বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬

লাখ ডলার বন্ডের পরিকল্পনা : বৈধ অভিবাসন সংকটে

প্রকাশিত: ০২:৩৬, ২৯ জুলাই ২০২৬ | ১৩

যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাসের অনুমতি বা গ্রিন কার্ড পাওয়ার প্রক্রিয়ায় ইমিগ্র্যান্ট ভিসায় নতুন আর্থিক শর্ত লাখো ডালারের বন্ড কার্যকর এর পরিকল্পনা করছে  প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে থেকে গ্রিন কার্ডের জন্য আবেদন করা কিছু অভিবাসীর কাছ থেকে ১ লাখ ডলারের বন্ড (জামানত) নেওয়ার প্রস্তাব বিবেচনা করছে ইউএস স্টেট ডিপার্টমেন্ট। এটি কার্যকর হলে যুক্তরাষ্ট্রে থাকা অভিবাসীদের ফ্যামেলি ক্যাটগরীর ভিসার (পরিবারের সদস্যদের ) পথ কঠোর ও সংকুচিত হয়ে যেতে পারে।
প্রশাসনের দাবি, এই পরিকল্পনার লক্ষ্য হলো যুক্তরাষ্ট্রে আসার পর নতুন অভিবাসীরা যেন নিজেদের আর্থিকভাবে পরিচালনা করতে পারেন এবং সরকারি সহায়তার ওপর নির্ভরশীল না হন। প্রশাসনের কর্মকর্তারা বলছেন, এই বন্ড ব্যবস্থা অভিবাসীদের আর্থিক সক্ষমতার একটি প্রমাণ হিসেবেও কাজ করবে।

এতে বৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে যেসব ইমিগ্র্যান্ট ভিসা প্রক্রিয়া আছে সেসব ক্যাটাগরীর ভিসায় এ সম্ভাব্য বন্ড কার্যকর হতে পারে।  এর আগে নন ইমিগ্র্যান্ট  (বি-১ /বি২) পর্যটক ও ব্যবসায়ীক ভিসাধারীদের যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণে বাংলাদেশ সহ একাধিক দেশের ওপর সর্বোচ্চ ১৫ হাজার ডলার বন্ড কার্যকর করা হয়েছে।

ওয়াল স্ট্রীট জার্নালে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে,প্রস্তাবিত নিয়ম অনুযায়ী, এটি সব গ্রিন কার্ড আবেদনকারীর ওপর একসঙ্গে কার্যকর নাও হতে পারে। প্রথমে সীমিত কিছু দেশের নাগরিকদের নিয়ে পরীক্ষামূলকভাবে (পাইলট প্রোগ্রাম) চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে। পরবর্তীতে ফলাফল বিশ্লেষণ করে এর পরিধি বাড়ানো হতে পারে।

বর্তমানে আলোচনায় থাকা এই বন্ড মূলত বিদেশ থেকে কনস্যুলার প্রসেসিংয়ের মাধ্যমে ইমিগ্র্যান্ট ভিসা আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। অর্থাৎ যারা যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে থেকে ভিসা নিয়ে দেশে প্রবেশ করে গ্রিন কার্ড পাওয়ার প্রক্রিয়ায় যাবেন, তাদের লক্ষ্য করেই এই পরিকল্পনা তৈরি হচ্ছে।

সম্ভাব্যভাবে এর আওতায় আসতে পারে বিভিন্ন ফ্যামিলি-বেসড ইমিগ্র্যান্ট ভিসা। এর মধ্যে রয়েছে মার্কিন নাগরিক বা স্থায়ী বাসিন্দাদের মাধ্যমে আবেদন করা স্ত্রী, সন্তান, বাবা-মা এবং অন্যান্য পারিবারিক সম্পর্কের ভিসা ক্যাটাগরি। বিশেষ করে যেসব আবেদনকারী বিদেশ থেকে ইমিগ্র্যান্ট ভিসা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করবেন, তাদের ক্ষেত্রে এই নিয়ম বিবেচনা করা হতে পারে।

এছাড়া কিছু অ্যাম্পোলয়মেন্ট বেসড ভিসা আবেদনকারীর ক্ষেত্রেও ভবিষ্যতে এই ধরনের আর্থিক যাচাইয়ের বিষয়টি বিবেচনায় আসতে পারে বলে আলোচনা রয়েছে। এর মধ্যে ইবি-১, ইবি-২ এবং ইবি-৩ ক্যাটাগরির আবেদনকারীরা পড়েন। তবে কোন কর্মভিত্তিক ভিসায় এটি প্রযোজ্য হবে, সে বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি।

প্রস্তাবিত বন্ড ব্যবস্থার আওতায় আবেদনকারীকে বড় অঙ্কের অর্থ জামানত হিসেবে জমা দিতে হতে পারে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই অর্থ ভবিষ্যতে নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করলে ফেরতযোগ্য হতে পারে। তবে বন্ড ফেরতের নিয়ম, সময়সীমা এবং কী ধরনের পরিস্থিতিতে অর্থ বাজেয়াপ্ত হবে এসব বিষয় এখনো চূড়ান্ত নয়। 

ট্রাম্প প্রশাসনের যুক্তি হলো, যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন এমন ব্যক্তিদের জন্য হওয়া উচিত যারা নিজেদের আর্থিক দায়িত্ব বহন করতে সক্ষম। প্রশাসন এর আগে পর্যটক ও ব্যবসায়িক ভিসার কিছু ক্ষেত্রে বন্ড ব্যবস্থার ব্যবহার করেছে, যেখানে নির্দিষ্ট দেশের আবেদনকারীদের কাছ থেকে জামানত নেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছিল।

তবে অভিবাসন অধিকার সংগঠন ও আইনজীবীরা এই পরিকল্পনার সমালোচনা করছেন। তাদের মতে, ১ লাখ ডলারের বন্ড সাধারণ পরিবারের জন্য বিশাল আর্থিক বাধা তৈরি করবে। এতে বৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে আসার সুযোগ মূলত ধনী ব্যক্তিদের জন্য সহজ হয়ে যেতে পারে এবং পরিবার পুনর্মিলনের পথ কঠিন হতে পারে। 

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিকল্পনা কার্যকর হলে সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়তে পারে বিদেশে থাকা পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের ওপর, কারণ অনেক পরিবার দীর্ঘ অপেক্ষার পর যুক্তরাষ্ট্রে আসার সুযোগ পায়। নতুন আর্থিক শর্ত যুক্ত হলে অনেক আবেদনকারী আবেদন চালিয়ে যাওয়া নিয়েও সমস্যায় পড়তে পারেন।

তবে  এখনো এই ১০০,০০০ গ্রিন কার্ড বন্ড কার্যকর হয়নি। এটি বর্তমানে একটি প্রস্তাব মাত্র। কোন দেশের নাগরিক, কোন ভিসা ক্যাটাগরি এবং কতজন আবেদনকারীর ওপর এটি প্রযোজ্য হবে—এসব বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো ঘোষণা করা হয়নি।
অভিবাসন বিশেষজ্ঞদের মতে, এই নীতি বাস্তবায়িত হলে যুক্তরাষ্ট্রের বৈধ অভিবাসন ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে এবং এটি আদালতসহ বিভিন্ন পর্যায়ে আইনি চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।

Mahfuzur Rahman

Publisher & Editor