ছবি: সংগৃহীত
মার্কিন প্রেসিডেন্টের সরকারি বাসভবন হোয়াইট হাউসের সুইচবোর্ডে ফোন করলে কিছু সাংবাদিকের মোবাইল স্ক্রিনে কলার আইডি হিসেবে ‘এপস্টেইন আইল্যান্ড’ নামটি দেখা যায়।
বুধবার (২৫ মার্চ) এই ঘটনাটি ঘটার পর তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।
ওয়াশিংটন পোস্টের কয়েকজন সাংবাদিক প্রথম বিষয়টি সামনে আনেন। তাদের দাবি, বিশেষ করে গুগলের পিক্সেল সিরিজের অ্যান্ড্রয়েড ফোন থেকে হোয়াইট হাউসে কল করার সময় ‘এপস্টেইন আইল্যান্ড’ নামটি প্রদর্শিত হচ্ছিল। তবে আইফোন থেকে কল করলে এমনটি দেখা যায়নি; সেখানে কেবল ফোন নম্বরই দেখা গেছে।
ওই দিন হোয়াইট হাউসে ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্পের আয়োজনে ‘ফস্টারিং দ্য ফিউচার টুগেদার’ শীর্ষক একটি অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। বিশ্বনেতাদের স্ত্রীদের অংশগ্রহণে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে ‘ফিগার ০৩’ নামের একটি মানবসদৃশ রোবট অতিথিদের ১১টি ভাষায় শুভেচ্ছা জানায়।
এই অনুষ্ঠানেই মেলানিয়া ট্রাম্পের পোশাকের ব্র্যান্ড সম্পর্কে জানতে ওয়াশিংটন পোস্টের ‘স্টাইল’ বিভাগ হোয়াইট হাউসের সুইচবোর্ডে যোগাযোগ করে। সেই সময়ই কয়েকজন সাংবাদিকের ফোনে অস্বাভাবিক এই কলার আইডি দেখা যায়।
এ বিষয়ে গুগলের মুখপাত্র ম্যাথিউ ফ্লেগাল জানান, গুগল ম্যাপে ভুয়া তথ্য সংযোজন বা ‘ফেক এডিট’-এর কারণেই এ ঘটনা ঘটেছে। তার মতে, গুগলের কলার আইডি সিস্টেম সাময়িকভাবে ভুল তথ্যটি গ্রহণ করায় ‘এপস্টেইন আইল্যান্ড’ নামটি প্রদর্শিত হয়েছিল।
তিনি আরও জানান, ত্রুটিটি ইতোমধ্যে সংশোধন করা হয়েছে। ভুয়া তথ্য সংযোজনকারী ব্যবহারকারীকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে এবং বর্তমানে পিক্সেল ফোন থেকে হোয়াইট হাউসে কল করলে আর এমন কোনো নাম দেখা যাচ্ছে না।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক হোয়াইট হাউস কর্মকর্তা বলেন, এই কলার আইডি বিভ্রাট সম্পূর্ণরূপে বাহ্যিক প্রযুক্তিগত সমস্যার ফল। এর সঙ্গে হোয়াইট হাউসের অভ্যন্তরীণ টেলিফোন বা নিরাপত্তা ব্যবস্থার কোনো সম্পর্ক নেই। তবে জেফরি এপস্টেইনকে ঘিরে পুরোনো বিতর্কের কারণে ঘটনাটি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। নারী ও শিশু পাচারসহ গুরুতর অভিযোগে অভিযুক্ত এপস্টেইনের সঙ্গে ডোনাল্ড ট্রাম্পের অতীত সম্পর্ক নিয়েও সাম্প্রতিক সময়ে রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠেছে।
ক্যারিবীয় অঞ্চলের লিটল সেন্ট জেমস দ্বীপে জেফরি এপস্টেইনের একটি ব্যক্তিগত এস্টেট ছিল, যা ‘এপস্টেইন আইল্যান্ড’ নামে পরিচিত।
প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের মতে, গুগল ম্যাপে ভুয়া নাম, ভুল ফোন নম্বর বা বিভ্রান্তিকর ব্যবসায়িক তথ্য যুক্ত হওয়ার ঘটনা নতুন নয়। এর আগেও বিভিন্ন স্কুল, প্রতিষ্ঠান ও ব্যাংকের হেল্পলাইন নম্বর পরিবর্তন করা বা মিমভিত্তিক নাম যুক্ত করার মতো ঘটনা ঘটেছে।
সর্বশেষ এই ঘটনাটি আবারও প্রশ্ন তুলেছে—জনপ্রিয় ডিজিটাল ম্যাপ ও কলার আইডি প্ল্যাটফর্মগুলোর তথ্য যাচাই ব্যবস্থা কতটা নির্ভরযোগ্য?
Publisher & Editor