বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬

ভেনেজুয়েলায় জোড়া ভূমিকম্পে প্রাণহানি ১০ হাজার ছাড়াতে পারে

প্রকাশিত: ০২:২৬, ২৫ জুন ২০২৬ |

ভেনিজুয়েলায় পরপর দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) সতর্ক করে বলেছে, এ দুর্যোগে ব্যাপক প্রাণহানি ও বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।

সংস্থাটির প্রাথমিক মূল্যায়নে মৃতের সংখ্যা ১০ হাজার থেকে ১ লাখের মধ্যে হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। 

স্থানীয় সময় বুধবার (২৫ জুন) ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসের পশ্চিম এলাকায় এই ভয়াবহ ভূমিকম্প দুইটি অনুভূত হয়। মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানিয়েছে, প্রথম ভূমিকম্পটি আঘাত হানে রাজধানী কারাকাস থেকে প্রায় ২৮৪ কিলোমিটার (১৭৬ মাইল) পশ্চিমে সান ফেলিপের কাছে, যার মাত্রা ছিল ৭ দশমিক ২।

এর পরপরই রাজধানী থেকে প্রায় ২৯৩ কিলোমিটার (১৮২ মাইল) পশ্চিমে ইউমারের কাছে ৭ দশমিক ৫ মাত্রার দ্বিতীয় শক্তিশালী ভূমিকম্পটি আঘাত হানে।

ভূমিকম্পে দেশটির রাজধানী কারাকাসসহ বিভিন্ন এলাকায় ভবন ধসে পড়েছে। বহু মানুষ ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়েছে এবং সরকার জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে। উদ্ধারকর্মীরা জীবিতদের খুঁজে বের করতে অভিযান চালিয়ে যাচ্ছেন। ভেনিজুয়েলার ভাইস প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ বলেছেন, ভূমিকম্পের পর দেশজুড়ে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে।

ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় উদ্ধার ও পুনর্বাসন কাজ চালাতে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর কাছে সহায়তা চেয়েছে সরকার। তবে এখনো কত মানুষ নিহত বা আহত হয়েছেন, সে তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। সরকারি ছুটির দিনে শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানলে রাজধানী কারাকাসজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ভবনগুলো কাঁপতে শুরু করলে মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে দ্রুত রাস্তায় নেমে আসে। কারাকাসের বাসিন্দারা জানান, কম্পন শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে চারদিকে চিৎকার-চেঁচামেচি শুরু হয় এবং অনেকে সিঁড়ি দিয়ে দৌড়ে ভবন থেকে বেরিয়ে আসেন।

অনেক বাড়িতে আসবাবপত্র ও অন্যান্য জিনিসপত্র মেঝেতে পড়ে যায়।
ভূমিকম্পের পর আহতদের চিকিৎসার জন্য রাজধানীর হাসপাতালগুলোতে অতিরিক্ত চিকিৎসাকর্মী মোতায়েন করা হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির কারণে মাইকুয়েটিয়ায় অবস্থিত দেশের প্রধান বিমানবন্দর সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি মূল্যায়নের জন্য সপ্তাহের বাকি দিনগুলোর সব শ্রেণিকক্ষের পাঠদানও স্থগিত করা হয়েছে। ভূমিকম্পের পর পুয়ের্তো রিকো এবং ব্রিটিশ ভার্জিন দ্বীপপুঞ্জসহ কয়েকটি ক্যারিবীয় অঞ্চলের জন্য সুনামি সতর্কতা জারি করা হলেও পরে তা প্রত্যাহার করা হয়।

কর্মকর্তারা বেশ কয়েকটি এলাকায় ভবন ধসে পড়া এবং উদ্ধার অভিযানের খবর দিয়েছেন। কারাকাসে জরুরি উদ্ধারকারী দলগুলো ক্ষতিগ্রস্ত ভবনের ধ্বংসস্তূপের মধ্যে তল্লাশি চালাচ্ছেন এবং স্বজনেরা নিখোঁজ পরিবারের সদস্যদের খবরের জন্য অপেক্ষা করছেন।

রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দিওসদাদো ক্যাবেলো বলেন, ‘আমাদের ভবন, বাড়িঘর ধসে পড়েছে এবং নিরাপত্তা ও বেসামরিক সহায়তার ক্ষেত্রে আমাদের কাছে যা কিছু আছে, তা দিয়ে আমরা পরিস্থিতি সামাল দিচ্ছি।’

কারাকাসের চাকাও জেলার মেয়র গুস্তাভো দুকে বলেন, ‘বেশ কয়েকটি ভবন ধসে পড়েছে এবং একটি ভবন থেকে ১৮ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। তিনি আফটারশকের ঝুঁকির কারণে বাসিন্দাদের খোলা জায়গায় থাকার আহ্বান জানান।’ তিনি বলেন, ‘মানুষকে উদ্ধার করার জন্য আমরা আমাদের সাধ্যমতো সবকিছু করব।’ ফ্যালকন রাজ্যে গভর্নর ভিক্টর ক্লার্ক বলেন, ২২ জন আহত হয়েছেন এবং কর্তৃপক্ষ ১৫ জন নিখোঁজ প্রাপ্তবয়স্কের সন্ধান করছে। 

এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট  ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ভেনিজুয়েলাকে সাহায্য করতে প্রস্তুত। তিনি সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলোকে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। মার্কিন উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী ক্রিস্টোফার ল্যান্ডাউ জানান, যুক্তরাষ্ট্র ভেনিজুয়েলার সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে এবং জরুরি সহায়তা পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। 

ভেনিজুয়েলা এমন একটি ভূকম্পনপ্রবণ এলাকায় অবস্থিত, যেখানে ক্যারিবিয়ান ও দক্ষিণ আমেরিকান টেকটোনিক প্লেটের সংযোগস্থল রয়েছে। এ কারণে দেশটিতে মাঝেমধ্যে শক্তিশালী ভূমিকম্পের ঝুঁকি দেখা দেয়।

Mahfuzur Rahman

Publisher & Editor