বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

হার্ট অ্যাটাকের এই নীরব সতর্কসংকেত অবহেলা করলেই বিপদ

প্রকাশিত: ০৭:২৭, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১০

হার্ট অ্যাটাক বলতেই মনে হয় হঠাৎ অসুস্থতা। তবে অনেক সময় শরীর আগে থেকে সংকেত দেয়।

তবে নারীদের ক্ষেত্রে হৃদরোগের উপসর্গ অনেক সময় এতটা স্পষ্ট নাও হতে পারে। বুক ব্যথার পরিবর্তে অস্বাভাবিক ক্লান্তি, শ্বাসকষ্ট, বমিভাব কিংবা ঘুমের সমস্যার মতো তুলনামূলক কম পরিচিত কিছু লক্ষণও হৃদযন্ত্রের সমস্যার আগাম সতর্কসংকেত হতে পারে।
এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নারীদের মধ্যে হার্ট অ্যাটাকের কয়েক সপ্তাহ আগেও অস্বাভাবিক ও ব্যাখ্যাতীত ক্লান্তি দেখা দিতে পারে। অনেক নারী এই উপসর্গকে দৈনন্দিন ব্যস্ততা, মানসিক চাপ, বয়স, মেনোপজ বা ঘুমের সমস্যার সঙ্গে মিলিয়ে দেখেন।

ফলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে দেরি হতে পারে।
কেন নারীদের হার্ট অ্যাটাকের লক্ষণ অনেক সময় ধরা পড়ে না
নারীদের হার্ট অ্যাটাকের উপসর্গ সবসময় পুরুষদের মতো একই ধরনের হয় না। পুরুষদের ক্ষেত্রে তীব্র বুকব্যথা বা বুকে চাপের অনুভূতি বেশি পরিচিত হলেও নারীদের ক্ষেত্রে তুলনামূলক সূক্ষ্ম কিছু লক্ষণ দেখা দিতে পারে। এসব উপসর্গকে অনেক সময় গ্যাসের সমস্যা, উদ্বেগ, অতিরিক্ত কাজের চাপ বা সাধারণ ক্লান্তি হিসেবে ধরে নেওয়া হয়।

এর ফলে হৃদরোগ শনাক্ত করতে দেরি হতে পারে।
যে নীরব  লক্ষণটি উপেক্ষা করা যাবে না
নারীদের ক্ষেত্রে অস্বাভাবিক ক্লান্তিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কসংকেত হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। স্বাভাবিক কাজকর্মের পর যে ধরনের ক্লান্তি হওয়ার কথা নয়, কিংবা পর্যাপ্ত বিশ্রামের পরও যদি অস্বাভাবিক দুর্বলতা ও ক্লান্তি থেকে যায়, তাহলে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন। তবে শুধু ক্লান্তি হলেই যে হার্ট অ্যাটাক হচ্ছে, এমন নয়। ক্লান্তির পেছনে আরও অনেক কারণ থাকতে পারে।

অন্যান্য উপসর্গের সঙ্গে এটি দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়া গুরুত্বপূর্ণ।
আরো যেসব লক্ষণ দেখা দিতে পারে : নারীদের হার্ট অ্যাটাকের সম্ভাব্য সতর্কসংকেতগুলোর মধ্যে রয়েছে—

শ্বাসকষ্ট বা হঠাৎ হাঁপিয়ে যাওয়া
বুকে চাপ, অস্বস্তি বা ভারী অনুভূতি
চোয়াল, ঘাড়, কাঁধ, পিঠ বা হাতে ব্যথা
মাথা ঘোরা বা দুর্বল লাগা
ঠান্ডা ঘাম
বমিভাব বা বদহজমের মতো অনুভূতি
ঘুমের ধরনে অস্বাভাবিক পরিবর্তন
অস্বাভাবিক ও কারণহীন ক্লান্তি
সব উপসর্গ একসঙ্গে দেখা যাবে এমন নয়। ব্যক্তিভেদে লক্ষণ ভিন্ন হতে পারে।

কারা বেশি ঝুঁকিতে : নারীদের হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি বাড়াতে পারে—

উচ্চ রক্তচাপ
ডায়াবেটিস
উচ্চ কোলেস্টেরল
অতিরিক্ত ওজন বা স্থূলতা
ধূমপান
শারীরিক পরিশ্রমের অভাব
পরিবারে হৃদ্‌রোগের ইতিহাস
মেনোপজ
অতিরিক্ত ও দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপ
অতিরিক্ত লবণ ও প্রক্রিয়াজাত খাবার গ্রহণ
হঠাৎ বুকের অস্বস্তি বা চাপের সঙ্গে শ্বাসকষ্ট, ঠান্ডা ঘাম, মাথা ঘোরা, বমিভাব কিংবা ব্যথা চোয়াল, ঘাড়, পিঠ বা হাতে ছড়িয়ে পড়লে অপেক্ষা না করে জরুরি চিকিৎসা নেয়া উচিত।বিশেষ করে উপসর্গ কয়েক মিনিটের বেশি স্থায়ী হলে বা ক্রমশ বাড়তে থাকলে দ্রুত হাসপাতালে যাওয়া জরুরি। নারীদের ক্ষেত্রে উপসর্গকে শুধু গ্যাস, স্ট্রেস বা ক্লান্তি মনে করে অবহেলা করা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।

Mahfuzur Rahman

Publisher & Editor