নিউইয়র্কে বাংলাদেশ স্বাধীনতা যুদ্ধের বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সুপ্রিম কোর্টের বিশিষ্ট আইনজীবী, নিউইয়র্ক এর পরিচিত মুখ শেখ আখতার উল ইসলাম ইন্তেকাল করেছেন। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।
৪ জানুয়ারি রোববার ভোরে ইন্তেকাল করেন। নিউইয়র্কের লং আইল্যান্ডে, নিজের বাড়ির কাছেই স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে ক্যানসারের চিকিৎসা নিচ্ছিলেন। আগের রাত পর্যন্তও তিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সক্রিয় ছিলেন। রোববার সকাল সাড়ে নয়টার দিকে চিকিৎসা কেন্দ্রের এক সেবিকা ওষুধ দিতে এগিয়ে গিয়ে বুঝতে পারেন—আখতার উল ইসলাম আর নেই ।
তিনি জানতেন তাঁর শারীরিক অবস্থার কথা। জানতেন সময় ফুরিয়ে আসছে। গত কয়েক দিনের লেখালেখিতে বারবার ফুটে উঠছিল বেঁচে থাকার আকুতি, স্বজন-পরিজনের কাছে প্রার্থনার অনুরোধ। সেই লেখাগুলো এখন আর লেখা নয়—শেষ বিদায়ের চিঠি। ৭৪ বছর বয়সে তিনি রেখে গেছেন দুই ছেলে ও দুই মেয়ে। এক মেয়ে বৈবাহিক সূত্রে কানাডায়। ২০১১ সাল থেকে পরিবার নিয়ে নিউইয়র্কে বসবাস করলেও পেশা ও মাটির টানে নিয়মিত দেশে যাতায়াত করতেন।
সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলার ভাদেশ্বর, শেখপাড়া গ্রামের সম্ভ্রান্ত পরিবারের সন্তান আখতার উল ইসলাম মুক্তিযুদ্ধের পর থেকেই একজন ছাত্রনেতা হিসেবে জেলা পর্যায়ে নেতৃত্ব দিয়েছেন। ছয় ভাই ও চার বোনের মধ্যে তিনি ছিলেন জ্যেষ্ঠ।
আগ্নিঝরা যৌবনে ছাত্রলীগ ও ছাত্র ইউনিয়নের রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন শেখ আখতার উল ইসলাম। তিনি ছিলেন মুক্তিযুদ্ধ-উত্তর ক্ষুব্ধ ও অস্থির প্রজন্মের প্রতিনিধি—যাদের ভেতরে প্রশ্ন ছিল, প্রতিবাদ ছিল, দায়বদ্ধতা ছিল। জীবনের পথে তিনি শিক্ষকতা করেছেন, সরকারি চাকরি করেছেন, শেষ পর্যন্ত দেশের সর্বোচ্চ আদালত সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী হিসেবে কাজ করেছেন। সংবিধান প্রণেতা ড. কামাল হোসেনসহ সমসাময়িক অনেকের সঙ্গে ছিলেন ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত। তিনি ছিলেন লেখকও। নিজের বাড়ির পাশ দিয়ে ‘বয়ে যাওয়া কুড়া নদি’ নামক গ্রন্থে লিখে গেছেন নিজের জীবনের নানা পর্যায়ের কথা। বইয়ের নামের মতোই তাঁর জীবনও বয়ে চলেছিল—নীরবে, গভীরভাবে।
নিউইয়র্কে প্রবাসী হওয়ার পর তিনি এখানকার সামাজিক, সাংস্কৃতিক জগতের অনেকের সাথেই ঘনিষ্ঠ হয়ে ওঠেন। চিন্তাশীল, মুক্তচিন্তার অগ্রসর মানুষ ছিলেন।
মরহুমের অনুজ, যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামীলীগের সহ সভাপতি শেখ আতিকুল ইসলাম জানান, পারিবারিক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী নামাজে জানাজা ৫ জানুয়ারি সোমবার জোহরের নামাজের পর নিউইয়র্ক লং আইল্যান্ড দারুল কোরআন মসজিদে (1514 E 3rd Ave, Bay Shore, NY 11706)। অনুষ্ঠিত হওয়ার পর নিকটবর্তী মুসলিম কবরস্থানে তাঁকে সমাহিত করা হয়েছে।
শেখ আখতার উল ইসলামের মৃত্যু সংবাদ ছড়িয়ে পড়লে দেশে বিদেশে স্বজন পরিজন অনুরাগী অনুসারীদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে আসে। নিউইয়র্কস্থ জালালাবাদ এসোসিয়েশন, এম সি কলেজ এলামনাই এসোসিয়েশন, গ্লোবাল জালালাবাদ এসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট মঈনুল হক চৌধুরী হেলালসহ বিপুল সংখ্যক সংগঠন ও ব্যক্তিবিশেষ মরহুম আখতার উল ইসলামের মৃত্যুতে শোক ও তাঁর স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন। মরহুমের সন্তপ্ত পরিবারে প্রতি সমবেদনা জানিছেন তারা।
Publisher & Editor