সোমবার, ১০ আগস্ট ২০২৬

বহুবার রিজেক্ট হওয়া সেই বর্ণিতা এখন নায়িকা

প্রকাশিত: ০৮:০৯, ০৯ আগস্ট ২০২৬ | ১১

প্রথমবারের মত ওয়েব ফিল্মে অভিনয় করছেন। কেন্দ্রীয় চরিত্রে এবারই অভিষেক হতে চললেও অভিনয়ে তিনি নতুন নন।

শিশুশিল্পী হিসেবে কাজ করেছেন বহু বিজ্ঞাপন, নাটক এমনকি সিনেমাতেও। তবে সুন্দরী প্রতিযোগিতা থেকে বের হবার পর আগামীর এই যাত্রাকে একেবারে নতুন শুরু হিসেবেই দেখতে চান। বলছিলাম এবারের লাক্স সুপারস্টার চ্যাম্পিয়ন বিদুষী বর্ণিতার কথা।তাঁর সেই নতুন শুরুর গল্পই শুনলেন ইমরুল নূর।

ওয়েবে নতুন অধ্যায়

প্রথমবারের মতো ওয়েব ফিল্মে অভিনয় করছেন তিনি। শিহাব শাহীন পরিচালিত ‘ক্যাফে আমব্রেলা’য় ‘নিউলি ম্যারেড’ গল্পে কেন্দ্রীয় চরিত্রে দেখা যাবে তাঁকে। বিপরীতে রয়েছেন জনপ্রিয় অভিনেতা তৌসিফ মাহবুব। 

অভিনয়ের নতুন এই অধ্যায় নিয়ে বেশ উচ্ছ্বসিত বর্ণিতা বলেন, ‘প্রথমবারের মতো ওয়েব ফিল্মে অভিনয় করছি তাও আবার শিহাব শাহীন স্যারের নির্দেশনায়।

সত্যি বলতে আমি অনেক উচ্ছ্বসিত, একইসঙ্গে আনন্দিত। প্রায় দুই মাসের মতো রিহার্সেল করেছি, তারপর শুটিংয়ে অংশ নিয়েছি। এটা আমার জন্য অনেক কিছু। কারণ, হয়তো লাক্সের প্লাটফর্ম থেকে এমন সম্ভাবনা নিয়ে না বের হলে এরকম সুযোগ পেতাম না। রিহার্সেল থেকে শুরু করে শুটিংয়ের প্রতিটা মুহূর্ত উপভোগ করছি।

নানান কিছু শিখছি। খুবই ভালো লাগছে আমার কাছে। আমার প্রায় নব্বই ভাগ অংশের শুটিং শেষ। আর একদিন শুট করলেই শেষ হয়ে যাবে।’
No photo description available.

তৌসিফ মাহবুবের সঙ্গে জুটি 

প্রথম ওয়েব ফিল্মেই সহশিল্পী হিসেবে তৌসিফ মাহবুবকে পাওয়া বর্ণিতার জন্য বাড়তি আনন্দের। শুধু এই কাজেই নয়, সামনে আরও কয়েকটি নাটকেও তাঁদের একসঙ্গে দেখা যেতে পারে বলে জানা গেছে। ফলে প্রথম কাজের অভিজ্ঞতাও হয়ে উঠেছে শেখার বড় সুযোগ।

বর্ণিতা বলেন, ‘আমি খুবই ভাগ্যবতী যে, প্রথম কাজেই সহশিল্পী হিসেবে তৌসিফ ভাইয়ার মত একজনকে পেয়েছি। ওয়েব ফিল্মের শুটিং করতে গিয়ে প্রতিটা সময়েই উনার দারুণ সহযোগিতা পেয়েছি। আমার ভুল-ত্রুটিগুলো ধরিয়ে দিয়ে কোন সংলাপটা কীভাবে দিলে ভালো হবে কিংবা কোন কাজটা কীভাবে করতে হবে-তার অনেক কিছুই হাতে ধরে শিখিয়ে দিচ্ছেন। উনি উনার নিজের অংশের চেয়ে আমার অংশটুকু কীভাবে আরও বেটার পারফর্ম করা যায়, সেসব পরামর্শ দিচ্ছেন। সত্যি বলতে, উনি ভীষণ আন্তরিক এবং সহযোগিতাপরায়ণ।’

এরপর বললেন, ‘এই ওয়েব ফিল্মটি ছাড়াও সামনে ভাইয়ার সঙ্গে কাজের কথা চলছে। এটাতেও আমি ভীষণ খুশি।’

