সকালে বের হওয়ার তাড়া। পোশাক ঠিক করা হয়ে গেছে, চুলও মোটামুটি গুছানো।
এবার হাতে ঘড়ি পরার পালা। কিন্তু আলমারি খুলে দেখা গেল, একটি ঘড়ি অফিসের পোশাকের সঙ্গে মানায়, অন্যটি জিনস-টি-শার্টে ভালো লাগে, আরেকটি আবার একটু সাজগোজের দিনের জন্য।
তখনই মনে হতে পারে, সব পোশাকের সঙ্গে মানিয়ে যায়—এমন একটি ঘড়ি থাকলেই তো হয়।
আসলে প্রতিটি পোশাকের জন্য আলাদা ঘড়ি রাখার প্রয়োজন নেই।
বরং এমন একটি ঘড়ি বেছে নেওয়া যায়, যেটি কাজের পোশাক, ক্যাজুয়াল সাজ, জিনস, কুর্তা কিংবা একটু আনুষ্ঠানিক পোশাক সবকিছুর সঙ্গেই সহজে মানিয়ে যায়।
তবে এমন ঘড়ি খুঁজে পাওয়া সহজ নয়। কোনো ঘড়ি দেখতে সুন্দর হলেও সেটি হয়তো অফিসের পোশাকের সঙ্গে একটু বেশি ভারী লাগে। আবার বড় ডায়ালের ঘড়ি ছোট কবজিতে বেমানান হতে পারে।
খুব ছোট বা অতিরিক্ত পাতলা নকশার ঘড়ি আবার ক্যাজুয়াল পোশাকের সঙ্গে হারিয়ে যেতে পারে।
এই জায়গাতেই কাজে আসে মিনিমালিস্ট ঘড়ি।
মিনিমালিস্ট মানেই একেবারে সাদামাটা বা ছোট ঘড়ি নয়। বরং এমন একটি নকশা, যা নিজের সৌন্দর্য ধরে রেখেও পোশাকের সঙ্গে সহজে মিশে যায়। ঘড়িটি সাজের অংশ হবে, কিন্তু পুরো সাজের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠবে না।
‘হিন্দুস্তান টাইমস’-এর এক প্রতিবেদনে এমন পাঁচটি ঘড়ির স্টাইল তুলে ধরা হয়েছে, যেগুলো বিভিন্ন ধরনের পোশাকের সঙ্গে সহজে মানিয়ে নিতে পারে।
গেস জিডব্লিউ০৩৯৯এল৩: একটু স্টাইল, কিন্তু বাড়াবাড়ি নয়
যারা একেবারে সাধারণ ঘড়ি পছন্দ করেন না, আবার খুব বেশি ঝলমলে কিছু পরতেও চান না, তাদের জন্য গেসের এই মডেলটি আকর্ষণীয় হতে পারে।
বেইজ বা শ্যাম্পেন রঙের ডায়াল এবং কালো লেদার স্ট্র্যাপের সমন্বয় ঘড়িটিকে পরিপাটি ও স্টাইলিশ করে তুলেছে। সাদা শার্ট, কালো প্যান্ট, জিনস কিংবা নিরপেক্ষ রঙের পোশাকের সঙ্গে এটি সহজেই মানিয়ে যেতে পারে। সাধারণ কুর্তার সঙ্গেও এমন ঘড়ি পরা যায়।
অফিসের ব্যস্ত দিন থেকে শুরু করে বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা—দুই ধরনের পরিবেশেই এই স্টাইলটি মানিয়ে নেওয়া সম্ভব।
তবে যারা একেবারে সরল নকশার ঘড়ি চান, তাদের কাছে এটি কিছুটা বেশি সাজানো মনে হতে পারে।
টাইমেক্স ক্লাসিকস: পুরোনো, কিন্তু কখনো পুরোনো নয়
