নিউইয়র্কে নিখোঁজ হওয়ার পাঁচ দিন পর বাংলাদেশি কমিউনিটির পরিচিত মুখ ও যুক্তরাষ্ট্র শ্রমিক লীগের সভাপতি কাজী আজিজুল হক খোকনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। বুধবার স্থানীয় সময় রাত সাড়ে ১০টার দিকে তাঁর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সভাপতি ড. সিদ্দিকুর রহমান।
জানা গেছে, গত শনিবার কুইন্সের কিউ গার্ডেনের বাসা থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হন আজিজুল হক খোকন। পরিবারের সদস্য ও পরিচিতজনেরা কয়েক দিন ধরে তাঁর সন্ধানে ছিলেন। পরে বুধবার রাতে তাঁর মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হয়। সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য অনুযায়ী, নিখোঁজ হওয়ার দিনই তাঁর মৃত্যু হয়।
যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মহিউদ্দিন দেওয়ান জানান, শনিবার বিকেলে কাজের উদ্দেশ্যে কিউ গার্ডেনের বাসা থেকে বের হয়েছিলেন খোকন। পরে উডহ্যাভেনের একটি বাসস্ট্যান্ড এলাকায় তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। সেখানে উপস্থিত মো. উদ্দিন নামে এক বাংলাদেশি ৯১১-এ ফোন করলে জরুরি সেবাকর্মীরা তাঁকে নিউইয়র্ক সিটির জ্যামাইকা হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
হাসপাতালে তাঁর সঙ্গে কোনো স্বজন না থাকায় এবং তাৎক্ষণিকভাবে পরিচয় নিশ্চিত করার মতো প্রয়োজনীয় তথ্য না পাওয়ায় মরদেহটি পরবর্তী প্রক্রিয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট মেডিকেল এক্সামিনার ও ফিউনারেল ব্যবস্থাপনার আওতায় নেওয়া হয়। পরে মরদেহটি ব্রুকলিনের ৫৯৯ উইনথ্রপ স্ট্রিটের সংশ্লিষ্ট ফিউনারেল ব্যবস্থাপনা কেন্দ্রে রাখা হয়। বুধবার রাত পর্যন্ত সেখানে তাঁর মরদেহ ছিল বলে জানানো হয়েছে।
মহিউদ্দিন দেওয়ান জানান, বৃহস্পতিবার সকালে আজিজুল হক খোকনের মরদেহ ব্রুকলিনের একটি ফিউনারেল হোমে নেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে তাঁর মরদেহ বাংলাদেশে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।
দীর্ঘদিন ধরে নিউইয়র্কে বসবাস করছিলেন খোকন। স্থানীয় বাংলাদেশি কমিউনিটিতে তিনি শ্রমিক লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। কর্মজীবনে তিনি খামারবাড়ি গ্রোসারি এবং নবান্ন রেস্টুরেন্টসংলগ্ন অবকাশ স্টোরে কাজ করতেন বলে পরিচিতজনেরা জানিয়েছেন।
কিউ গার্ডেনের বাসায় তিনি একাই থাকতেন। একা বসবাসের কারণে কয়েক দিন তাঁর কোনো খোঁজ না পাওয়ায় পরিচিতজনদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়। পরে তাঁকে খুঁজতে যোগাযোগ ও বিভিন্নভাবে সন্ধান শুরু করেন স্বজন ও পরিচিতজনেরা।
আজিজুল হক খোকনের গ্রামের বাড়ি বাংলাদেশের মাগুরা জেলার আলোকদিয়ায়। স্থানীয় সূত্রের বরাতে জানা গেছে, প্রায় ৩০ বছর ধরে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছিলেন। তবে তাঁর অভিবাসনসংক্রান্ত কাগজপত্র পুরোপুরি সম্পন্ন হয়নি বলেও জানা গেছে। তিনি অবিবাহিত ছিলেন এবং বাংলাদেশে তাঁর দুই ভাই রয়েছেন।
পরিচিতজনেরা জানান, খোকন শারীরিকভাবে কিছুটা অসুস্থ ছিলেন। তাঁর আকস্মিক মৃত্যুতে নিউইয়র্কের বাংলাদেশি কমিউনিটিতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
এদিকে মরদেহ শনাক্তকরণ, প্রয়োজনীয় আইনি ও ফিউনারেল আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করা এবং মরদেহ বাংলাদেশে পাঠানোর প্রক্রিয়া নিয়ে সংশ্লিষ্টরা কাজ করছেন।
Publisher & Editor