দীর্ঘদিনের পারমাণবিক বিরোধ নিষ্পত্তি এবং নতুন করে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য হামলা এড়ানোর লক্ষ্যে বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে, এমনটা জানিয়েছে মধ্যস্থতাকারী দেশ ওমান। মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের বড় ধরনের সামরিক সমাবেশের পরিপ্রেক্ষিতে এই আলোচনা বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে।
ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আল-বুসাইদি সুইজারল্যান্ডে অনুষ্ঠিত বৈঠক শেষে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এর এক পোস্টে জানান, নিজ নিজ রাজধানীতে পরামর্শ শেষে দুপক্ষ শিগগিরই আবার আলোচনায় বসবে। আগামী সপ্তাহে ভিয়েনায় কারিগরি পর্যায়ের আলোচনা হওয়ার কথাও রয়েছে।
ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে সম্ভাব্য কোনো সমঝোতা হলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হুমকির মুখে থাকা সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কা কমতে পারে—যা অনেকের মতে বