রাতে ঘন ঘন প্রস্রাবের বেগে ঘুম ভেঙে যাওয়া অনেকেরই পরিচিত সমস্যা। বয়স বাড়ার সঙ্গে এমনটা স্বাভাবিক—এমন ধারণা থাকলেও বিষয়টি সব সময় উপেক্ষা করার মতো নয়।
বিশেষ করে পুরুষদের ক্ষেত্রে রাতে বারবার প্রস্রাবের অন্যতম কারণ হতে পারে প্রোস্টেট বড় হয়ে যাওয়া।
হিন্দুস্তান টাইমসের এক প্রতিবেদনে ভারতের লখনৌয়ের ম্যাক্স সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালের ইউরোলজি, ইউরো-অনকোলজি ও কিডনি ট্রান্সপ্লান্ট বিভাগের প্রধান ডা. আদিত্য কে শর্মার বরাত দিয়ে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
চিকিৎসাবিজ্ঞানে রাতে বারবার প্রস্রাবের জন্য ঘুম ভেঙে যাওয়াকে ‘নকটিউরিয়া’ বলা হয়। ডা. শর্মার মতে, পুরুষদের বয়স বাড়ার সঙ্গে প্রোস্টেটের আকার বাড়তে পারে।
এ অবস্থাকে বলা হয় বিনাইন প্রোস্টেটিক হাইপারপ্লাসিয়া বা বিএইচপি। এটি ক্যানসার নয়, তবে প্রোস্টেট বড় হয়ে মূত্রনালিতে চাপ সৃষ্টি করতে পারে।
এর ফলে মূত্রথলিকে প্রস্রাব বের করতে বেশি পরিশ্রম করতে হয়। সময়ের সঙ্গে প্রস্রাবের বেগ ও ঘন ঘন প্রস্রাবের প্রবণতা বাড়তে পারে।
এমনকি ঘুমানোর আগে অতিরিক্ত পানি পান না করলেও রাতে একাধিকবার প্রস্রাবের জন্য ঘুম ভাঙতে পারে।
যেসব লক্ষণ খেয়াল করবেন
রাতে বারবার প্রস্রাবের পাশাপাশি নিচের লক্ষণগুলো দেখা দিলে প্রোস্টেটের সমস্যা রয়েছে কি না, তা পরীক্ষা করানো প্রয়োজন হতে পারে—
প্রস্রাবের ধারা আগের তুলনায় দুর্বল হয়ে যাওয়া
প্রস্রাব শুরু করতে দেরি হওয়া
প্রস্রাবের ধারা বারবার থেমে যাওয়া ও আবার শুরু হওয়া
প্রস্রাবের সময় চাপ প্রয়োগ করতে হওয়া
প্রস্রাব শেষে ফোঁটা ফোঁটা পড়া
প্রস্রাব করার পরও মূত্রথলি পুরোপুরি খালি হয়নি বলে মনে হওয়া
রাতে বারবার প্রস্রাবের অন্য কারণও আছে।
রাতে বারবার প্রস্রাব হলেই যে প্রোস্টেট বড় হয়েছে, তা নয়। অতিরিক্ত পানি পান, ক্যাফেইন বা অ্যালকোহল গ্রহণ, অতিসক্রিয় মূত্রথলি, মূত্রনালির সংক্রমণ, ডায়াবেটিস, কিছু ওষুধ এবং রাতে অতিরিক্ত প্রস্রাব তৈরি হওয়ার কারণেও এ সমস্যা হতে পারে।
ঘুমের সমস্যাও এর সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারে।
অনেক সময় অন্য কোনো কারণে ঘুম ভেঙে যাওয়ার পর ব্যক্তি প্রস্রাব করতে যান। সে ক্ষেত্রে প্রস্রাবের বেগ ঘুম ভাঙার মূল কারণ নাও হতে পারে।
কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন?
নিয়মিত রাতে প্রস্রাবের জন্য ঘুম ভাঙার পাশাপাশি প্রস্রাবের ধারা দুর্বল হয়ে যাওয়া, প্রস্রাব শুরু করতে সমস্যা, অতিরিক্ত বেগ, প্রস্রাব শেষে ফোঁটা পড়া বা মূত্রথলি পুরোপুরি খালি না হওয়ার মতো লক্ষণ থাকলে ইউরোলজিস্টের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
সমস্যার কারণ নির্ণয়ে চিকিৎসক প্রস্রাবের ধরন ও অন্যান্য উপসর্গ সম্পর্কে জানতে পারেন। প্রয়োজন অনুযায়ী প্রস্রাব ও রক্ত পরীক্ষা, আলট্রাসাউন্ড, প্রস্রাবের প্রবাহ পরীক্ষা এবং প্রোস্টেটের মূল্যায়ন করা হতে পারে।
উল্লেখ্য রাতে বারবার প্রস্রাবের সমস্যা থাকলে নিজে থেকে কারণ নির্ধারণ না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই নিরাপদ। কারণ, একই উপসর্গের পেছনে ভিন্ন ভিন্ন কারণ থাকতে পারে।
Publisher & Editor