শুক্রবার, ২৩ জানুয়ারি ২০২৬

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বেরিয়ে গেল যুক্তরাষ্ট্র

প্রকাশিত: ০৬:০৭, ২৩ জানুয়ারি ২০২৬ |

জাতিসংঘের অন্যতম প্রধান সংস্থা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) থেকে স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) আনুষ্ঠানিকভাবে নিজেদের প্রত্যাহার করে নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এর ফলে সংস্থাটি তার অন্যতম বৃহত্তম দাতা দেশটিকে হারালো।

এক বছর আগে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই প্রত্যাহারের নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেছিলেন। করোনা মহামারির সময় সংস্থাটি অতিরিক্ত ‘চীন-ঘেঁষা’ হয়ে কাজ করেছে বলে তিনি অভিযোগ তোলেন। যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্য ও মানবসেবা বিভাগ জানিয়েছে, মহামারিতে সংস্থাটির ‘অব্যবস্থাপনা’, সংস্কারে ব্যর্থতা এবং সদস্য রাষ্ট্রগুলোর রাজনৈতিক প্রভাবের কারণেই তারা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা অবশ্য এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে। সংস্থার মহাপরিচালক তেদরোস আধানোম গেব্রেয়াসুস বলেন, এই প্রস্থান যুক্তরাষ্ট্র এবং পুরো বিশ্বের জন্যই একটি বড় ক্ষতি। পোলিও, এইচআইভি, মাতৃমৃত্যু রোধ এবং তামাক নিয়ন্ত্রণে সংস্থাটির বিশ্বব্যাপী অবদানের কথা তিনি স্মরণ করিয়ে দেন।

গত বছরের এপ্রিলে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সদস্য দেশগুলো ভবিষ্যতের মহামারি মোকাবিলায় একটি আন্তর্জাতিক চুক্তিতে সম্মত হয়, কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র তাতে যোগ দেয়নি। ঐতিহাসিকভাবে যুক্তরাষ্ট্র এই সংস্থার সবচেয়ে বড় অর্থদাতা হলেও ২০২৪ ও ২০২৫ সালের বকেয়া ফি পরিশোধ করেনি। এর ফলে সংস্থাটিতে বড় ধরনের কর্মী ছাঁটাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, প্রায় ২৬ কোটি ডলারের এই বকেয়া দেওয়ার কোনো কারণ তারা দেখছে না।

বর্তমানে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার জেনেভা সদর দপ্তরসহ বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা অফিসগুলো থেকে সব মার্কিন কর্মী ও ঠিকাদারদের সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। মার্কিন স্বাস্থ্য সচিব রবার্ট এফ কেনেডি এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এক যৌথ বিবৃতিতে বলেন, ‘‘বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা আমেরিকার অবদানকে কলঙ্কিত ও তুচ্ছজ্ঞান করেছে। তারা তাদের মূল লক্ষ্য থেকে বিচ্যুত হয়ে বারবার যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থবিরোধী কাজ করেছে।’’ এমনকি জেনেভা সদর দপ্তরে থাকা আমেরিকার পতাকাটি ফেরত না দেওয়ায় তারা অসন্তোষ প্রকাশ করেন।

যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, এখন থেকে তারা সরাসরি বিভিন্ন দেশের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের মাধ্যমে রোগব্যাধি পর্যবেক্ষণ করবে। তবে কোন কোন দেশের সঙ্গে এমন যোগাযোগ শুরু হয়েছে, তা তারা এখনো স্পষ্ট করেনি। এছাড়া পোলিও বা এইচআইভি মোকাবিলায় সংস্থাটির বদলে বিভিন্ন এনজিও এবং ধর্মীয় সংগঠনের সঙ্গে কাজ করার কথা বলা হলেও তার কোনো বিস্তারিত পরিকল্পনা দেওয়া হয়নি। এমনকি বার্ষিক ফ্লু ভ্যাকসিনের তথ্য আদান-প্রদানে যুক্তরাষ্ট্র অংশ নেবে কি না, তা নিয়েও কর্মকর্তারা নিশ্চিত নন।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এক বিবৃতিতে আশা প্রকাশ করেছে যে, যুক্তরাষ্ট্র তাদের এই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করবে। আগামী ২ থেকে ৭ ফেব্রুয়ারি সংস্থাটির বোর্ড সভায় যুক্তরাষ্ট্রের এই প্রস্থানের বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হবে।

সমালোচকদের মতে, করোনা মহামারির সময় তৎকালীন ট্রাম্প প্রশাসনের ধীরগতি এবং মাস্ক পরা ও সামাজিক দূরত্বের বিষয়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পরামর্শ না মানার কারণে যুক্তরাষ্ট্রে মৃত্যুর হার অনেক বেশি ছিল। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, জাতীয় নির্দেশনার অভাব এবং স্বাস্থ্যনীতিকে রাজনৈতিক রূপ দেওয়ায় আমেরিকার করোনা পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে উঠেছিল। সূত্র: বিবিসি

Mahfuzur Rahman

Publisher & Editor