শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬

এবার বিলিয়ন ডলারের গাঁজা ব্যবসার ওপর নজর ট্রাম্পের

প্রকাশিত: ০৮:১৪, ২৪ এপ্রিল ২০২৬ |

যুক্তরাষ্ট্রের কয়েক দশকের পুরোনো কঠোর মাদক নীতিতে আমূল পরিবর্তন আনার ঘোষণা দিয়েছে দেশটির বিচার বিভাগ। বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, মারিজুয়ানা বা গাঁজাজাত পণ্যকে এখন থেকে তুলনামূলক ‘কম বিপজ্জনক’ ড্রাগ হিসেবে গণ্য করা হবে। 

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশের পর ভারপ্রাপ্ত অ্যাটর্নি জেনারেল টড ব্ল্যানচে এই প্রক্রিয়াকে দ্রুততর করার নির্দেশ দিয়েছেন। এই সিদ্ধান্তের ফলে গাঁজা এতদিন হেরোইনের মতো ‘শিডিউল-১’ ভুক্ত ড্রাগ হিসেবে বিবেচিত হলেও এখন তা ‘শিডিউল-৩’ ক্যাটাগরিতে অন্তর্ভুক্ত হবে, যেখানে সাধারণত টাইলেনল বা ব্যথানাশকের মতো ওষুধগুলো থাকে।

বাজার বিশ্লেষক সংস্থা বিডিএসএ-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সাল নাগাদ যুক্তরাষ্ট্রে বৈধ গাঁজা বিক্রির বাজার ৪৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে। ফেডারেল পর্যায়ের এই আইনি পরিবর্তনের ফলে গাঁজা ব্যবসায়ীরা এখন থেকে মার্কিন ট্যাক্স কোডের ‘২৮০-ই’ ধারার কড়াকড়ি থেকে মুক্তি পাবেন, যা তাদের ব্যবসায়িক খরচগুলো কর থেকে বাদ দেওয়ার সুযোগ করে দেবে। এর ফলে কোম্পানিগুলোর নিট মুনাফা নাটকীয়ভাবে বৃদ্ধি পাবে। 

এ ছাড়া এতদিন ফেডারেল নিষেধাজ্ঞার কারণে জেপি মরগান বা গোল্ডম্যান স্যাকসের মতো বড় ব্যাংকগুলো এই খাতে ঋণ দিতে অনীহা প্রকাশ করলেও এখন থেকে মূলধন সংগ্রহ ও ব্যাংকিং সুবিধা পাওয়া অনেক সহজ হবে। ক্যানোপি গ্রোথ ও ট্রুলিভের মতো বড় কোম্পানিগুলো এই সুযোগে তাদের ব্যবসার পরিধি আরও বিস্তৃত করার পরিকল্পনা করছে।

এই নীতি পরিবর্তনের ফলে চিকিৎসা গবেষণার ক্ষেত্রেও নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হতে যাচ্ছে। ক্যানসার, দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা এবং মানসিক রোগের চিকিৎসায় গাঁজার ব্যবহার নিয়ে এখন থেকে ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল বা পরীক্ষা চালানো অনেক সহজ হবে, যা বায়োটেক ও ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানিগুলোর জন্য শতকোটি ডলারের নতুন বাজার তৈরি করবে।

এই ঘোষণার পরপরই মার্কিন শেয়ারবাজারে ক্যানাবিস কোম্পানিগুলোর শেয়ারের দাম এক লাফে ৬ শতাংশ থেকে ১৩ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে গেছে। বিনিয়োগকারীরা এখন এই খাতকে উচ্চ ঝুঁকির বদলে উচ্চ প্রবৃদ্ধির খাত হিসেবে বিবেচনা করছেন। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যালে’ লিখেছেন, নাগরিকদের সিবিডি পণ্যের পূর্ণ সুবিধা নিশ্চিত করতে এই আইনকে আরও আধুনিক করা প্রয়োজন।

তবে সরকারের এই সিদ্ধান্তের সমালোচনাও করেছেন অনেক রিপাবলিকান নেতা। সিনেটর টম কটন সতর্ক করে বলেছেন, গাঁজার ওপর নিয়ন্ত্রণ শিথিল করার ফলে মাদক ব্যবহারের প্রবণতা বাড়তে পারে, যা সড়ক দুর্ঘটনা ও মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকি তৈরি করবে। 

ড্রাগ এনফোর্সমেন্ট অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (ডিইএ) আগামী ২৯ জুন থেকে এই পরিবর্তনের চূড়ান্ত আইনি প্রক্রিয়া শুরু করবে, যেখানে জনশুনানি ও বিশেষজ্ঞদের মতামতের ভিত্তিতে তালিকার চূড়ান্ত রূপ দেওয়া হবে। যদিও ফেডারেল পর্যায়ে গাঁজা এখনো পুরোপুরি বৈধ বা ‘লিগালাইজ’ করা হয়নি, তবুও এই পদক্ষেপকে একটি বৈশ্বিক বিলিয়ন ডলারের শিল্পের জন্য শক্তিশালী ভিত্তি হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

সূত্র: বিবিসি

Mahfuzur Rahman

Publisher & Editor