বয়স ৪১ ছুঁয়েছে, কিন্তু মাঠে এখনো দুর্দান্ত ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। পর্তুগিজ এই তারকা এখনো ক্যারিয়ারে ১ হাজার গোলের স্বপ্ন পূরণের লক্ষ্যে ছুটছেন। আল-নাসরের জার্সিতে নিয়মিত নিজের সেরাটা দিয়ে প্রমাণ করে চলেছেন, বয়স তার পারফরম্যান্সে বড় কোনো বাধা নয়।
আগামী ফেব্রুয়ারিতে ৪২ বছরে পা দেবেন রোনালদো। কিন্তু এখনো তার গতি কমার কোনো লক্ষণ নেই। সপ্তাহের পর সপ্তাহ দুর্দান্ত শারীরিক সক্ষমতা নিয়ে মাঠে নামছেন তিনি। তার ফিটনেস দেখে ভক্তদের পাশাপাশি মুগ্ধ বিশেষজ্ঞরাও। ফলে আবারও সামনে এসেছে পুরোনো প্রশ্ন—কীভাবে এখনো সর্বোচ্চ পর্যায়ে নিজেকে ধরে রেখেছেন রোনালদো?
স্পেনের পুষ্টিবিদ জনি ওন্দিনা জানিয়েছেন, পর্তুগিজ তারকার দুর্দান্ত ফিটনেসের পেছনে বড় কারণ রয়েছে তার খাদ্যাভ্যাসে। তবে সেই রহস্য কোনো দুর্লভ উপাদান কিংবা অলৌকিক কোনো রেসিপি নয়।
স্প্যানিশ সংবাদপত্র এএসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ওন্দিনা বলেন, রোনালদোর খাদ্যাভ্যাসের আসল রহস্য এমন একটি বিষয়, যা শুনতে খুবই সহজ। কিন্তু পেশাদার ক্রীড়াবিদ কিংবা সাধারণ মানুষ, সবার জন্যই সেটি মেনে চলা কঠিন।
ওন্দিনার মতে, রোনালদোর ফিটনেসের মূল চাবিকাঠি হলো ধারাবাহিকতা। রোনালদো যেসব খাবার ও উপাদানের ওপর নির্ভর করেন, সেগুলোর প্রায় সবই সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে। এর জন্য কোনো ব্যতিক্রমী খাবার খুঁজে বের করা বা জটিল কোনো পদ্ধতি অনুসরণ করার প্রয়োজন নেই।
এমনকি রোনালদোর খাদ্যতালিকাকে কিছুটা একঘেয়ে বলেও মনে হতে পারে বলে জানান ওন্দিনা। তবে এর বিশেষত্ব খাবারের বৈচিত্র্যে নয়, বরং সেটি নিয়মিত মেনে চলার মধ্যে। তার মতে, প্রতিশ্রুতি ও ধারাবাহিকতার এই বিষয়টিই অধিকাংশ মানুষের মধ্যে অনুপস্থিত। এমনকি অনেক পেশাদার ক্রীড়াবিদও নিয়মিতভাবে এটি ধরে রাখতে পারেন না।
ওন্দিনা বলেন, ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর খাদ্যাভ্যাসের রহস্য এমন একটি বিষয়ের ওপর নির্ভর করে, যার অভাব ৯০ শতাংশ সাধারণ মানুষ ও পেশাদার ক্রীড়াবিদের মধ্যে রয়েছে। সেটি হলো ধারাবাহিকতা।
তার মতে, রোনালদো বাড়িতে যেসব খাবার ব্যবহার করেন, সেগুলো প্রায় সবারই নাগালের মধ্যে। আসল পার্থক্য খাবারের ধরনে নয়, বরং প্রতিদিন একইভাবে খাদ্যাভ্যাস মেনে চলার ক্ষেত্রে।
স্বাস্থ্য ও ফিটনেসের ক্ষেত্রে অনেকেই দ্রুত ফল পাওয়ার আশায় নানা ধরনের বিশেষ পদ্ধতি ও ব্যতিক্রমী খাবারের সন্ধান করেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্বাস্থ্য ও ফিটনেস নিয়ে নানা পরামর্শের ছড়াছড়ির কারণে এই প্রবণতা আরও বেড়েছে বলে মনে করেন ওন্দিনা।
তার মতে, এর ফলে অনেকে স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের মৌলিক বিষয়গুলোকে উপেক্ষা করেন। অথচ এসব অভ্যাসের সুফল পেতে সময় ও নিয়মিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন। এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো সুষম খাদ্যাভ্যাস ধারাবাহিকভাবে মেনে চলা।
ওন্দিনা বলেন, আমরা প্রায়ই অলৌকিক সমাধান ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পরামর্শের ওপর নির্ভর করতে চাই। এতে ধারাবাহিকতার মৌলিক গুরুত্বকে উপেক্ষা করা হয়।
Publisher & Editor