শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

১৪ বছরেও অমলিন হুমায়ুন ফরীদি

প্রকাশিত: ০২:৩৬, ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ |

সময় পেরিয়েছে ১৪ বছর। তবু বাংলা অভিনয় জগতের কিংবদন্তি হুমায়ুন ফরীদি আজও সমানভাবে জীবন্ত দর্শকের স্মৃতিতে। শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) তার মৃত্যুবার্ষিকী, ২০১২ সালের এই দিনেই না ফেরার দেশে পাড়ি জমান তিনি।

মঞ্চ, টেলিভিশন ও চলচ্চিত্র—প্রায় তিন দশক ধরে সব মাধ্যমে নিজের অনন্য অভিনয়শৈলীর ছাপ রেখে গেছেন ফরীদি।

বহুমাত্রিক চরিত্রে তার সাবলীল উপস্থিতি তাকে করে তুলেছিল অভিনয়ের এক অনন্য শক্তিমান ব্যক্তিত্বে।
হুমায়ুন ফরীদির অভিনয় জীবন শুরু হয় মঞ্চ নাটক দিয়ে। পরবর্তী সময় আতিকুল হক চৌধুরীর প্রযোজনায় ‘নিখোঁজ সংবাদ’ নাটকের মাধ্যমে টেলিভিশনে যাত্রা শুরু করেন। এরপর ‘সংশপ্তক’, ‘কোথাও কেউ নেই’, ‘সাত আসমানের সিঁড়ি’, ‘একদিন হঠাৎ’, ‘শীতের পাখি’, ‘নীল আকাশের সন্ধানে’সহ অসংখ্য নাটকে তার অভিনয় দর্শকের হৃদয়ে স্থায়ী জায়গা করে নেয়।

বিশেষ করে ‘সংশপ্তক’-এ তার অভিনীত কানকাটা রমজান চরিত্রটি আজও স্মরণীয়।
মঞ্চেও ছিল তার সমান দাপট। ‘মুনতাসীর ফ্যান্টাসি’, ‘ফণীমনসা’, ‘শকুন্তলা’, ‘কীত্তনখোলা’ ও ‘কেরামত মঙ্গল’-এর মতো নাটকে অভিনয়ের মাধ্যমে তিনি মঞ্চজগতেও নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন।

চলচ্চিত্রে তার অভিষেক ঘটে তানভীর মোকাম্মেলের ‘হুলিয়া’ দিয়ে।

পরে শহীদুল ইসলাম খোকন পরিচালিত ‘সন্ত্রাস’ ছবির মাধ্যমে বাণিজ্যিক ধারার সিনেমায় শক্ত অবস্থান তৈরি করেন। ‘ব্যাচেলর’, ‘শ্যামলছায়া’, ‘জয়যাত্রা’, ‘একাত্তরের যীশু’, ‘মায়ের মর্যাদা’ ও ‘পালাবি কোথায়’-এর মতো চলচ্চিত্রে তার অভিনয় প্রশংসিত হয়।
নায়ক কিংবা খলনায়ক— দুই ধরনের চরিত্রেই তিনি ছিলেন সমান স্বচ্ছন্দ। ‘সন্ত্রাস’ ছবির মাধ্যমে খলচরিত্রে যাত্রা শুরু করে অভিনয়ে নতুন মাত্রা যোগ করেন। ২০০৪ সালে ‘মাতৃত্ব’ ছবিতে অভিনয়ের জন্য অর্জন করেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার।

ব্যক্তিজীবনে প্রথমে মিনুকে বিয়ে করেন তিনি, এ ঘরে জন্ম নেয় কন্যা দেবযানি। পরে ঘর বাঁধেন প্রখ্যাত অভিনেত্রী সুবর্ণা মুস্তাফা-র সঙ্গে। ২০০৮ সালে তাদের বিচ্ছেদ ঘটে।

ব্যক্তিগত জীবনের উত্থান-পতন ছাপিয়ে হুমায়ুন ফরীদি আজও রয়ে গেছেন দর্শকের প্রিয় অভিনেতা হয়ে— অভিনয়ের শক্তি ও ব্যক্তিত্বের দীপ্তিতে, সময়ের সীমানা পেরিয়ে।

Mahfuzur Rahman

Publisher & Editor