ছবি: সংগৃহীত
চারজন মার্কিন নাগরিককে হত্যার ঘটনায় কিউবার সাবেক নেতা রাউল কাস্ত্রোর বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ এনেছে যুক্তরাষ্ট্র। বুধবার (২০ মে) মার্কিন বিচার বিভাগ এই চাঞ্চল্যকর অভিযোগপত্রটি জনসমক্ষে আনে।
১৯৯৬ সালে কিউবা ও ফ্লোরিডার মধ্যবর্তী আকাশসীমায় ‘ব্রাদার্স টু দ্য রেসকিউ’ নামক সংগঠনের দুটি বিমানকে গুলি করে কিউবার সামরিক বাহিনী। এতে চারজন মার্কিন নাগরিক নিহত হন। বর্তমানে ৯৪ বছর বয়সী রাউল কাস্ত্রো তখন কিউবার সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান ছিলেন। ভারপ্রাপ্ত মার্কিন অ্যাটর্নি জেনারেল টড ব্লাঞ্চ মায়ামিতে জানান, কাস্ত্রোসহ আরো পাঁচজনের বিরুদ্ধে বিমান ধ্বংস এবং চারজন মার্কিন নাগরিককে হত্যার পৃথক অভিযোগ আনা হয়েছে।
মার্কিন আদালতে এই অপরাধের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড। কাস্ত্রোর বিরুদ্ধে ইতিমধ্যে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে এবং তাকে মার্কিন আদালতে হাজির করার সব রকম চেষ্টা চালানো হবে বলে জানানো হয়েছে। আমেরিকার এই পদক্ষেপকে আইনি ভিত্তিহীন রাজনৈতিক কৌশল বলে উড়িয়ে দিয়েছেন কিউবার বর্তমান প্রেসিডেন্ট মিগেল দিয়াজ-কানেল। তার দাবি, কিউবা নিজেদের জলসীমায় সম্পূর্ণ বৈধ আত্মরক্ষার্থেই সেই পদক্ষেপ নিয়েছিল।
আমেরিকা বিমান ভূপাতিত করার ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে তথ্য বিকৃত করছে এবং এই মামলার আড়ালে কিউবার ওপর সামরিক আগ্রাসন চালানোর অজুহাত খুঁজছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন। বিশ্লেষকদের মতে, একদলীয় শাসনে থাকা কিউবাকে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংস্কারে বাধ্য করতেই ট্রাম্প প্রশাসন এই চরম চাপ সৃষ্টির কৌশল নিয়েছে। বর্তমানে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ও তেল অবরোধের কারণে কিউবায় তীব্র খাদ্য ও বিদ্যুৎ সংকট চলছে। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এই সংকটের জন্য কিউবার সামরিক নিয়ন্ত্রিত সংস্থা ‘জিএইএসএ’কে দায়ী করেছেন।
আমেরিকার মায়ামিতে বসবাসকারী কিউবান নির্বাসিত নাগরিক এবং নিহতদের পরিবারগুলো এই ঘোষণায় আনন্দ প্রকাশ করেছে।
দীর্ঘ ২৮ বছর পর এই পদক্ষেপকে তারা বিলম্বিত ন্যায়বিচার বলে স্বাগত জানিয়েছে। তবে কিউবা সরকারের পক্ষ থেকে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, মার্কিন চাপের মুখে তারা কোনোভাবেই আত্মসমর্পণ বা নতি স্বীকার করবে না।
সূত্র : বিবিসি
Publisher & Editor