শিশুশিল্পী থেকে নায়িকা

বর্ণিতার অভিনয়জীবনের শুরুটা আজ থেকে নয়। মাত্র তিন বছর বয়সেই ক্যামেরার সামনে দাঁড়িয়েছিলেন তিনি। ২০০৯ সালে প্রথম শিশুশিল্পী হিসেবে একটি বিজ্ঞাপনে দেখা যায় তাঁকে। এরপর ২০১৯ সাল পর্যন্ত অসংখ্য বিজ্ঞাপনে কাজ করেছেন। পাশাপাশি অভিনয় করেছেন নাটকেও। নাসির উদ্দীন ইউসুফ পরিচালিত ‘গেরিলা’ সিনেমাতেও অভিনয় করেছেন তিনি, যেখানে তাঁর চরিত্রের নাম ছিল শাওন।

শৈশবের সেই দিনগুলোর কথা মনে করে বর্ণিতা বলেন, ‘আমি যখন খুব ছোট, তিন বছর বয়স হবে; তখন থেকেই আমি শোবিজে কাজ করছি। অনেকগুলো কাজের নাম হয়তো মনেও নেই, তবে সেগুলোর বেশিরভাগই ছিল জনপ্রিয়। সেখান থেকে এখন কেন্দ্রীয় চরিত্রে অর্থাৎ নায়িকা হিসেবে অভিনয়ের সুযোগ পেয়েছি, এর জন্য কৃতজ্ঞতা।’

No photo description available.

ডজনেরও বেশি অডিশনে রিজেক্ট হয়েছিলেন 

শিশুশিল্পী থেকে টিনএজে পা রাখার পর বদলে যায় পথচলা। বিভিন্ন কাজের জন্য অডিশন দিতে শুরু করলেও বহু বার প্রত্যাখ্যাত হয়েছেন বর্ণিতা। নিজের প্রতি আস্থা থাকলেও কেন সুযোগ পাচ্ছেন না—এই প্রশ্নই ঘুরপাক খেত তাঁর মনে। একসময় আরও হতাশ হয়ে পড়েন যখন দেখেন, তাঁর জায়গায় পরিচিত মুখ হিসেবে বিভিন্ন টিকটকার ও ইনফ্লুয়েন্সার সুযোগ পাচ্ছেন। সেই হতাশাই একসময় তাঁকে নতুন কিছু করার তাগিদ দেয়। অংশ নেন লাক্স সুপারস্টার প্রতিযোগিতায়। শেষ পর্যন্ত সেখানেই আসে সাফল্য।

বর্ণিতার কথায়, ‘আমি নিজেকে নিয়ে অনেক কনফিডেন্ট। কিন্তু তারপরও বিভিন্ন জায়গায় অডিশন দেবার পরেও রিজেক্ট হচ্ছিলাম। আমার যদি কোয়ালিটি না থাকতো বা আমি যদি কনফিডেন্ট না থাকতাম তাহলে হয়তো বিষয়টি মেনে নেওয়া যেত। কিন্তু যখন দেখি আমার জায়গায় বিভিন্ন ইনফ্লুয়েন্সাররা সুযোগ পাচ্ছে, যেহেতু তারা একটু পরিচিত; তখন আমার খারাপ লাগা শুরু হলো। মনে ক্ষোভ জন্মাল যে, কিছু একটা করতে হবে। তারপরেই আমি লাক্সে অংশগ্রহণ করি। মজার বিষয় হলো, সেসময় যারা আমাকে রিজেক্ট করেছিলেন এখন তাঁরাই আমার সঙ্গে কাজের জন্য যোগাযোগ করছেন। আমি মনে মনে হাসছিলাম শুধু।’

বন্ধুহীন বেড়ে ওঠা

প্রাথমিক ও মাধ্যমিকের গণ্ডি পেরিয়ে সদ্যই উচ্চ মাধ্যমিকের পরীক্ষা শেষ করেছেন তিনি। এখন চলছে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির প্রস্তুতি। কিন্তু শৈশব থেকে কৈশোর, এই দীর্ঘ সময়ে স্কুল-কলেজে সেভাবে কোনো ঘনিষ্ঠ বন্ধু তৈরি হয়নি তাঁর।

সহপাঠীদের সঙ্গে মিশলেও ‘বেস্ট ফ্রেন্ড’ বা ‘মাই পিপল’ বলার মতো কেউ ছিল না। তবে লাক্স সুপারস্টার প্রতিযোগিতায় এসে সেই শূন্যতা কিছুটা পূরণ হয়েছে। ফারিশতা মৌ ও নাযাহ নাওয়ারকে পেয়েছেন কাছের বন্ধু হিসেবে।

