বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬

অস্বাভাবিক গোটাকে অবহেলা করবেন না যেসব কারণে

প্রকাশিত: ০৮:০২, ৩০ জুলাই ২০২৬ | ১০

সারকোমা বিরল ধরনের ক্যানসার। এটি শরীরের হাড়, মাংসপেশি, চর্বি, রক্তনালি, স্নায়ুর আশপাশের টিস্যু বা শরীরের গভীর নরম অংশ থেকে উৎপন্ন হতে পারে।

হাত–পা, পেটের ভেতর, বুকের ভেতর বা শরীরের যেকোনো জায়গায় সারকোমা দেখা দিতে পারে। বিরল হলেও দেরিতে ধরা পড়লে চিকিৎসা জটিল হয়ে যায়।

তাই সারকোমার বিষয়ে সতর্ক হতে হবে। জুলাইকে সারকোমা সচেতনতা মাস বলা হয়।

কখন সতর্ক হবেন 
শরীরের কোনো গোটা বা ফোলা দ্রুত বড় হলে, আকারে ৫ সেন্টিমিটারের বেশি হলে, একটু গভীরে থাকলে, ব্যথা করলে বা বারবার ফিরে এলে সতর্ক হতে হবে। দীর্ঘদিনের হাড়ের ব্যথা, চলাফেরায় সমস্যা বা আঘাত ছাড়াই হাড় ভেঙে যাওয়াও গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ হতে পারে। এসব ক্ষেত্রে নিজে নিজে ওষুধ খাওয়া, মালিশ করা বা গুটি কেটে ফেলা ঠিক নয়।

কোন ভুল করবেন না
সন্দেহজনক গোটা আগে কেটে ফেলা এবং পরে পরীক্ষা করা সারকোমার ক্ষেত্রে বড় ভুল হতে পারে। এতে পরবর্তী অস্ত্রোপচার, রেডিওথেরাপি বা অন্যান্য চিকিৎসা জটিল হয়ে যায়।

তাই গোটা কাটার আগে সঠিক পরীক্ষা ও পরিকল্পিত বায়োপসি করা জরুরি। যেকোনো গোটা দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

রোগ নির্ণয় কীভাবে সম্ভব
প্রথমে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক রোগীকে পরীক্ষা করেন। এরপর প্রয়োজন অনুযায়ী এমআরআই, সিটি স্ক্যান, এক্স–রে, বোন স্ক্যান বা পেট সিটি স্ক্যান করা হয়।

নরম টিস্যু সারকোমা শনাক্তকরণে এমআরআই খুব গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এতে টিউমারের আকার, অবস্থান এবং আশপাশের স্নায়ু, রক্তনালি ও মাংসপেশির সঙ্গে সম্পর্ক বোঝা যায়।

ফুসফুসে রোগ ছড়িয়েছে কি না, তা দেখতে অনেক সময় বুকের সিটি স্ক্যান করা হয়।

বায়োপসি কেন গুরুত্বপূর্ণ 
সারকোমা নিশ্চিত করার প্রধান পরীক্ষা হলো বায়োপসি। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে ইমেজ গাইডেড কোর নিডল বায়োপসি সবচেয়ে ভালো পদ্ধতি। শুধু এফএসএইস বা সুচ ঢুকিয়ে পরীক্ষা অনেক সময় যথেষ্ট নয়।

বায়োপসির টিস্যু থেকে হিস্টোপ্যাথলজি করা হয়। প্রয়োজনে আইএইচসি, মলিকুলার টেস্ট বা জেনেটিক টেস্ট করা হয়, যাতে সারকোমার নির্দিষ্ট ধরন ও গ্রেড জানা যায়।

চিকিৎসা কী
সারকোমার চিকিৎসা একটি সমন্বিত টিমের মাধ্যমে হওয়া বাঞ্ছনীয়। সার্জন, রেডিয়েশন অনকোলজিস্ট, মেডিক্যাল অনকোলজিস্ট, রেডিওলজিস্ট ও প্যাথলজিস্ট একসঙ্গে বসে সিদ্ধান্ত নিলে চিকিৎসার ফল ভালো হয়।

অনেক ক্ষেত্রে অস্ত্রোপচারই প্রধান চিকিৎসা। তবে টিউমারের ধরন, আকার ও ঝুঁকির ওপর ভিত্তি করে অস্ত্রোপচারের আগে বা পরে রেডিওথেরাপি দেওয়া হয়।

রেডিওথেরাপি টিউমার নিয়ন্ত্রণে, অস্ত্রোপচারের ফল ভালো করতে এবং অনেক ক্ষেত্রে হাত-পায়ের কার্যক্ষমতা রক্ষা করতে সাহায্য করে। কিছু রোগীর ক্ষেত্রে কেমোথেরাপি বা টার্গেট থেরাপির প্রয়োজন হতে পারে।

Mahfuzur Rahman

Publisher & Editor