শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

শিশুর প্রস্রাবে ইনফেকশন হলে কী করবেন

প্রকাশিত: ০৫:৫৯, ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ |

কেন প্রস্রাবে ইনফেকশন হয়?
মূত্রনালিতে ব্যাকটেরিয়ার প্রবেশ

জন্মগত কোনো সমস্যা বা মূত্রনালির সংকীর্ণতা থাকলে

মূত্রনালিতে পাথর বা টিউমার থাকলে

কীভাবে বোঝা যাবে
ঘন ঘন প্রস্রাব করতে যাওয়া অথবা প্রস্রাবের চাপ

প্রস্রাব করার সময় প্রস্রাবের রাস্তায় অথবা তলপেটে ব্যথা

প্রস্রাব করার সময় জ্বালাপোড়া বোধ

মূত্র মাঝেমধ্যে লাল হওয়া

বমি বমি ভাব অথবা বমি হওয়া

কখনো কখনো জ্বর হওয়া

অস্বস্তি, কাঁপুনি, অবসাদগ্রস্ত থাকা ইত্যাদি

প্রস্রাবে জ্বালাপোড়া হলে অথবা তলপেটে ব্যথা হলে ভয়ের কিছু নেই। কিছু রক্ত পরীক্ষা ও মূত্র পরীক্ষার মাধ্যমে সহজেই শনাক্ত করা সম্ভব। এ ক্ষেত্রে যদি ব্যাকটেরিয়াজনিত কারণে প্রস্রাবের ইনফেকশন হয়ে থাকে, তাহলে অ্যান্টিবায়োটিকের মাধ্যমেই চিকিৎসা করা সম্ভব। অ্যান্টিবায়োটিকের সঙ্গে জ্বালাপোড়া কমানোর জন্য চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ইউরিন অ্যালকালাইজার ব্যবহার করা যায়। এটি পটাশিয়াম সাইট্রেট এবং সাইট্রিক অ্যাসিড দিয়ে তৈরি, যা প্রস্রাবের পিএইচ বাড়িয়ে প্রস্রাবকে ক্ষারীয় বা অ্যালকালাইন করে এবং প্রস্রাবের ইনফেকশনজনিত অস্বস্তি কমাতে সহায়তা করে।

সময় বেঁধে ও নিয়ম করে বেশি বেশি পানি খাচ্ছে কি না লক্ষ রাখা

প্রস্রাবের বেগ হলে চেপে না রাখা

প্রস্রাব করার পর সামনের দিক থেকে পেছনের দিকে মোছা (এতে মলের সঙ্গে মিশ্রিত জীবাণু বা ব্যাকটেরিয়া প্রস্রাবের রাস্তায় চলে আসার ঝুঁকি কম থাকে)

আঁটসাঁট প্যান্ট বা পায়জামা না পরা

শরীরের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বাড়াতে প্রচুর ফলমূল ও শাকসবজি খাওয়া
শিশু প্রস্রাবে জ্বালাপোড়ার কথাটি জানালে বিষয়টি এড়িয়ে যাবেন না। বেশি করে পানি খাওয়ান, মধু ও লেবুর রস খেতে দিতে পারেন, প্যান্ট বা পায়জামা এবং অন্তর্বাস পরিচ্ছন্ন রাখুন। এ ছাড়া শিশুকে মসলাদার খাবার, কফি, চা দেওয়া থেকে বিরত থাকুন। যদি এসব ব্যবস্থা নিয়েও লক্ষণগুলো না কমে উল্টো প্রস্রাবের সঙ্গে রক্ত যায়, তলপেটে ব্যথা হয় বা জ্বর আসে, তাহলে দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

কখন শিশুকে হাসপাতালে নিতে হবে
যদি শিশুর জন্মগত মূত্রনালির কোনো সমস্যা থাকে, তাহলে নিয়মিত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

অ্যান্টিবায়োটিক সঠিকভাবে খাওয়ানোর পরও জ্বর, পেটব্যথা, জ্বালাপোড়া না কমে, তাহলে হাসপাতালে নেওয়া দরকার।

ইনফে কশন যদি কিডনি আর অন্যান্য অঙ্গে ছড়িয়ে পড়ে অথবা সেপসিস হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে, সে ক্ষেত্রে হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা করাতে হবে।

কিডনিতে পাথর অথবা অন্য কোনো সমস্যা ধরা পড়লে হাসপাতালে নিতে হবে।

Mahfuzur Rahman

Publisher & Editor