কিছু জিনিসের সৌন্দর্য সময়ের সঙ্গে বদলায় না। গোল ডায়াল আর লেদার স্ট্র্যাপের ক্লাসিক ঘড়ি তারই উদাহরণ।
টাইমেক্স ক্লাসিকসের এই ধরনের ঘড়ি অফিসের পোশাক থেকে শুরু করে জিনস, শার্ট কিংবা একটু আনুষ্ঠানিক সাজ—সবকিছুর সঙ্গেই মানিয়ে নেওয়া যায়।
এ ধরনের ঘড়ির সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো, এটি নিয়ে খুব বেশি ভাবতে হয় না। আলমারি থেকে পোশাক বের করে হাতে ঘড়িটি পরলেই সাজ অনেকটা সম্পূর্ণ হয়ে যায়।
যারা প্রতিদিন ঘড়ি বদলাতে চান না, তাদের জন্য ক্লাসিক ডিজাইন তাই বেশ কার্যকর।
তবে যারা একটু আলাদা, আধুনিক বা নজরকাড়া নকশা খুঁজছেন, তাদের কাছে এটি কিছুটা সাধারণ মনে হতে পারে।
টাইটান ওয়ার্কওয়্যার আরবান এজ: অফিসের জন্য পরিপাটি সঙ্গী
কাজের জায়গায় পোশাকের সঙ্গে ঘড়ির সামঞ্জস্যও গুরুত্বপূর্ণ। খুব বেশি ক্যাজুয়াল ঘড়ি যেমন ফরমাল পোশাকের সঙ্গে বেমানান হতে পারে, তেমনি অতিরিক্ত জমকালো ঘড়িও প্রতিদিনের অফিসের সাজে ঠিক মানিয়ে নাও যেতে পারে।
টাইটান ওয়ার্কওয়্যার আরবান এজ সেই মাঝামাঝি জায়গাটি ধরার চেষ্টা করে। রুপালি ডায়াল ও কালো লেদার স্ট্র্যাপের সমন্বয় ঘড়িটিকে পরিপাটি ও পেশাদার চেহারা দেয়।
শার্ট, ট্রাউজার, ব্লেজার কিংবা অন্যান্য কাঠামোবদ্ধ পোশাকের সঙ্গে এটি মানাতে পারে। তুলনামূলক বড় ডায়াল হওয়ায় কবজিতে এর উপস্থিতিও স্পষ্ট।
তবে ছোট কবজির ক্ষেত্রে বড় ডায়াল কিছুটা ভারী দেখাতে পারে। তাই কেনার আগে কবজির সঙ্গে এর অনুপাতটিও ভাবা জরুরি।
ক্যাসিও ভিনটেজ এ-১৫৮ডব্লিউএ-১কিউ: একটু রেট্রো, একটু আলাদা
মিনিমালিস্ট ঘড়ি মানেই যে শুধু ক্লাসিক অ্যানালগ ঘড়ি হতে হবে, ক্যাসিওর এই মডেলটি তার ভালো উদাহরণ।
আয়তাকার ডিজিটাল ডায়াল এবং রুপালি মেটাল স্ট্র্যাপের কারণে এতে রয়েছে রেট্রো আবহ। জিনস, টি-শার্ট, ক্যাজুয়াল শার্ট কিংবা স্নিকার্সের সঙ্গে এটি বেশ স্বাভাবিক দেখাতে পারে।
যারা পোশাকে একটু আলাদা ব্যক্তিত্ব রাখতে চান, তাদের জন্য এই ঘড়ি হতে পারে ছোট্ট একটি স্টাইল স্টেটমেন্ট।
তবে আনুষ্ঠানিক পোশাকের ক্ষেত্রে এটি লেদার স্ট্র্যাপের ক্লাসিক ঘড়ির মতো সহজে মানিয়ে নাও যেতে পারে।
ফসিল হারলো: ঘড়ি যখন হয়ে ওঠে অলংকারের মতো
