বর্তমান সময়ে তরুণ-তরুণীদের মধ্যে হঠাৎ হার্ট অ্যাটাকের ঘটনা উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে। অনেকেই নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করান, রিপোর্টে সবকিছু স্বাভাবিক থাকে—তবুও অপ্রত্যাশিতভাবে হৃদরোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। চিকিৎসকরা বলছেন, এর পেছনে লুকিয়ে থাকতে পারে এক অবহেলিত ঝুঁকি—লিপোপ্রোটিন।
সাধারণত হৃদস্বাস্থ্য যাচাই করতে এইচডিএল, এলডিএল ও ট্রাইগ্লিসারাইডের মাত্রা দেখা হয়।
কিন্তু বিশেষজ্ঞদের মতে, এগুলোই পুরো চিত্র তুলে ধরে না। লিপোপ্রোটিন এমন এক ধরনের কোলেস্টেরল, যা নিঃশব্দে রক্তনালিতে ক্ষতি করতে পারে এবং অল্প বয়সেই হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়।
এই উপাদানটির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো—এটি সম্পূর্ণ জিনগত। অর্থাৎ, জন্ম থেকেই শরীরে এর উপস্থিতি নির্ধারিত হয় এবং জীবনভর প্রায় অপরিবর্তিত থাকে।
খাদ্যাভ্যাস, ব্যায়াম বা ওজন নিয়ন্ত্রণের মতো প্রচলিত পদ্ধতিতে এর মাত্রা তেমন কমানো যায় না। ফলে অনেক স্বাস্থ্যসচেতন মানুষও অজান্তে ঝুঁকির মধ্যে থেকে যান।
গবেষণায় দেখা গেছে, লিপোপ্রোটিন বেশি থাকলে রক্তনালিতে দ্রুত চর্বি জমে, প্রদাহ বাড়ে, রক্ত জমাট বাঁধার প্রবণতা বৃদ্ধি পায়। এর ফলে কোনো পূর্বলক্ষণ ছাড়াই হার্ট অ্যাটাক বা স্ট্রোকের মতো গুরুতর ঘটনা ঘটতে পারে।
বিশেষ করে যাদের পেটের মেদ, ডায়াবেটিস বা অনিয়মিত জীবনযাপন রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে এই ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়। এমনকি এলডিএল কোলেস্টেরল স্বাভাবিক থাকলেও ভেতরে ভেতরে ক্ষতি চলতে পারে।
তাই চিকিৎসকরা পরামর্শ দিচ্ছেন, জীবনে অন্তত একবার লিপোপ্রোটিন পরীক্ষা করা উচিত—বিশেষ করে ১৮ বছর বয়সের মধ্যেই। যদি পরিবারে অল্প বয়সে হৃদ্রোগ, স্ট্রোক বা হঠাৎ মৃত্যুর ইতিহাস থাকে, তাহলে দেরি না করে এই পরীক্ষা করানো জরুরি।
যদিও এই উপাদানের মাত্রা সরাসরি কমানো কঠিন, তবে এর ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।
এজন্য এলডিএল কোলেস্টেরল কম রাখা, নিয়মিত ব্যায়াম, সুষম খাদ্যাভ্যাস এবং ধূমপান বা অ্যালকোহল এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেন চিকিৎসকরা। প্রয়োজনে ওষুধও নিতে হতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, হার্ট অ্যাটাক সবসময় হঠাৎ ঘটে না—অনেক সময় শরীর আগে থেকেই সতর্ক সংকেত দেয়। লিপোপ্রোটিন ঠিক তেমনই এক নীরব ঝুঁকি, যা একটি সাধারণ পরীক্ষার মাধ্যমে আগেভাগেই ধরা সম্ভব। আর সচেতনতা থাকলেই এই অদৃশ্য ঝুঁকি অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়।
Publisher & Editor