বর্ণিতা বলেন, ‘আমি যে অনেক অন্তর্মুখী ছিলাম, ব্যাপারটা এরকমও না। কিন্তু তারপরেও স্কুল-কলেজে সে অর্থে আমার কোনো বন্ধু-বান্ধব গড়ে ওঠেনি, যাকে আমি আমার বেস্ট ফ্রেন্ড বা মাই পিপল বলতে পারব। আমার মা-ই হচ্ছে আমার বেস্ট ফ্রেন্ড। তবে লাক্স-এ অংশ নিয়ে দুজনের সঙ্গে আমার বেশ সখ্যতা গড়ে ওঠেছে। যদিও একটা প্রতিযোগিতায় সবাই সবার প্রতিদ্বন্দ্বী কিন্তু তারপরেও এখান থেকেই ফারিশতা এবং নাযাহকে পেয়েছি, যে দুজন এখন আমার বেস্ট ফ্রেন্ড।’

No photo description available.

অবসরে বই ও সিনেমা

বই পড়ার প্রতি আলাদা একটা টান অনুভব করেন বর্ণিতা। প্রচুর বই পড়েন এবং প্রচুর সিনেমা দেখতে ভালোবাসেন তিনি।

তাঁর কথায়, ‘আমার এই অভ্যাসটা সেই ছোটবেলা থেকেই। বই পড়তে এবং মুভি দেখতে প্রচণ্ড ভালোবাসি। বিদেশি লেখকদের বই বেশি পড়া হয় আমার। যদি বলেন প্রিয় লেখক কে, তাহলে বলব- ফ্রাঞ্জ কাফকা। আর বিদেশি সিনেমা, সিরিজ কোনোটাই বাদ রাখি না। সুযোগ পেলেই দেখতে বসে যাই। তবে এখন চেষ্টা করি আমাদের দেশের কাজগুলো দেখার।’

অভিনয়ে প্রিয় মুখ

ছোটবেলা থেকে অনেকের কাজ দেখলেও বর্ণিতার পছন্দের শিল্পীর তালিকায় রয়েছেন জয়া আহসান, মেহজাবীন চৌধুরী। সিনিয়রদের মধ্যে বিপাশা হায়াত, অপি করিম, আফসানা মিমিদের খুব পছন্দ করেন তিনি।

বর্ণিতার ভাষায়, ‘আমি পুরোনো অর্থাৎ অনেক আগের কাজগুলো দেখতে ভীষণ পছন্দ করি, সে জায়গায় বিপাশা হায়াত, অপি করিম, আফসানা মিমি ম্যামদের কাজ আমার খুব ভালো লাগে। জয়া আহসান ম্যাম আমার ভীষণ ভীষণ প্রিয়। তার কাজ, অভিনয়, পার্সোনালিটি সবকিছুই আমার কাছে দারুণ লাগে। মেহজাবীন আপুকেও অনেক ভালো লাগে। এর বাইরে আফরান নিশো ভাইয়া এবং প্রীতম হাসান ভাইয়া আমার অনেক পছন্দের।’

May be an image of sleepwear

স্বপ্নের সীমানা আন্তর্জাতিক

পড়শোনা চালিয়ে যাবার পাশাপাশি অভিনয়েই নিজেকে থিতু করতে চান বর্ণিতা। যদি কখনো একটাকে বেছে নিতে হয় তবে অভিনয়কেই এগিয়ে রাখবেন বলে জানান।

নিজের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে বর্ণিতা বলেন, ‘এই মুহূর্তে আমার লক্ষ্য বা স্বপ্ন যেটাই বলি না কেন, সেটা হচ্ছে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশকে রিপ্রেজেন্ট করা, সেটা যে কোনো মাধ্যমেই হোক না কেন। সেটা অভিনয় হতে পারে বা আমার যে কোনো কাজ দিয়েই হতে পারে।’

ছোট পর্দা পেরিয়ে বড় পর্দায়

নিজেকে ছোট পর্দায় ধীরে ধীরে গড়ে তুলতে চান বর্ণিতা। একই সঙ্গে বড় পর্দাতেও কাজ করার স্বপ্ন রয়েছে তাঁর। 

তিনি বলেন, ‘সিনেমা তো সবারই লক্ষ্য থাকে, আমিও চাই। ইতিমধ্যে রায়হান রাফী স্যারের সঙ্গে একটা সিনেমা নিয়ে কথা চলছে। এই বছরের শেষে নাহলে আগামী বছরের প্রথম দিকে সম্ভবত কাজটা শুরু হবে। এটা নিয়ে এর চেয়ে বেশি কিছু আপাতত বলতে পারছি না।’

Mahfuzur Rahman

Publisher & Editor