বুধবার, ০৫ আগস্ট ২০২৬

দেশে ফিরে যা বললেন ইলিয়াস কাঞ্চন

প্রকাশিত: ০৭:৪৩, ০৫ আগস্ট ২০২৬ | ১২

গত বছরের এপ্রিলে চিকিৎসার উদ্দেশে লন্ডনে গিয়েছিলেন ঢালিউডের জনপ্রিয় কিংবদন্তি অভিনেতা ইলিয়াস কাঞ্চন। এরপর আগস্টে তার মস্তিষ্কে অস্ত্রোপচার হয়। জটিলতা ও ঝুঁকির কারণে সেই সময় টিউমারের বড় একটি অংশ অপসারণ করা সম্ভব হয়নি। এরপর থেকে নিয়মিত চলছিল কেমোথেরাপি।

বাংলাদেশের চলচ্চিত্র ইতিহাসে একজন উজ্জ্বল নক্ষত্রের নাম ইলিয়াস কাঞ্চন। দেশের ইতিহাসের সর্বাধিক ব্যবসাসফল রেকর্ড সৃষ্টিকারী সিনেমা ‘বেদের মেয়ে জোছনা’সহ অসংখ্য ব্যবসাসফল ও নন্দিত সিনেমা উপহার দিয়েছেন তিনি। পেয়েছেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার। পাশাপাশি তিনি পেয়েছেন রাষ্ট্রীয় সম্মাননা একুশে পদকও। 

সামাজিক আন্দোলন বিশেষ করে ‘নিরাপদ সড়ক চাই’ আন্দোলনের পথিকৃৎ হিসেবে রাষ্ট্র তাকে ভূষিত করেছে সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা ‘একুশে পদক’। তার এই সুস্থতার সংবাদে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছেন কোটি ভক্ত ও সহকর্মী।

দেড় বছরেরও বেশি সময় ধরে লন্ডনে ব্রেন টিউমারের চিকিৎসা নিয়েছেন এ কিংবদন্তি অভিনেতা। ঘরে ফেরার আকুলতায় পরিবার তাকে কয়েক দিনের জন্য দেশে আনার সিদ্ধান্ত নেয়।

লন্ডনের হিথ্রো বিমানবন্দর থেকে সোমবার (৩ আগস্ট) সকালে দেশের উদ্দেশে যাত্রা করেন নন্দিত এ নায়ক। স্বদেশ যাত্রায় তার সঙ্গে ছায়ার মতো সার্বক্ষণিক পাশে আছেন জামাতা আরিফুল ইসলাম কলিন্স। 

দেশে ফিরে বিমানবন্দরে উপস্থিত স্বজন ও ভক্তদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে ইলিয়াস কাঞ্চন বলেন, ‘আলহামদুল্লিলাহ্ ভালো আছি, শরীর ভালো আছে। সবার উদ্দেশ্যে যেটি বলার সেটি দোয়া চাই। এবং আমার দোয়া সবার জন্য রইল।’

ইলিয়াস কাঞ্চনের ‘নিরাপদ সড়ক চাই’-এ দীর্ঘদিন ধরে ভাইস প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালন করছেন সাংবাদিক লিটন এরশাদ। তবে এই ফেরা বেশি দিনের জন্য নয় বলে জানিয়েছেন তিনি। আগামী ১৪ আগস্টের আগেই তাকে আবার লন্ডনে ফিরতে হবে। কেননা ১৫ আগস্ট সেখানে তাকে পুনরায় পরীক্ষা-নীরিক্ষা করা হবে বলে জানান লিটন এরশাদ।

জানা গেছে, ব্রেন টিউমারে আক্রান্ত ইলিয়াস  কাঞ্চন। এরই মধ্যে তাকে ৬০টি কেমোথেরাপি দেওয়া হয়েছে। দীর্ঘদিনের চিকিৎসায় অভিনেতার চেহারাতেও কিছুটা পরিবর্তন দেখা গেছে। বিমানবন্দর থেকে তোলা একটি ছবিতে দেখা যায়, সাদা চুল-দাড়িতে কাঞ্চন বসে আছেন চেয়ারে। তার সফরসঙ্গীরা রয়েছেন পেছনে দাঁড়িয়ে।

দীর্ঘদিনের চিকিৎসায় আশানুরূপ উন্নতি প্রসঙ্গে লিটন এরশাদ বলেন, ‘আমাদের কনফিডেন্স লেভেলটা কমে এসেছে। তার পরিবার লন্ডনের সর্বোচ্চ চিকিৎসাসেবা দিয়েছে। অথচ আশানুরূপ কিছু হয়নি। কাঞ্চন ভাইও দেশে ফেরার জন্য ব্যাকুল। তাই পরিবার সিদ্ধান্ত নেয়— কয়েক দিনের জন্য তাকে দেশে আনার।’

Mahfuzur Rahman

Publisher & Editor