মঙ্গলবার, ০৪ আগস্ট ২০২৬

গালে ব্রণ থাকলেও রূপে মুগ্ধ ভক্তরা, সৌন্দর্যের রহস্য জানালেন সাই পল্লবী

প্রকাশিত: ০৭:৩৪, ০৪ আগস্ট ২০২৬ | ১০

‘রামায়ণ পার্ট ১’-এর টিজার প্রকাশের পর সিনেমাটি নিয়ে নানা আলোচনা হলেও সবচেয়ে বেশি প্রশংসা কুড়িয়েছেন সীতার চরিত্রে অভিনয় করা অভিনেত্রী সাই পল্লবী। ন্যূনতম মেকআপ ও স্বাভাবিক সৌন্দর্যের জন্য পরিচিত এই অভিনেত্রী আবারও অনুরাগীদের মন জয় করেছেন নিজের আত্মবিশ্বাসী উপস্থিতিতে।

সাই পল্লবীর সৌন্দর্যের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো, তিনি কখনোই নিজের মুখের ব্রণ বা ত্বকের দাগ লুকানোর চেষ্টা করেন না। বরং স্বাভাবিক ত্বক নিয়েই ক্যামেরার সামনে হাজির হন। এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, দর্শক যখন গালের ব্রণসহ আমাকে গ্রহণ করেছে, তখন বুঝেছি সৌন্দর্য আসলে আত্মবিশ্বাসের মধ্যেই লুকিয়ে থাকে।

শুধু ব্রণই নয়, সাই পল্লবী দীর্ঘদিন ধরে রোজেশিয়া নামের একটি ত্বকের সমস্যায়ও ভুগছেন। এ রোগে মুখ লাল হয়ে যাওয়া, ত্বকে প্রদাহ, চোখ লাল হওয়া এবং মুখে রক্তনালির মতো দাগ দেখা দিতে পারে। চিকিৎসকদের মতে, অতিরিক্ত মানসিক চাপ বা স্ট্রেস শরীরে কর্টিসল হরমোনের মাত্রা বাড়িয়ে এসব সমস্যা আরও তীব্র করে তুলতে পারে। একইভাবে ব্রণ, একজিমা ও সোরিয়াসিসের মতো সমস্যাও বাড়তে পারে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ত্বকের বিভিন্ন সমস্যা অনেক সময় মানুষের আত্মবিশ্বাসে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। ফলে অনেকে অতিরিক্ত প্রসাধনী ব্যবহার বা বিভিন্ন প্রসাধনমূলক চিকিৎসার দিকে ঝুঁকে পড়েন। তবে সাই পল্লবী বরাবরই সেই ধারা থেকে নিজেকে দূরে রেখেছেন। তিনি মনে করেন, নিজের স্বাভাবিক চেহারাকে ভালোবাসতে শেখাই প্রকৃত সৌন্দর্যের প্রথম ধাপ।

সাই পল্লবী অতীতেও নিজের নীতিতে অটল থাকার নজির দেখিয়েছেন। ফর্সা হওয়ার ক্রিমের বিজ্ঞাপনে অভিনয়ের জন্য প্রায় দুই কোটি টাকার প্রস্তাব পেয়েও তা ফিরিয়ে দিয়েছিলেন তিনি। কারণ, সৌন্দর্যকে গায়ের রঙের সঙ্গে মিলিয়ে দেখার ধারণাকে সমর্থন করেন না এই অভিনেত্রী।

রূপচর্চার ক্ষেত্রেও সাইয়ের দর্শন বেশ সহজ। তিনি জানিয়েছেন, অতিরিক্ত মেকআপের পরিবর্তে স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়ার ওপর বেশি গুরুত্ব দেন। তার ভাষায়, আমি স্বাস্থ্যকর খাবার খাই। এতে শরীরের যত্ন যেমন হয়, তেমনি ত্বকও ভালো থাকে।

ভক্তদের মতে, সাই পল্লবীর সবচেয়ে বড় সৌন্দর্য তার স্বাভাবিকতা ও আত্মবিশ্বাস। নিখুঁত ত্বক নয়, বরং নিজের বাস্তব চেহারাকে গ্রহণ করার মানসিকতাই তাকে সমসাময়িক অভিনেত্রীদের মধ্যে আলাদা করে তুলেছে।

Mahfuzur Rahman

Publisher & Editor