রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬

ভীতি নয়, ভালোবাসার ছোঁয়ায় গড়ে উঠুক শিশুর ভবিষৎ

প্রকাশিত: ০৭:০৯, ১৮ অক্টোবর ২০২৬ | ১৫

আজকের ছোট্ট বুকগুলোয় যেন অদৃশ্য এক পাহাড়ের ওজন। পড়াশোনার চাপ, ভালো ফল করার চাপ; অভিভাবক আর শিক্ষকদের তর্জনীতে ঘেরা এই শব্দগুলো শিশুদের শৈশবের প্রাণখোলা হাসি কেড়ে নিচ্ছে প্রতিনিয়ত। অথচ আমরা কি কখনো থামিয়ে ভেবে দেখেছি, এই ভয় আর আশঙ্কার বীজগুলো আমাদের অজান্তেই তাদের কোমল মনে বুনে দিচ্ছি না তো? শিশুরা তো আয়নার মতো; আমরা বড়রা যেভাবে দুনিয়াকে দেখি, তারা নিজেদের অজান্তেই ঠিক সেভাবেই বিশ্বকে মাপতে শেখে।

কোনো কাজ শুরুর আগেই যখন আমরা তাকে ‘খুব কঠিন’ বা ‘অসম্ভব’ বলে ভয় দেখাই, তখন একটা ছোট্ট শিশুর কাছে সেই কাজটাই হয়ে ওঠে এক দানবীয় আতঙ্ক। কিন্তু একটু যদি দৃষ্টিভঙ্গি বদলানো যেত? একই কাজকে যদি আমরা শেখার দারুণ এক সুযোগ হিসেবে তার সামনে তুলে ধরতাম, তবে হয়তো প্রতিটি শিশুর চোখেমুখে ভয়ের বদলে ফুটে উঠত নতুন কিছু জয়ের এক অদম্য দীপ্তি।

এর মানে এই নয় যে তাদের না বলা কান্না বা বুকচাপা কষ্টগুলোকে আমরা অবহেলা করব। বরং তাদের ক্লান্ত ছোট হাত দুটো নিজের মুঠোয় ধরে পাশে বসা দরকার। বলতে হবে, ‘ভুল করেছ তো কী হয়েছে? চলো, আবার শুরু করি’ এই ভালোবাসার ছোঁয়া আর আশ্বাসের বাণীই তাদের ছোট মনে বুনে দেয় জেদ, ধৈর্য আর ঘুরে দাঁড়ানোর অবিশ্বাস্য এক শক্তি।

অবশ্য সব চাপই যে খারাপ, এমনটা ভাবলে ভুল হবে। জীবনের মাঠে একটু-আধটু লড়াই তো দরকারই। ঠিক যেমন একজন খেলোয়াড় প্রতিযোগিতার আগুনে পুড়ে নিজেকে খাঁটি সোনা করে তোলে, তেমনই কিছু কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আমাদের সোনামণিরাও আবিষ্কার করে নিজেদের সুপ্ত এমন কিছু প্রতিভা, যা তাদের নিজের কাছেও ছিল অজানা!

মা-বাবা হিসেবে আমাদের আদিম প্রবৃত্তি হলো সন্তানকে জগতের সমস্ত কষ্ট, হতাশা আর ব্যর্থতা থেকে কুসুমাস্তীর্ণ এক চাদরে ঢেকে রাখা। কিন্তু একটু খেয়াল করুন তো, তার পথের সব কাঁটা যদি আমরা আগেই সরিয়ে দিই, তবে সে বাস্তব জীবনের ঝড়-ঝাপ্টা সামলানোর পাঠ কোথায় পাবে? কম নম্বর পাওয়া, কোনো প্রতিযোগিতায় হেরে যাওয়া কিংবা মনের মতো কিছু না হওয়া, এগুলো তো জীবনেরই একেকটি অমূল্য পংক্তি!

তাই সন্তানকে শুধু চাপমুক্ত রাখলেই চলবে না, বরং তাদের হাতে তুলে দিতে হবে লড়াই করার দুরন্ত সাহস। কারণ, আমরা তাদের নিয়ে যে গল্পটা আজ বুনে দেব, কাল তারা নিজেদের ঠিক সেটাই বিশ্বাস করতে শুরু করবে। আমরা যদি সারাক্ষণ বলি. ‘কী যে চাপ! পারবি তো?’ তবে তারা গুটিয়ে যাবে। আর যদি চোখে চোখ রেখে বলি, ‘এটা তো নতুন কিছু শেখার দারুণ একটা সুযোগ, চলো না চেষ্টা করে দেখি!’ দেখবেন, ভীরু শিশুটিই কীভাবে নির্ভয়ে পা বাড়াচ্ছে বিজয়ের পানে।

অভিভাবক ও শিক্ষক হিসেবে শিশুদের কল্যাণে সুর বদলানোর এখনই সময়। উদ্বেগের চাদর সরিয়ে মনে জাগাই আত্মবিশ্বাস, আর সীমানার দেয়াল ভেঙে তাদের চোখে এঁকে দিই অসীম সম্ভাবনার এক বর্ণিল আকাশ!

সূত্র: গালফ নিউজ

Mahfuzur Rahman

Publisher & Editor