শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সিঁড়ি দিয়ে উঠতে হাঁটুতে ব্যথা করে? জানুন সম্ভাব্য কারণ

প্রকাশিত: ০৭:০১, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ |

সিঁড়ি দিয়ে ওঠা-নামা দৈনন্দিন জীবনের স্বাভাবিক একটি কাজ। তবে এই কাজের সময় যদি নিয়মিত হাঁটুতে ব্যথা অনুভূত হয়, তাহলে বিষয়টি অবহেলা করা উচিত নয়। কারণ সিঁড়ি ব্যবহারের সময় হাঁটুর জয়েন্ট ও আশপাশের পেশিগুলোর ওপর তুলনামূলক বেশি চাপ পড়ে। বিশেষ করে সিঁড়ি বেয়ে ওপরে ওঠার সময় ব্যথা হলে হাঁটুর ভেতরে বা আশপাশে কোনো সমস্যা থাকার ইঙ্গিত হতে পারে।

সম্ভাব্য কয়েকটি কারণ হলো—

১. প্যাটেলোফেমোরাল ব্যথা

হাঁটুর সামনের অংশে ব্যথার অন্যতম সাধারণ কারণ প্যাটেলোফেমোরাল পেইন। সাধারণত হাঁটুর চারপাশে কিংবা হাঁটুর পেছনে অস্বস্তি দেখা দিতে পারে। সিঁড়ি ভাঙা, স্কোয়াট করা, হাঁটু গেড়ে বসা কিংবা দীর্ঘ সময় হাঁটু ভাঁজ করে রাখলে এই ব্যথা আরও বাড়তে পারে।

‘কারেন্ট ফিজিক্যাল মেডিসিন অ্যান্ড রিহ্যাবিলিটেশন রিপোর্ট’ জার্নালে প্রকাশিত গবেষণা অনুযায়ী, বড় ধরনের আঘাত ছাড়াও ধীরে ধীরে এই সমস্যা তৈরি হতে পারে। উরু ও নিতম্বের পেশি দুর্বল হওয়া, হঠাৎ শারীরিক পরিশ্রম বাড়ানো, পেশির নিয়ন্ত্রণে সমস্যা এবং পায়ের নড়াচড়ার কিছু ত্রুটির কারণে হাঁটুর ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হতে পারে। এর ফলে হাঁটুতে ভোঁতা ব্যথা, চাপ অনুভূতি কিংবা তীক্ষ্ণ অস্বস্তি দেখা দিতে পারে।

২. হাঁটুর অস্টিওআর্থারাইটিস

অস্টিওআর্থারাইটিসের কারণে জয়েন্টের টিস্যুতে ধীরে ধীরে পরিবর্তন আসে। এর ফলে ব্যথা, শক্ত হয়ে যাওয়া এবং হাঁটাচলায় সীমাবদ্ধতা তৈরি হতে পারে। হাঁটু এই সমস্যায় সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত জয়েন্টগুলোর একটি।

হাঁটুর অস্টিওআর্থারাইটিস থাকলে হাঁটা, সিঁড়ি ওঠা কিংবা উঁচু জায়গায় ওঠার সময় ব্যথা বাড়তে পারে। পাশাপাশি জয়েন্ট শক্ত লাগা, ফোলাভাব, স্পর্শে ব্যথা বা অস্বস্তিও হতে পারে। বয়স বাড়ার সঙ্গে ঝুঁকি বাড়লেও আগের কোনো হাঁটুর আঘাত, অতিরিক্ত ওজনসহ বিভিন্ন কারণেও এ সমস্যা দেখা দিতে পারে।

৩. উরু ও নিতম্বের পেশি দুর্বল হওয়া

হাঁটুর নড়াচড়া নিয়ন্ত্রণে শুধু হাঁটুর পেশি নয়, উরু ও নিতম্বের পেশিও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এসব পেশি শরীরের ভারসাম্য বজায় রাখতে এবং হাঁটুর ওপর পড়া চাপের একটি অংশ শোষণ করতে সাহায্য করে।

এই পেশিগুলো দুর্বল হলে বারবার হাঁটু ভাঁজ করা ও সোজা করার মতো কাজে জয়েন্টের ওপর বাড়তি চাপ পড়ে। সিঁড়ি ওঠার সময় বিষয়টি আরও স্পষ্ট হয়ে উঠতে পারে। বিশেষ করে দীর্ঘদিন কম সক্রিয় থাকার পর হঠাৎ ব্যায়াম শুরু করলে বা শারীরিক কার্যক্রম বাড়িয়ে দিলে এমন সমস্যা হতে পারে। তাই হাঁটুর ব্যথা নিয়ন্ত্রণে উরু, নিতম্ব ও হাঁটুর আশপাশের পেশি শক্তিশালী করা গুরুত্বপূর্ণ।

৪. প্যাটেলার টেন্ডনের সমস্যা

প্যাটেলার টেন্ডন হাঁটুর সামনের অংশকে শিনের হাড়ের সঙ্গে যুক্ত করে। এই টেন্ডনের ওপর দীর্ঘদিন ধরে বারবার চাপ পড়লে প্যাটেলার টেন্ডিনোপ্যাথি হতে পারে, যা অনেক সময় ‘জাম্পার্স নি’ নামেও পরিচিত।

এ ক্ষেত্রে সাধারণত হাঁটুর ঠিক নিচে ব্যথা অনুভূত হয়। সিঁড়ি ওঠা, দৌড়ানো বা লাফানোর মতো কাজে হাঁটুর ওপর বারবার চাপ পড়লে ব্যথা আরও তীব্র হতে পারে। যাদের নিয়মিত এমন ধরনের শারীরিক কার্যক্রম করতে হয়, তাদের মধ্যে এ সমস্যা তুলনামূলক বেশি দেখা যায়।

৫. হঠাৎ শারীরিক পরিশ্রম বা ব্যায়াম বাড়ানো

হাঁটুর ব্যথার আরেকটি কারণ হতে পারে হঠাৎ করে শারীরিক কার্যক্রমের মাত্রা বাড়িয়ে দেওয়া। নতুন ব্যায়াম শুরু করা, আগের তুলনায় বেশি হাঁটা বা দৌড়ানো, ধাপভিত্তিক ব্যায়াম করা কিংবা হঠাৎ বেশি সিঁড়ি ব্যবহার—এসব কারণে হাঁটুর ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়তে পারে।

এর ফলে হাঁটুর আশপাশের টিস্যুতে প্রদাহ তৈরি হয়ে ব্যথা দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে হঠাৎ কার্যক্রমের মাত্রা পরিবর্তন হলে প্যাটেলোফেমোরাল ব্যথার ঝুঁকি বাড়তে পারে। তাই ব্যায়াম বা শারীরিক পরিশ্রম ধীরে ধীরে বাড়ানো এবং শরীরকে পর্যাপ্ত বিশ্রাম দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।

Mahfuzur Rahman

Publisher & Editor