বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব হিসেবে রুহুল কবীর রিজভীকে মনোনীত করায় শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সংগঠন ইউনিভার্সিটি টিচার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ইউট্যাব)।
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) এক শুভেচ্ছা বার্তায় সংগঠনের প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক এ. বি. এম ওবায়দুল ইসলাম ও মহাসচিব অধ্যাপক মোর্শেদ হাসান বলেন, স্বৈরাচার ও ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে রাজপথের আপসহীন সংগ্রামের প্রতীক রুহুল কবীর রিজভী।
দেশের মানুষের ভোটাধিকার ও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলন করতে গিয়ে তিনি বারবার মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে এসেছেন। তার মতো একজন প্রাজ্ঞ ও পরীক্ষিত রাজনীতিবিদকে বিএনপির মতো বৃহৎ রাজনৈতিক দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব হিসেবে মনোনীত করায় ইউট্যাবের কার্যনির্বাহী কমিটি ও সব সদস্যের পক্ষ থেকে তাকে আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভকামনা জানাই। তারা বলেন, রাজনৈতিক জীবনের শুরুতে উচ্চমাধ্যমিক সম্পন্ন করার পর রুহুল কবীর রিজভী বামপন্থী বিপ্লবী ছাত্র ইউনিয়নের মাধ্যমে ছাত্ররাজনীতিতে প্রবেশ করেন। পরে তিনি সংগঠনটির রাজশাহী সরকারি কলেজ শাখার সাধারণ সম্পাদক হন।
পরবর্তীকালে ছাত্রদল প্রতিষ্ঠিত হলে তিনি জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলে যোগ দেন এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের প্রচার সম্পাদকের দায়িত্ব পান। পরবর্তী সময়ে তিনি বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতির দায়িত্বও পালন করেন।
রুহুল কবীর রিজভী ১৯৮৯ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু) নির্বাচনে সহসভাপতি (ভিপি) নির্বাচিত হন এবং ১৯৯০ সাল পর্যন্ত এ দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৬ সালের ১৯ মার্চ বিএনপির ষষ্ঠ জাতীয় সম্মেলনে তিনি সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব নির্বাচিত হন।
তিনি ২০২৬ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্যসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। একই বছরের ১৫ আগস্ট তিনি দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য মনোনীত হন। ইউট্যাব নেতারা বলেন, রুহুল কবীর রিজভী বাংলাদেশের ছাত্র ও জাতীয় রাজনীতির এক উজ্জ্বল ও অনুপ্রেরণাদায়ী নাম। আশির দশকের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে রাকসুর ভিপি হিসেবে ছাত্র আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়ার মধ্য দিয়ে তিনি রাজপথের একজন সাহসী সৈনিক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন। পরবর্তীকালে দলের সংকটময় ও কঠিন রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অবস্থান নিয়ে গণমাধ্যমের মাধ্যমে দেশবাসীর কাছে সত্য ও ন্যায়ের বার্তা পৌঁছে দিতে তিনি যেভাবে আত্মনিয়োগ করেছিলেন, তা বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক বিরল দৃষ্টান্ত।
তারা আরো বলেন, রাজপথের লড়াই-সংগ্রাম করতে গিয়ে বহুবার কারাবরণ, শারীরিক নির্যাতন ও নানা প্রতিকূলতা সহ্য করেও তিনি কখনো জাতীয়তাবাদের আদর্শ ও নীতি থেকে বিচ্যুত হননি। তার দীর্ঘ ত্যাগ, সততা ও অবিচল সাহসিকতার প্রতি সম্মান জানিয়ে দল যে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে, তা তৃণমূলের নেতাকর্মীদের পাশাপাশি শিক্ষাবিদ ও বুদ্ধিজীবী সমাজকেও অনুপ্রাণিত করেছে।
ইউট্যাবের প্রেসিডেন্ট ও মহাসচিব বলেন, আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, রুহুল কবীর রিজভীর প্রজ্ঞাবান ও সুসংগঠিত নেতৃত্ব আগামী দিনে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার, মানুষের মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং একটি সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনে বিএনপিকে নতুন গতি দেবে। ইউট্যাব পরিবার পরম করুণাময় মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের কাছে রুহুল কবীর রিজভীর দীর্ঘায়ু, সুস্বাস্থ্য এবং নতুন এই গুরুদায়িত্ব পালনে সার্বিক সাফল্য কামনা করছে।
Publisher & Editor