দুপুর বা রাতে পেটপুরে খাওয়ার পরপরই শুয়ে-বসে পড়ার অভ্যাস আমাদের অনেকেরই। তবে এই বদঅভ্যাস বদলে প্রতিবার খাবারের পর মাত্র ১০ মিনিট হাঁটার অভ্যাস গঠন করলে শরীরে মিলতে পারে অবিশ্বাস্য পরিবর্তন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, খাওয়ার পর নিয়মিত অন্তত ১০ মিনিট হাঁটলে শরীরে ৭টি বড় সুফল পাওয়া যায়। চলুন, জেনে নিই সেগুলো সম্পর্কে।
রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণ: খাওয়ার পর রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা স্বাভাবিকভাবেই বাড়ে। হাঁটার ফলে শরীরের পেশিগুলো সক্রিয় হয়ে গ্লুকোজ শোষণ করে, যা রক্তে শর্করার মাত্রা প্রায় ৩০ শতাংশ পর্যন্ত কমিয়ে আনে।
ইনসুলিনের কার্যকারিতা বৃদ্ধি: খাওয়ার পর হাঁটলে বিপাকহার (মেটাবলিজম) ভালো থাকে। ফলে ইনসুলিন হরমোন রক্ত থেকে শর্করা দ্রুত কোষে পৌঁছে দিতে পারে এবং রক্তে সুগার বাড়তে দেয় না।
হজম প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত হওয়া: হাঁটার ফলে পাচন প্রক্রিয়া আরো সক্রিয় হয়ে ওঠে এবং পাকস্থলী থেকে অন্ত্রে খাবার পৌঁছানোর গতি বাড়ে। এতে হজম ভালো হয় এবং খাবার থেকে পুষ্টি উপাদান দ্রুত শোষিত হয়।
পেট ফাঁপা ও গ্যাস দূর হওয়া: অনিয়মিত খাদ্যাভ্যাস বা ভাজাপোড়া খাওয়ার কারণে সৃষ্ট ‘ব্লোটিং’ বা পেট ফাঁপার সমস্যা দূর করতে ১০ মিনিটের এই হাঁটা অত্যন্ত কার্যকারী। এটি পেটে গ্যাস জমতে দেয় না।
অ্যাসিড রিফ্লাক্সের উপশম: খাওয়ার পর গলার কাছে বুক জ্বালাভাব বা অ্যাসিডের সমস্যায় যারা ভোগেন, তারা খাওয়ার পর ১০ মিনিট হেঁটে এই অস্বস্তি থেকে সহজে মুক্তি পেতে পারেন।
হৃদযন্ত্রের সুরক্ষা ও চর্বি নিয়ন্ত্রণ: ভারী খাবার খেলে শরীরে ট্রাইগ্লিসারাইড ও কোলেস্টেরলের মাত্রা বাড়ে, যা হার্টের ক্ষতি করে। হাঁটলে শরীর ফ্যাট ভেঙে শক্তিতে রূপান্তর করে, ফলে রক্তে চর্বি জমতে পারে না এবং হৃদযন্ত্র ভালো থাকে।
গভীর ও মানসম্মত ঘুম: রাতের খাবারের পর ১০-১২ মিনিট হাঁটলে শরীরের স্নায়ু শান্ত ও শিথিল হয়। গবেষণা অনুযায়ী, দিনের বিভিন্ন সময়ে খাওয়ার পর হাঁটার অভ্যাস এবং দৈনিক সব মিলিয়ে অন্তত ৭,০০০ পা হাঁটার লক্ষ্য পূরণ করলে অনিদ্রা ও মাঝরাতে ঘুম ভাঙার সমস্যা অনেকটাই দূর হয়।
সুস্বাস্থ্যের জন্য জীবনযাত্রায় বড় কোনো পরিবর্তনের চেয়ে খাওয়ার পর এই ১০ মিনিটের ছোট অভ্যাসটিই হতে পারে সবচেয়ে কার্যকরী পথ।
Publisher & Editor