লন্ডনে বছরের সবচেয়ে বড় কার্নিভাল। চারদিকে হাজারো রঙিন আলো, আতশবাজিতে রাঙা আকাশ, মানুষের উচ্ছ্বাস আর আনন্দে মুখর পুরো শহর।
সেই ভিড়ের মধ্যেই ছোট্ট লিলি মা-বাবার হাত শক্ত করে ধরে হাঁটছিল। চারপাশের প্রতিটি মুহূর্ত যেন তার কাছে নতুন। সে বারবার থেমে যাচ্ছিল, কখনো রঙিন বেলুনের দিকে, কখনো আলোয় সাজানো রাইডগুলোর দিকে, কখনো আবার আকাশজুড়ে ফুটে ওঠা আতশবাজির দিকে তাকিয়ে মুগ্ধ হচ্ছিল। আজ তার নবম জন্মদিন।
মা-বাবা ভেবেছিলেন, কার্নিভালই হবে তার সবচেয়ে বড় উপহার। কিন্তু তাঁরা জানতেন না, আসল উপহারটি অপেক্ষা করছিল অন্য কোথাও। কয়েক দিন আগেই লিলির চোখে অস্ত্রোপচার করা হয়েছে। জন্মান্ধ জীবনে আজই প্রথম সে পৃথিবীকে দেখতে পাচ্ছিল।
তাই কার্নিভালের প্রতিটি আলো, প্রতিটি রং, প্রতিটি হাসি তার কাছে ছিল এক অন্য রকম অনুভূতি। হঠাৎ লিলি থেমে গেল। ধীরে ধীরে সে প্রথমে বাবার মুখের দিকে, তারপর মায়ের মুখের দিকে তাকাল। তার ছোট্ট চোখ দুটি বিস্ময়ে ভরে উঠল। কাঁপা গলায় সে শুধু বলল, ‘এত দিন...তোমাদের কণ্ঠস্বরই শুনে এসেছি।
আজ প্রথমবার তোমাদের মুখ দেখলাম।’
মা আর বাবা আর নিজেকে সামলাতে পারলেন না। দুজনেই তাকে বুকে জড়িয়ে ধরলেন।
লিলি মুচকি হেসে আকাশে ফুটে ওঠা রঙিন আতশবাজির দিকে তাকাল। অন্য জন্মদিনগুলোতে অনেকে তাকে বিভিন্ন উপহার দিয়েছে। কিন্তু আজ সবচেয়ে বড় উপহার ছিল এই পৃথিবী দেখতে পারা। আজ সে প্রথমবার পৃথিবী দেখেছে। প্রথমবার রং দেখেছে। প্রথমবার নিজের মা-বাবার মুখ দেখেছে। কার্নিভালের হাজারো আলো নিভে যাবে একদিন। কিন্তু সেই রাতের আলো লিলির জীবনে কোনো দিন নিভবে না।
Publisher & Editor