শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০২৬

বাঙ্গালীর হাসির গল্প

প্রকাশিত: ০৯:২১, ১৩ মার্চ ২০২৬ |

জসীমউদ্দীনকে বাংলার মানুষ ভালোবেসে নাম দিয়েছে ‘পল্লীকবি’। তিনি গ্রামবাংলাকে তুলে এনেছেন কবিতায়। বিশেষ করে বিখ্যাত দুই কাব্যগ্রন্থে—‘নক্সী কাঁথার মাঠ’ (১৯২৯) ও ‘সোজন বাদিয়ার ঘাট’ (১৯৩৪)। লিখেছেন বহু বিখ্যাত গান।

আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ করেছেন তিনি—লোকসাহিত্য সংগ্রহ।
বইপত্রের বাইরেও অনেকে গল্প, কবিতা ও গান রচনা করেন সাধারণ মানুষ। একে অন্যকে শোনান। এভাবেই ছড়িয়ে পড়ে।

প্রচলিত থাকে বছরের পর বছর। সহজ কথায় এগুলোই লোকসাহিত্য।
বাংলা লোকসাহিত্যের মধ্যে গান বা গীতিকাই প্রধান। এসবের অন্যতম সংগ্রাহক দীনেশচন্দ্র সেন।

তাঁর সঙ্গে জসীমউদ্দীন কাজ করেছিলেন বেশ কিছু দিন। সংগ্রহ করেন অজস্র গান। তার থেকে প্রকাশ করেন দুটি বই—‘জারি গান’ (১৯৬৮) ও ‘মুর্শিদা গান’ (১৯৭৭)। তারও আগে প্রকাশ করেন লোকগল্পের বই ‘বাঙ্গালীর হাসির গল্প’। দুই খণ্ডে।

১৯৬০ ও ১৯৬৪ সালে। তুলে আনেন গ্রামবাংলায় প্রচলিত অদ্ভুত সব মজার গল্প। যেমন—‘আয়না’ গল্পটা। এক চাষি জীবনে কখনো আয়না দেখেনি। ওটাতে নিজের মুখ দেখে ভাবে, মৃত বাবা তাকে দেখছে। যত্ন করে লুকিয়ে রাখে। আর বউ দেখে ভাবে, অন্য মেয়েকে লুকিয়ে রেখেছে। তাই নিয়ে কী ঝগড়া! আবার সেই ‘নাপিত-ডাক্তার’ যেমন। না জেনেবুঝে কত লোকেরই পিঠের ফোড়া ক্ষুর দিয়ে কেটে দিয়েছিল। যেই না সত্যিকারের ডাক্তার ওকে পড়িয়ে-শিখিয়ে দিল, আর ওর হাত চলে না ভয়ে! আর এই ‘তুমভি কাঁঠাল খায়া’র মতো এমনি সব হাসির গল্পের সংকলন দুই খণ্ডের এ বই।
 

Mahfuzur Rahman

Publisher & Editor