মজলুম জননেতা মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর রাজনৈতিক দর্শন, জনমুখী রাজনীতি ও শোষণবিরোধী আন্দোলনের ইতিহাস নতুন করে চর্চার আহ্বানের মধ্য দিয়ে নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত হয়েছে ষষ্ঠ মওলানা ভাসানী আন্তর্জাতিক সম্মেলন-২০২৬। সম্মেলনে বক্তারা মাওলানা ভাসানীকে বাংলাদেশের ইতিহাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে উল্লেখ করে তাঁকে রাষ্ট্রীয়ভাবে জাতীয় নেতার মর্যাদা দেওয়ার দাবি জানান।
রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কের উডসাইডের কুইন্স প্যালেসে মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী ফাউন্ডেশন ইউএসএ ইনকের উদ্যোগে এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি ও প্রধান আলোচক ছিলেন নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির শিক্ষক, লেখক ও গবেষক অধ্যাপক সলিমুল্লাহ খান। সম্মানিত অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থবিষয়ক উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। আলোচনায় অংশ নেন বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক মুখ্য সচিব সিরাজ উদ্দিন মিয়া সাথী, ভাসানী চর্চা কেন্দ্র-কলকাতার প্রতিষ্ঠাতা লেখক ও গবেষক সৌমিত্র দস্তিদার এবং ভাসানী গবেষক জুনাইদ এহসান।
ফাউন্ডেশনের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আলী ইমাম শিকদারের সভাপতিত্বে সম্মেলনের মূল পর্ব শুরু হয় পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মধ্য দিয়ে। পরে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় সংগীত পরিবেশন এবং মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনে শহীদদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। স্বাগত বক্তব্য দেন ফাউন্ডেশনের সাধারণ সম্পাদক মঈনুদ্দীন নাসের। মাওলানা ভাসানীর ওপর প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সাবেক ছাত্রনেতা মোস্তফা করিম ফরিদ।
প্রধান আলোচকের বক্তব্যে অধ্যাপক সলিমুল্লাহ খান বলেন, মাওলানা ভাসানীকে বাদ দিয়ে বাংলাদেশের পূর্ণাঙ্গ ইতিহাস লেখা সম্ভব নয়। স্বাধীনতা, স্বাধিকার ও জনগণের মুক্তির সংগ্রামের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে তাঁর ভূমিকা ছিল। কৃষক, শ্রমিক, নিপীড়িত ও বঞ্চিত মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠাকে তিনি রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে রেখেছিলেন।ডিজিটাল অভিধান খুঁজুন
তিনি বলেন, ভাসানীর রাজনৈতিক জীবন ও চিন্তাধারা কেবল স্মরণসভা বা আনুষ্ঠানিকতার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে নতুন প্রজন্মের কাছে গবেষণা ও পাঠের মাধ্যমে তুলে ধরা প্রয়োজন। তাঁর সাম্রাজ্যবাদবিরোধী অবস্থান, শোষণবিরোধী রাজনীতি এবং মানবতাবাদী চিন্তারও নতুন করে মূল্যায়ন দরকার।
ভাসানীর অসাম্প্রদায়িক রাজনৈতিক অবস্থানের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, মাওলানা ভাসানী কোনো সংকীর্ণ সাম্প্রদায়িক রাজনীতির নেতা ছিলেন না। হিন্দু-মুসলমানসহ বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষের অধিকার ও মর্যাদার প্রশ্নকে তিনি গুরুত্ব দিয়েছেন।
ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর তাঁর বক্তব্যে মাওলানা ভাসানীর রাজনৈতিক জীবন ও জনসম্পৃক্ততার বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। তিনি সরকারের বিভিন্ন কর্মসূচি ও কার্যক্রমের কথাও উল্লেখ করেন।
সম্মেলনে মাওলানা ভাসানীকে রাষ্ট্রীয়ভাবে জাতীয় নেতা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়াসহ মোট ১০ দফা রেজ্যুলেশন গ্রহণ করা হয়। বক্তারা বলেন, ভাসানীর রাজনৈতিক অবদান নিয়ে আরও গবেষণা, প্রকাশনা ও প্রাতিষ্ঠানিক চর্চা প্রয়োজন।
সম্মেলন উপলক্ষে প্রকাশিত ম্যাগাজিনের মোড়ক উন্মোচন করা হয়। কবিতা আবৃত্তি করেন সাদেক খান ও হারুন উজ জামান ভূঁইয়া। সাংস্কৃতিক পর্বে সংগীত পরিবেশন করেন মরিয়ম মারিয়া, নীলিমা শশী ও করিম হাওলাদার। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন সম্মেলন উদযাপন কমিটির সদস্যসচিব শাহাব উদ্দিন সাগর।ইসলামিক কোর্স করুন
সম্মেলনে ফাউন্ডেশনের ২০২৭–২০৩০ মেয়াদের নতুন ২৫ সদস্যের কার্যকরী কমিটি ঘোষণা করা হয়। এতে বীর মুক্তিযোদ্ধা আলী ইমাম শিকদার সভাপতি এবং সাংবাদিক শাহাব উদ্দিন সাগর সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন। আলী ইমাম শিকদার দ্বিতীয়বারের মতো সভাপতির দায়িত্ব পেলেন। বিদায়ী সাধারণ সম্পাদক মঈনুদ্দীন নাসের নতুন কমিটি ঘোষণা করেন।
কমিটির অন্যরা হলেন—সহসভাপতি মোস্তফা করিম ফরিদ ও কাজী সাখাওয়াত হোসেন আজম; যুগ্ম সম্পাদক নাজমুল আলম শ্যামল; সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম ফেরদৌস; কোষাধ্যক্ষ নূর আমিন; ওভারসিজ সম্পাদক আতাউর রহমান আতা; প্রচার, তথ্য ও প্রযুক্তি সম্পাদক তানভির করিম; মহিলা বিষয়ক সম্পাদক নার্গিস রহমান; সমাজকল্যাণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন শিপন এবং আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক সৌমিত্র দস্তিদার।
কার্যকরী সদস্যরা হলেন এম এ সাদেক, শাহ আলম দুলাল, খন্দকার ফরহাদ, মাহমুদ খান তাসের, কিউ জামান, আবদু রহিম হাওলাদার, এবিএম সালাহউদ্দিন আহমেদ, ফারুক হোসেন মজুমদার, বাসেত রহমান, বিল্লাল চৌধুরী এবং পদাধিকারবলে সদস্য মঈনুদ্দীন নাসের।জনসংখ্যার তথ্য দেখুন
সম্মেলনে জানানো হয়, সম্মেলনোত্তর কার্যকরী কমিটির সভায় উপদেষ্টা পরিষদ গঠন করা হবে। অনুষ্ঠানে প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ, সাংবাদিক, লেখক, গবেষক ও ভাসানী অনুসারীরা উপস্থিত ছিলে
Publisher & Editor