে, সেটা আসল বিষয় নয়। প্রধান বিচারপতি বরং তাদের পথ দেখিয়ে দিয়েছেন পিটিশন বা আবেদন জমা দিতে। সেই অনুসারে আজই বিকেলে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন জমা দেওয়া হবে।

দলমত নির্বিশেষে সবাইকে এই আন্দোলনে শামিল হওয়ার আহ্বান জানিয়ে লোকসভার বিরোধী নেতা বলেন, এটা সংবিধান রক্ষার লড়াই। দেশের গণতান্ত্রিক চরিত্র রক্ষার লড়াই। আপনাদের-আমাদের সবার অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই। যে যেভাবে পারেন, এতে শামিল হোন।

জ্ঞানেশ কুমারকে রাজসাক্ষী হওয়ার প্রস্তাব রাহুল আগেও দিয়েছিলেন। আজও তিনি বলেন, আপনি পদত্যাগ করুন। রাজসাক্ষী হয়ে যান। এটাই একমাত্র উপায়। আপনি অন্যায় করেছেন ঠিকই, কিন্তু মূল অপরাধী আপনি নন। মস্তিষ্ক আপনার নয়।

মূল অপরাধী হিসেবে রাহুল নরেন্দ্র মোদি, অমিত শাহ, অজিত দোভাল ও গৌতম আদানির নাম করেন। তাদের চাপেই সিইসি এসব কাজ করছেন বলে তার অভিযোগ। তিনি বলেন, এটা এক দিনের লড়াই নয়। দিল্লিকে দুর্গ বানিয়ে ৩০-৪০ হাজার পুলিশ রাস্তায় নামানো হয়েছে। অনেক পুলিশই ক্লান্ত। তার দাবি, পুলিশের একটা বড় অংশ চান আন্দোলন চলুক।

রাহুল আরও বলেন, দুই শতাধিক সরকারি কর্মকর্তা নিয়মিত তাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। ইডি, সিবিআই থেকে শুরু করে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারাও আছেন। সরকারের অনেক খবর তারাই দিচ্ছেন।

আন্দোলনের ধারাবাহিকতা তুলে ধরে রাহুল বলেন, প্রথমে নির্বাচন কমিশনে যেতে চেয়েছিলেন, দেওয়া হয়নি। গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পরদিন যন্তর মন্তরে যেতে চেয়েছিলেন, সেটাও হয়নি। তারপর রাজঘাটে প্রার্থনা করেছেন। এবার সুপ্রিম কোর্টে যাচ্ছেন। পুলিশের অত্যাচার ও আরএসএসের কর্মীদের রাস্তায় নামানোর ভিডিও দেখিয়ে তিনি বলেন, লড়াই কঠিন। ধৈর্য ও অধ্যবসায় দরকার।

রাহুল স্পষ্ট করে বলেন, যত দিন জ্ঞানেশ কুমার ইস্তফা না দেবেন, তত দিন আমরা থামব না। বিজেপির ভেতরে যারা এখন হিমশিম খাচ্ছেন, তাদেরও আহ্বান জানান সংবিধান ও গণতন্ত্র রক্ষায় এগিয়ে আসতে।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, পরিস্থিতি দেখে কর্মসূচি ঠিক করা হচ্ছে। আগে থেকে কোনো নির্দিষ্ট পরিকল্পনা নেই। আকাশবাণী ভবনেও তেমন কোনো আগাম সিদ্ধান্ত নিয়ে যাননি। পরিস্থিতি যেভাবে এগোবে, সেভাবেই অগ্রসর হব আমরা।

Mahfuzur Rahman

Publisher & Editor