ফ্রি-কিক থেকে বাঁ পায়ের দুর্দান্ত শটে বল জালে জড়িয়েছেন লামিন ইয়ামাল। তার নিখুঁত শটে ফেইনুর্ডের রক্ষণভাগ যেমন হতভম্ব হয়েছে, তেমনি কিছু করার ছিল না গোলরক্ষক টিআর্ক আর্নেস্টেরও। গোল করার পর উচ্ছ্বাস ধরে রাখতে পারেননি স্প্যানিশ তারকা, ক্যামেরার দিকে কিছু একটা ছুড়ে উদযাপন করেছেন তিনি। ইয়ামালের এমন পারফরম্যান্সে মুগ্ধ বার্সেলোনা কোচ হ্যান্সি ফ্লিকও।
চ্যাম্পিয়ন্স লিগের লিগ পর্বে গতকাল ক্যাম্প ন্যুতে ফেইনুর্ডকে রীতিমতো উড়িয়ে দিয়েছে বার্সেলোনা। ৫-১ গোলের বড় জয়ের ম্যাচে গোল করার পাশাপাশি সতীর্থদের দিয়েও গোল করিয়েছেন ইয়ামাল। বিশেষ করে ম্যাচের ৭৭ মিনিটে তার নেওয়া দুর্দান্ত ফ্রি-কিকটি নজর কেড়েছে সবার। ম্যাচের শেষদিকে গ্যাব্রিয়েল জেসুসকে দিয়ে গোল করিয়েও দলের ব্যবধান বাড়াতে ভূমিকা রাখেন তিনি।
ইয়ামালের দুর্দান্ত ফর্মের পর স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠেছে, এবার কি ব্যালন ডি’অরের অন্যতম যোগ্য দাবিদার তিনি? ফেইনুর্ডের বিপক্ষে জয়ের পর সংবাদ সম্মেলনে ফ্লিকের কাছে এমন প্রশ্ন করা হলে বার্সা কোচ ইয়ামালের প্রশংসায় পঞ্চমুখ হন।
ফ্লিক বলেন, ‘অবশ্যই সে আমার খেলোয়াড়। বার্সেলোনার একজন খেলোয়াড়। তার ব্যালন ডি’অর জেতার যোগ্যতা আছে। আমার কাছে এটা দারুণ ব্যাপার।’
বার্সেলোনার হয়ে ইতোমধ্যে তিনটি লা লিগা, দুটি স্প্যানিশ সুপার কাপ ও একটি কোপা দেল রে জিতেছেন ইয়ামাল। স্পেনের জাতীয় দলের হয়েও দুটি শিরোপা জয়ের স্বাদ পেয়েছেন তিনি। ২০২৪ সালের ইউরো জয়ের পর গত জুলাইয়ে নিউজার্সিতে বিশ্বকাপও জিতেছেন। স্পেনের ২০২৬ বিশ্বকাপ জয়ে একটি গোল ও একটি অ্যাসিস্টও ছিল তার।
চ্যাম্পিয়ন্স লিগেও নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়ে চলেছেন ১৯ বছর বয়সি এই তারকা। ইউরোপের ক্লাব ফুটবলের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ প্রতিযোগিতায় ইতোমধ্যেই তার গোলসংখ্যা ১২।
ফেইনুর্ডের বিপক্ষে বার্সার প্রথম গোলেও ছিল ইয়ামালের অবদান। ম্যাচের মাত্র ৩ মিনিটে তার অ্যাসিস্ট থেকে গোল করেন রাফিনিয়া। এরপর ম্যাচের শেষ দিকে আরও দুটি গোলে সরাসরি অবদান রাখেন তিনি। ৭৭ মিনিটে নিজেই করেন চোখধাঁধানো ফ্রি-কিক গোল। আট মিনিট পর ইয়ামালের ভাসানো বলে মাথা ছুঁইয়ে লক্ষ্যভেদ করেন গ্যাব্রিয়েল জেসুস।
ইয়ামালের প্রতিভায় মুগ্ধ ফ্লিক বলেন, ‘প্রত্যেক ম্যাচেই আপনি দেখতে পারেন, সে কতটা দুর্দান্ত। তার মতো প্রতিভা আর কারও নেই।’
ফেইনুর্ডের বিপক্ষে ৫-১ গোলের জয়ে বার্সার হয়ে জোড়া গোল করেন রাফিনিয়া। অন্য গোলগুলো করেন করিম আদেয়েমি, ইয়ামাল ও গ্যাব্রিয়েল জেসুস। ফেইনুর্ডের একমাত্র গোলটি করেন মিডফিল্ডার স্যাম স্টেইন, যাকে গোলে সহায়তা করেন গনসালো বোর্জেস।
এই ম্যাচে আরও একটি ব্যক্তিগত মাইলফলক স্পর্শ করেছেন ইয়ামাল। মাত্র ১৯ বছর ৫৮ দিন বয়সেই বার্সেলোনার জার্সিতে ১০০-এর বেশি গোলে সরাসরি অবদান রাখার কীর্তি গড়েছেন তিনি। ক্লাবটির হয়ে এখন পর্যন্ত ১৫৬ ম্যাচে ৫৪ গোল করার পাশাপাশি সতীর্থদের দিয়ে করিয়েছেন আরও ৫৪টি গোল।
Publisher & Editor