ঘড়ি শুধু সময় দেখার যন্ত্র নয়, অনেকের কাছে এটি সাজেরও গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ফসিল হারলো সেই দিকটিই সামনে আনে।
ছোট কেস, ক্রিম রঙের ডায়াল, গোল্ড-টোন কেস এবং বাদামি লেদার স্ট্র্যাপ—সব মিলিয়ে ঘড়িটিতে একটি নরম, পরিপাটি ও কিছুটা অলংকারের মতো আবহ তৈরি হয়েছে।
ড্রেস, স্কার্ট, ব্লাউজ কিংবা পরিপাটি অফিস পোশাকের সঙ্গে এটি সহজেই মানিয়ে যেতে পারে। যারা কবজিতে বড় ঘড়ির বদলে ছোট ও সূক্ষ্ম নকশা পছন্দ করেন, তাদের জন্য এই স্টাইলটি আকর্ষণীয় হতে পারে।
তবে যারা বড় ও চোখে পড়ার মতো ঘড়ি পছন্দ করেন, তাদের কাছে এটি কিছুটা ছোট মনে হতে পারে।
তাহলে মিনিমালিস্ট ঘড়ি বাছবেন কীভাবে?
শুধু ছবিতে সুন্দর দেখাচ্ছে বলেই ঘড়ি কেনা ঠিক নয়। নিজের পোশাক ও দৈনন্দিন জীবনযাত্রার সঙ্গে সেটি কতটা মানাবে, সেটিই আসল প্রশ্ন।
প্রথমে ভাবুন, ঘড়িটি অন্তত তিন ধরনের পোশাকের সঙ্গে পরা যাবে কি না। শুধু একটি বিশেষ পোশাকের সঙ্গে ভালো লাগলে সেটি হয়তো প্রতিদিনের ঘড়ি হওয়ার মতো ব্যবহারযোগ্য নয়।
এরপর দেখুন ঘড়ির আকার। ছোট ঘড়ি মানেই বেশি সুন্দর, এমন কোনো নিয়ম নেই। কবজির আকারের সঙ্গে ডায়াল ও কেসের অনুপাতও গুরুত্বপূর্ণ।
স্ট্র্যাপের বিষয়টিও মাথায় রাখতে হবে। লেদার স্ট্র্যাপ সাধারণত ঘড়িকে ক্লাসিক ও পরিপাটি করে তোলে। অন্যদিকে মেটাল স্ট্র্যাপে আধুনিক বা রেট্রো আবহ তৈরি হতে পারে।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, ঘড়িটি যেন পোশাকের সঙ্গে প্রতিযোগিতা না করে। ভালো মিনিমালিস্ট ঘড়ি এমন হওয়া উচিত, যা সাজকে সম্পূর্ণ করবে—কিন্তু পুরো সাজের মনোযোগ নিজের দিকে টেনে নেবে না।
সুন্দর ঘড়ি অনেক আছে। কিন্তু এমন ঘড়ি, যেটি প্রতিদিন হাতে পরতে ইচ্ছে করবে—সেটিই আসলে বেশি প্রয়োজনের।
সকালে পোশাক পরার পর যদি ঘড়ি বাছতে গিয়ে নতুন করে ভাবতে না হয়, যদি অফিসের শার্ট থেকে ছুটির দিনের জিনস—সবকিছুর সঙ্গেই সেটি স্বচ্ছন্দে মানিয়ে যায়, তাহলে সেই ঘড়িটিই হয়তো আপনার জন্য ঠিক।
কারণ শেষ পর্যন্ত সবচেয়ে ভালো ঘড়ি সেটি নয়, যেটি বাক্সে সবচেয়ে সুন্দর দেখায়। সবচেয়ে ভালো ঘড়ি হলো সেটি, যেটি আপনার জীবনের সঙ্গে সবচেয়ে সহজে মিশে যায়।
Publisher & Editor