শুক্রবার, ২৩ জানুয়ারি ২০২৬

শিশুর বুকে কফ জমলে কী করবেন

প্রকাশিত: ০৬:৪৬, ২৩ জানুয়ারি ২০২৬ |

শীত মৌসুমে শিশুরা বেশ ভোগে। অনেক শিশুর বুকেই এ সময় কফ জমে। এ রকম অবস্থায় শর্ষের তেল গরম করে শিশুর বুকে মালিশ করার চল রয়েছে। আদতে এ ধরনের কাজ কি শিশুর জন্য নিরাপদ? এ প্রসঙ্গে জানালেন মুন্সিগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের শিশুবিশেষজ্ঞ ও সহকারী অধ্যাপক ডা. তাসনুভা খান। তাঁর সঙ্গে কথা বলে লিখেছেন রাফিয়া আলম।

শর্ষের তেল ভালো নাকি খারাপ?
১. শর্ষের তেল বেশ ঝাঁজালো। ছোট শিশুর ত্বক সংবেদনশীল। এই তেল ছোট শিশুর কোমল ত্বকের উপযোগী নয়।
২. শ্বাসের মাধ্যমে তেলের ক্ষুদ্র কণা শিশুর শ্বাসতন্ত্রে ঢুকে যেতে পারে। শর্ষের তেলে থাকা রাসায়নিকের প্রভাবে শিশুর শ্বাসতন্ত্রের ক্ষতি হতে পারে। হতে পারে শ্বাসতন্ত্রের প্রদাহ। তা ছাড়া শর্ষের তেলে নানান রাসায়নিক মিশ্রিত থাকতে পারে। এগুলোর কারণে ক্ষতির ঝুঁকি আরও বাড়ে।
৩. তা ছাড়া গরম তেল মালিশ করে খালি গায়ে শিশুকে রোদে শুইয়ে রাখাও উচিত নয়। শীতের বাতাসে শিশুর ঠান্ডার সমস্যা বাড়ে।

ঘরোয়া সমাধান
কফের সমস্যা কমাতে শিশুকে পর্যাপ্ত তরল খাবার দিন। পর্যাপ্ত তরল খাবার গ্রহণ করা হলে আঠালো কফ সহজে বেরিয়ে যায়। ছয় মাস পেরিয়ে যাওয়া শিশুকে উষ্ণ পানীয় দিতে পারেন। আদার রস, তুলসীপাতা ও মধু থেকে উপকার মিলবে। এক বছরের কম বয়সী শিশুকে অবশ্য মধু দেওয়া উচিত নয়।

শিশুকে গরম পানির ভাপে শ্বাস নিতে দেওয়া যেতে পারে। তাতেও তার কষ্ট কমবে। তবে এ কাজে খুব সতর্ক থাকতে হবে। গরম পানি থেকে যাতে কোনো দুর্ঘটনা না ঘটে।

ঘরে হিউমিডিফায়ার ব্যবহার করতে পারেন।

শিশুর বুকে ও পিঠে তিন বেলা ১৫ থেকে ২০ মিনিট গরম কাপড় দিয়ে সেঁক দিতে পারেন। তবে সেঁক দেওয়ার জন্য শিশুকে একেবারে খালি গায়ে রাখা যাবে না। শীতের উপযোগী কাপড় দিয়ে জড়িয়ে রাখুন।

শিশুর নাক বন্ধ থাকলে নাকে নরমাল স্যালাইন ড্রপ ব্যবহার করতে পারেন। নরমাল স্যালাইন, অর্থাৎ শূন্য দশমিক ৯ শতাংশ সোডিয়াম ক্লোরাইড দ্রবণের ড্রপ ফার্মেসিতে কিনতে পাওয়া যায়।

খেয়াল রাখুন
সমস্যার তীব্রতা কম থাকলে ঘরোয়া চিকিৎসাতেই কাজ হতে পারে। কয়েক দিনের মধ্যে অবস্থার উন্নতি না হলে চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যান। তবে কিছু উপসর্গ দেখা দিলে জরুরিভাবে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। এ ক্ষেত্রে ঘরোয়া সমাধানের জন্য সময় ব্যয় করার সুযোগ নেই। এমন কিছু উপসর্গ সম্পর্কে জেনে নিন—

কফের রং গাঢ় হলুদ, সবুজ বা লালচে হওয়া।

উচ্চমাত্রার জ্বর।

শ্বাসকষ্ট বা ঘন ঘন শ্বাস নেওয়া।

শ্বাসপ্রশ্বাসের সময় অস্বাভাবিক শব্দ হওয়া কিংবা বুকের নিচের অংশ দেবে যাওয়া।

কাশতে কাশতে বেশ কয়েকবার বমি হয়ে যাওয়া।

বুকে ব্যথা।

অতিরিক্ত ক্লান্ত হয়ে পড়া, স্বাভাবিক চাঞ্চল্য একেবারেই কমে যাওয়া।

অতিরিক্ত খিটখিটে হয়ে পড়া।

তরল খাবার গিলতে না পারা।

আঙুল বা ঠোঁট নীলচে হয়ে যাওয়া।

ছোট শিশুর ক্ষেত্রে প্রতিটি শ্বাসের সঙ্গেই নাক ফুলে ওঠা।

চিকিৎসক প্রয়োজনমাফিক অ্যান্টিবায়োটিক, অ্যান্টিহিস্টামিন প্রভৃতি ওষুধ দেবেন। শিশুদের ক্ষেত্রে সঠিক ডোজে ওষুধ দেওয়াটা খুব গুরুত্বপূর্ণ। তাই নিজে থেকে ওষুধ দিতে যাবেন না। হিতে বিপরীত হতে পারে।
বুকে জমে থাকা কফ বের করার জন্য চিকিৎসক কখনো কখনো চেস্ট ফিজিওথেরাপির পরামর্শ দিতে পারেন। প্রক্রিয়াটি শিখে নিয়ে বাড়িতে নিজেরাই করাতে পারবেন।

Mahfuzur Rahman

Publisher & Editor