ছবি: সংগৃহীত
পূর্ব লেবাননে সিরিয়া সীমান্ত অতিক্রম করে হেলিকপ্টার যোগে অবতরণ করা ইসরায়েলি বাহিনীর সঙ্গে হিজবুল্লাহ যোদ্ধাদের তীব্র সংঘর্ষ চলছে। সোমবার (৯ মার্চ) হিজবুল্লাহ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তারা তাদের প্রভাবাধীন এলাকায় প্রায় ১৫টি ইসরায়েলি হেলিকপ্টারের অনুপ্রবেশ শনাক্ত করেছে।
সংঘাত শুরু হওয়ার পর এটি লেবাননের অভ্যন্তরে ইসরায়েলের দ্বিতীয় বড় ধরনের কমান্ডো অপারেশন। এই অভিযানে দুই পক্ষের মধ্যে সরাসরি গোলাগুলি চলছে এবং হিজবুল্লাহ দাবি করেছে যে তারা এই অনুপ্রবেশকারী বাহিনীকে প্রতিহত করতে উপযুক্ত অস্ত্র ব্যবহার করে পাল্টা আক্রমণ শুরু করেছে।
লেবাননের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ন্যাশনাল নিউজ এজেন্সি (এনএনএ) জানিয়েছে, বেকা উপত্যকার নবি শিট শহরের উপকণ্ঠে ইসরায়েলি বাহিনীকে হঠাতে প্রচণ্ড যুদ্ধ চলছে। বেকা অঞ্চলের হিজবুল্লাহর দুইজন কর্মকর্তা এএফপি-কে নিশ্চিত করেছেন, সংঘর্ষ চলাকালীন তারা একটি ইসরায়েলি হেলিকপ্টার ভূপাতিত করতে সক্ষম হয়েছেন।
ইরান সমর্থিত এই গোষ্ঠীটি জানিয়েছে যে তাদের যোদ্ধারা এখনো রণক্ষেত্রে অবস্থান করছে এবং অনুপ্রবেশকারী কমান্ডোদের ঘিরে ফেলার চেষ্টা চালাচ্ছে। তবে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী এই চাঞ্চল্যকর ঘটনা বা হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হওয়ার বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি।
উল্লেখ্য যে, এর আগে গত শুক্রবার রাতেও নবি শিট এলাকায় ইসরায়েলি কমান্ডোরা একটি অভিযান চালিয়েছিল। মূলত ১৯৮৬ সাল থেকে নিখোঁজ ইসরায়েলি বিমান বাহিনীর সদস্য রন আরাদের দেহাবশেষ খুঁজে বের করাই ছিল ওই অভিযানের মূল লক্ষ্য। তবে লেবাননের সেনাবাহিনী ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সেই প্রথম দফার অভিযানে রন আরাদের কোনো সন্ধান পাওয়া না গেলেও সংঘর্ষে ৩ জন লেবানিজ সেনা এবং বেকা উপত্যকার ৪১ জন বাসিন্দা প্রাণ হারিয়েছিলেন। রবিবারের এই নতুন হানা সেই ব্যর্থ অভিযানেরই একটি ধারাবাহিকতা বলে মনে করা হচ্ছে।
পূর্ব লেবাননের এই দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় ইসরায়েলি কমান্ডোদের বারবার ল্যান্ডিং করার বিষয়টি মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের তীব্রতাকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। সিরিয়া সীমান্ত ব্যবহার করে হেলিকপ্টারে করে সেনা নামানোর এই কৌশলগত চাল হিজবুল্লাহর প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন যে আকাশজুড়ে এখনো ইসরায়েলি ড্রোনের আনাগোনা লক্ষ্য করা যাচ্ছে এবং বোমাবর্ষণের শব্দ শোনা যাচ্ছে। পুরো বেকা উপত্যকা এখন কার্যত রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে এবং হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান
Publisher & Editor