মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

কংক্রিটের শহরে পাখির এক টুকরো স্বর্গ

প্রকাশিত: ০৬:৫৯, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১৯

শহরের ব্যস্ততা, যানজট আর কোলাহল পেরিয়ে ছাদে উঠতেই বদলে যায় পুরো পরিবেশ। চারপাশে রঙিন পাখির কলকাকলি।

ডানা মেলে উড়ে বেড়াচ্ছে বিদেশি প্রজাতির পাখি। সব মিলিয়ে মনে হবে, শহরের বুকেই গড়ে উঠেছে এক টুকরো পাখির রাজ্য।
নারায়ণগঞ্জ সদরের টানবাজার পুকুরপাড় এলাকায় গড়ে উঠেছে এমনই এক ব্যতিক্রমী জায়গা। নাম ‘সারুমা বার্ড ব্রিডিং পার্ক’।

পাখিপ্রেমীদের পাশাপাশি ভ্রমণপিপাসুদেরও আকর্ষণ করছে এই ছাদের পাখির পার্ক।
শহরের প্রায় ৮ হাজার বর্গফুট জায়গাজুড়ে পাঁচতলা ও ছয়তলা দুটি বাড়ির ছাদে গড়ে উঠেছে পার্কটি। এখানে রয়েছে প্রায় ৫০ প্রজাতির ২০০ জোড়ারও বেশি পাখি।

পার্কে দেখা মিলবে ব্লু অ্যান্ড গোল্ড ম্যাকাও, আফ্রিকান গ্রে প্যারট, রেড-লোরেড অ্যামাজন প্যারট, হার্লেকুইন ময়ূরসহ নানা প্রজাতির সৌখিন বিদেশি পাখির।

শুধু পাখি সংগ্রহ নয়, দেশের মাটিতেই বিভিন্ন উন্নত প্রজাতির পাখির সফল ব্রিডিংও করছেন উদ্যোক্তা বজলুর রশিদ সেলিম।

পার্কটির অন্যতম আকর্ষণ ম্যান্ডারিন ডাক। পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দর হাঁসের প্রজাতিগুলোর একটি হিসেবে পরিচিত এই হাঁস সাধারণত চীন, জাপান ও কোরিয়ার উপকূলীয় অঞ্চলে দেখা যায়। রঙের বৈচিত্র্য ও সৌন্দর্যের জন্য বিশ্বজুড়ে রয়েছে এর আলাদা পরিচিতি।

সারুমা বার্ড ব্রিডিং পার্কে রয়েছে প্রায় ১৫ জোড়া ম্যান্ডারিন হাঁস। পাশাপাশি রয়েছে উড ডাকসহ আরও নানা বিরল প্রজাতির হাঁস।

শহরের মধ্যে এমন পরিবেশ পেয়ে খুশি দর্শনার্থীরাও। কেউ আসছেন অবসর কাটাতে, কেউ প্রকৃতির কাছাকাছি সময় কাটাতে। পাখিদের কিচিরমিচির, ময়ূরের নাচ আর রঙিন পাখিদের উড়ে বেড়ানো—সব মিলিয়ে এখানে তৈরি হয়েছে ভিন্ন এক আবহ।

প্রতিবেশী ৫ বছরের শিশু মুয়াজ বলে, ‘বাসায় আসলে পাখি দেখতেই আসি। পাখি আমার অনেক ভালো লাগে। এখানে একটি টিয়া পাখি আছে, যেটা আমাকে নাম ধরে ডাকে।’

কলেজ শিক্ষার্থী জয়দাস প্রীতম বলেন, ‘প্রকৃতি সবারই ভালো লাগে। শহরে সময় কাটানোর মতো জায়গা কম। তাই প্রায় প্রতিদিনই এখানে আসি।’

নারায়ণগঞ্জ মহিলা কলেজের শিক্ষার্থী অসিমা তাসফিক বলেন, ‘অবসর পেলেই এখানে আসি। প্রথমবার ছাদে উঠে আমি খুব অবাক হয়েছিলাম। শহরে এমন পরিবেশ আশা করা যায় না।’

আরেক দর্শনার্থী ফখরুল ইসলাম বলেন, ‘শখ থেকে শুরু হওয়া এই উদ্যোগ এখন শুধু পাখির খামার নয়। প্রকৃতি, সৌন্দর্য ও সম্ভাবনার এক অনন্য উদাহরণ হয়ে উঠেছে এটি।’

পার্কটির মালিক বজলুর রশীদ সেলিম বলেন, প্রায় ১৮ বছর ধরে পাখি পালন করছেন তিনি। ছাত্রজীবনে শখের বসে শুরু করা কাজটি ধীরে ধীরে বার্ড ব্রিডিং পার্কে রূপ নিয়েছে।

তিনি বলেন, ‘পাখি পালন শুধু শখ নয়। ভবিষ্যতে এটি বাংলাদেশের জন্য সম্ভাবনাময় একটি শিল্প হতে পারে। এ বিষয়ে সরকারের সহযোগিতা চাই।’

ছাদে পশুপাখি পালনের এই উদ্যোগকে ইতিবাচকভাবে দেখছে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরও। নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. আব্দুল মান্নান মিয়া বলেন, পাখি মানুষের মানসিক স্বস্তি দেয়। সঠিক নিয়মে পালন করা হলে এটি নতুন উদ্যোক্তা তৈরির সুযোগও সৃষ্টি করতে পারে।

শহরের ব্যস্ত জীবনে একটু প্রশান্তি খুঁজছেন যারা, তাদের জন্য নারায়ণগঞ্জের এই ছাদের পাখির পার্ক হতে পারে ভিন্নধর্মী এক গন্তব্য।

Mahfuzur Rahman

Publisher & Editor