রবিবার, ০৫ এপ্রিল ২০২৬

যেসব সাধারণ ভুলের কারণে বাড়ছে গাড়ির তেল খরচ

প্রকাশিত: ০৭:১১, ০৫ এপ্রিল ২০২৬ | ১১

বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি এবং সরবরাহ সংকটের প্রভাব পড়েছে দেশের বাজারেও। পেট্রোল, অকটেন ও ডিজেলের মূল্য বাড়ায় গাড়ি চালানোর খরচ বেড়েছে উল্লেখযোগ্যভাবে। এ অবস্থায় অনেকেই জ্বালানি সাশ্রয়ের উপায় খুঁজছেন। তবে অনেক ক্ষেত্রে চালকের অজান্তেই কিছু অভ্যাস গাড়ির তেল খরচ বাড়িয়ে দেয়। এসব ভুল এড়িয়ে চললে সহজেই কমানো সম্ভব জ্বালানি ব্যয়।

হঠাৎ গতি বাড়ানো ও ব্রেক করা
গাড়ি চালানোর সময় দ্রুত গতি তোলা এবং হঠাৎ ব্রেক করার প্রবণতা জ্বালানি খরচ বাড়ায়। এতে ইঞ্জিনকে অতিরিক্ত শক্তি দিতে হয় এবং ব্রেক করার সময় সেই শক্তির অপচয় ঘটে। ধীরে ধীরে গতি বাড়ানো এবং আগেভাগে ব্রেক করলে খরচ কমানো যায়।

টায়ারের সঠিক চাপ না রাখা
টায়ারে বাতাস কম থাকলে গাড়ি চালাতে বেশি শক্তি লাগে, ফলে তেলও বেশি পোড়ে। নিয়মিত টায়ারের চাপ পরীক্ষা ও সঠিক মাত্রায় রাখা মাইলেজ বাড়াতে সহায়ক।

অপ্রয়োজনীয়ভাবে ইঞ্জিন চালু রাখা
অনেকেই গাড়ি থামিয়ে রেখেও ইঞ্জিন বন্ধ করেন না। ট্রাফিক সিগন্যাল বা অপেক্ষার সময় দীর্ঘক্ষণ ইঞ্জিন চালু থাকলে অযথা জ্বালানি নষ্ট হয়। কয়েক মিনিটের বেশি থামলে ইঞ্জিন বন্ধ রাখা ভালো।

রক্ষণাবেক্ষণে অবহেলা
ইঞ্জিন, এয়ার ফিল্টার, স্পার্ক প্লাগ বা ইনজেক্টর নিয়মিত পরিষ্কার ও সার্ভিস না করলে গাড়ির কর্মক্ষমতা কমে যায়। এতে জ্বালানি খরচ বাড়ে। নির্ধারিত সময় অনুযায়ী সার্ভিস করানো জরুরি।

অতিরিক্ত ওজন বহন
গাড়িতে অপ্রয়োজনীয় মালামাল রাখলে মোট ওজন বাড়ে, ফলে ইঞ্জিনকে বেশি শক্তি খরচ করতে হয়। এতে জ্বালানির ব্যবহারও বাড়ে।

এসি ব্যবহারে অসচেতনতা
গরমে দীর্ঘ সময় এসি ব্যবহার করলে ইঞ্জিনের ওপর চাপ পড়ে এবং জ্বালানি খরচ বেড়ে যায়। প্রয়োজন অনুযায়ী এসি চালালে কিছুটা সাশ্রয় সম্ভব।

ভুল গিয়ার ব্যবহার
ম্যানুয়াল গাড়ির ক্ষেত্রে সঠিক গিয়ার নির্বাচন গুরুত্বপূর্ণ। কম গতিতে বেশি গিয়ার বা বেশি গতিতে কম গিয়ার ব্যবহার করলে ইঞ্জিনের ওপর চাপ পড়ে এবং তেল খরচ বাড়ে।

সচেতন হলেই সাশ্রয় সম্ভব
গাড়ির জ্বালানি খরচ কমাতে বড় কোনো পরিবর্তনের প্রয়োজন নেই। বরং কিছু সহজ অভ্যাস—যেমন টায়ারের চাপ ঠিক রাখা, নিয়মিত সার্ভিসিং, নিয়ন্ত্রিত গতি বজায় রাখা এবং অপ্রয়োজনে ইঞ্জিন চালু না রাখা—এসবই খরচ কমাতে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বর্তমান পরিস্থিতিতে এসব বিষয়ে সচেতনতা বাড়ালে যেমন ব্যয় কমবে, তেমনি পরিবেশের ওপর চাপও কমানো সম্ভব।

Mahfuzur Rahman

Publisher & Editor