বাংলাদেশের রাজনীতির অঙ্গনে দুই ধরনের পন্থীর ভীষন দাপট। অনেকদিন থেকেই, কিন্তু অতটা বিকটভাবে দৃশ্যমান ছিল না। ইউনুস জামানা থেকে এই বৈপরীত্য উৎকট হয়ে উঠেছে। এক পন্থীরা চায় ভারত দেশটা দখল করে নিয়ে তাদেরকে কেয়ামত পর্যন্ত ক্ষমতায় রাখুক, আর এক পন্থীরা পারলে কালই দেশটাকে পূর্ব পাকিস্তান ঘোষনা করে দেয়। মাঝখান থেকে বাংলাদেশ পন্থীরা হয়ে গেছে ‘কার খালু!’ এদের কোন বেইল নাই! এদের কারও কোন কথা যদি পছন্দ না হয় ও বলে র’য়ের এজেন্ট ভারতের দালাল, ওর পক্ষে গেলে এ বানিয়ে দেয় আইএসআইয়ের চর পাকিস্তানের এজেন্ট।
বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদের ধারনা জিয়াউর রহমান প্রচলন করে গেছেন। সে হিসেবে বিএনপিকে মনে করা হয় খাঁটি বাংলাদেশ পন্থী। কিন্তু ভারত আর পাকিস্তান পন্থীদের দাপটে এই দলটি এখন কোনঠাসা। এরা ভারতপ্রীতি দেখিয়েও সুবিধা পাবে না কারন সোল এজেন্সী নিয়ে বসে আছে আওয়ামী লীগ। ভারত আওয়ামী লীগ ছাড়া আর কাউকে তাদের লোক মনে করে না। ওদিকে পাকিস্তানপ্রীতির সীলমারা এজেন্ট জামাত এবং সমমনা কিছু ইসলামী দল। যেতে হলেও এরাই ভায়া মিডিয়া!
ছয় মাসের ওপর পার হয়ে গেছে সরকারের। আমার কাছে মনে হচ্ছে না প্রবল প্রতাপশালী এই দুই পন্থীদের উর্দ্ধে উঠে বিএনপি নিজস্ব স্বকীয়তায় নিজেদেরকে প্রতিষ্ঠিত করতে পারছে। দুই পন্থীরাই দলের ভেতর ঘাপটি মেরে বসে আছে। এক পক্ষ তো ইতিমধ্যেই স্টিয়ারিং কব্জা করে ফেলেছে। ইউনুস-জামাত পলিসি থেকে সরকারকে বের হয়ে আসতে দিচ্ছে না। আর ছয় মাসের মধ্যে যদি দলটি নিজেদের রাজনীতি ষ্পস্ট করে এই দুই মেরুর রাহুগ্রাস থেকে মুক্ত হতে না পারে একসময় এদের পৃথক সত্বা হারিয়ে যাবে। আর বিএনপি নামের দলটা যদি কার্যত দুই পন্থীর কোনটার মধ্যে লীন হয়ে যায় বাংলাদেশ নামের দেশটা কতদিন স্বাধীন সত্বায় টিকে থাকতে পারে- দেখার জন্য বোধহয় খুব বেশীদিন অপেক্ষা করতে হবে না।
-
সাঈদ তারেক
সাংবাদিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক
Publisher & Editor