বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ট্যাবলেট খেলেই নির্মূল হবে স্তন ক্যানসার! বাজারে আসছে নতুন ওষুধ

প্রকাশিত: ০৭:১১, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ |

স্তন ক্যানসারের চিকিৎসায় নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলেছে। জটিল অস্ত্রোপচার কিংবা কেমোথেরাপি ও রেডিওথেরাপির পরিবর্তে নির্দিষ্ট ধরনের স্তন ক্যানসারের চিকিৎসায় মুখে খাওয়ার ওষুধ ব্যবহারের অনুমোদন দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসন (এফডিএ)।

ওষুধটির নাম ‘ক্যামিজেস্ট্র্যান্ট’। অ্যাস্ট্রাজেনেকার তৈরি এ ওষুধটি ‘ইটক্যামা’ নামে বাজারজাত করা হবে। স্তন ক্যানসারের চিকিৎসায় মুখে খাওয়ার এ ধরনের ওষুধের অনুমোদনকে চিকিৎসাবিজ্ঞানে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।

গবেষকদের মতে, স্তন ক্যানসারের কিছু কোষ দ্রুত বিভাজিত হয়ে সংখ্যায় বাড়তে পারে। নতুন ওষুধটি শরীরে ইস্ট্রোজেনের প্রভাব বাধাগ্রস্ত করার মাধ্যমে ক্যানসার কোষের বৃদ্ধি ও বিভাজন ধীর করতে কাজ করবে। এর ফলে নির্দিষ্ট রোগীদের ক্ষেত্রে ক্যানসারের অগ্রগতি নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হতে পারে।

এফডিএর তথ্য অনুযায়ী, ওষুধটি সাধারণত দিনে একবার ৭৫ মিলিগ্রাম করে খাওয়ার জন্য অনুমোদিত হয়েছে। তবে রোগীর শারীরিক অবস্থা, ক্যানসারের ধরন ও চিকিৎসার পরিকল্পনা অনুযায়ী ওষুধের ব্যবহার ও মাত্রা চিকিৎসক নির্ধারণ করবেন।

কোন ধরনের ক্যানসারে কাজ করবে?

স্তন ক্যানসারের চিকিৎসায় হরমোন রিসেপ্টর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বিশেষ করে হরমোন-নির্ভর স্তন ক্যানসারের ক্ষেত্রে ইস্ট্রোজেনের প্রভাব ক্যানসার কোষের বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখতে পারে।

ক্যামিজেস্ট্র্যান্ট শরীরে ইস্ট্রোজেন রিসেপ্টরকে লক্ষ্য করে কাজ করে। ফলে ইস্ট্রোজেনের মাধ্যমে ক্যানসার কোষের বৃদ্ধির প্রক্রিয়ায় বাধা সৃষ্টি হয়। গবেষকদের আশা, নির্দিষ্ট ধরনের হরমোন-নির্ভর স্তন ক্যানসারে এ ওষুধ চিকিৎসার নতুন বিকল্প তৈরি করবে।

স্তন ক্যানসার চিকিৎসার পরও কয়েক বছর পর রোগ ফিরে আসার আশঙ্কা থাকে। বিশেষ করে কিছু রোগীর ক্ষেত্রে ক্যানসার কোষ শরীরের অন্য অংশে ছড়িয়ে পড়তে পারে। এ কারণে চিকিৎসার পরও দীর্ঘমেয়াদি নজরদারি ও প্রয়োজন অনুযায়ী ওষুধ চালিয়ে যাওয়া গুরুত্বপূর্ণ।

নতুন ওষুধটি নির্দিষ্ট রোগীদের ক্ষেত্রে ক্যানসার ফিরে আসা বা রোগের অগ্রগতি ঠেকাতে ভূমিকা রাখতে পারে বলে গবেষণায় আশা করা হচ্ছে। তবে এটি সব ধরনের স্তন ক্যানসারের চিকিৎসা নয় এবং ‘ট্যাবলেট খেলেই স্তন ক্যানসার নির্মূল’—এমন দাবি সঠিক নয়।

চিকিৎসকেরা বলছেন, স্তন ক্যানসার দ্রুত শনাক্ত করা গেলে অনেক ক্ষেত্রেই সফলভাবে চিকিৎসা করা সম্ভব। রোগের ধরন, পর্যায়, হরমোন রিসেপ্টরের অবস্থা এবং রোগীর সামগ্রিক শারীরিক অবস্থার ওপর নির্ভর করে অস্ত্রোপচার, কেমোথেরাপি, রেডিওথেরাপি, হরমোন থেরাপি কিংবা লক্ষ্যভিত্তিক ওষুধের মতো বিভিন্ন চিকিৎসা পদ্ধতি বেছে নেওয়া হয়। নতুন এই ওষুধও নির্দিষ্ট রোগীদের জন্য সেই চিকিৎসা ব্যবস্থার একটি সম্ভাব্য নতুন বিকল্প।

Mahfuzur Rahman

Publisher & Editor