জনপ্রিয় ভারতীয় র্যাপার বাদশাকে ফের হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছে। শনিবার সমাজমাধ্যমে কুখ্যাত গ্যাংস্টার লরেন্স বিষ্ণোই–এর গ্যাংয়ের তরফ থেকে একটি হুমকিবার্তা ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে সরাসরি গায়কের কপালে গুলি করার হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
খবর অনুযায়ী, শনিবার রণদীপ মালিক ও অনিল পণ্ডিতের একটি অ্যাকাউন্ট থেকে ওই বার্তাটি পোস্ট করা হয়। রণদীপ নিজেকে বিষ্ণোই গ্যাংয়ের সদস্য বলে দাবি করেছেন।
দেখতে দেখতে সেই পোস্ট ছড়িয়ে পড়ে সমাজমাধ্যমে। ফলে ফের আতঙ্কে থমথমে বলিউড।
সম্প্রতি বাদশার প্রকাশিত মিউজিক ভিডিও ‘টটীরী’ ঘিরেই এই বিতর্কের সূত্রপাত। অভিযোগ, গানটির কিছু লাইন হরিয়ানার সংস্কৃতি ও নারীদের অসম্মানজনকভাবে উপস্থাপন করেছে।
সমালোচকদের দাবি, গানের একটি পংক্তিতে নারীদের অশ্লীল ও অসম্মানজনকভাবে তুলে ধরা হয়েছে, যা হরিয়ানভি সংস্কৃতিকে ভুলভাবে ব্যাখ্যা করেছে।
এটি প্রথমবার নয় যে বিষ্ণোই গ্যাংয়ের নজরে পড়েছেন বাদশা। হুমকিবার্তায় উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২৪ সালেও তাঁকে সতর্ক করা হয়েছিল। ওই বছর ভোর রাতে চণ্ডীগড়ের সেক্টর ২৬ এলাকায় দুটি নাইটক্লাবের সামনে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে, যার মধ্যে একটির লক্ষ্য ছিলেন বাদশা।
অভিযোগ, নাইটক্লাবের জন্য গায়কের কাছে মোটা অঙ্কের টাকা চেয়ে ফোন করেছিল গ্যাং ঘনিষ্ঠরা, কিন্তু বিষয়টিকে গুরুত্ব দেননি তিনি।
হুমকিবার্তায় লেখা হয়েছে, “বাদশা, তুমি হরিয়ানার সংস্কৃতি নষ্ট করার চেষ্টা করেছ। ২০২৪ সালের শুরুতে আমরা তোমার ক্লাবে একটি ট্রেলার দেখিয়েছিলাম। এবার আমরা সরাসরি তোমার কপালে গুলি করব।”
বাদশাকে হুমকি দেওয়ার পাশাপাশি পানিপথে গ্যারি ও শ্যাঙ্কির অফিসে গুলি চালানোর দায়ও স্বীকার করেছে গ্যাংটি।
কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, ওই দুই ব্যক্তির বিরুদ্ধে হাওয়ালা কাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। গ্যাংটি আগেও হাওয়ালার সঙ্গে যুক্তদের সতর্ক করেছিল।
এদিকে ‘টটীরী’ গানের একটি লাইন “আয়া বাদশা ডোলি চড়ানে, ইন সবকি ঘোড়ি বানানে”—ঘিরেই সবচেয়ে বেশি বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
সমালোচকদের দাবি, এতে হরিয়ানার নারীদের অশ্লীল ও অসম্মানজনকভাবে তুলে ধরা হয়েছে। এই কারণে বিভিন্ন সংগঠন বাদশার বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপের দাবি তুলেছে। এমনকি হরিয়ানার নারী কমিশনও গায়কের গ্রেপ্তারের দাবিতে সরব হয়েছে।
Publisher & Editor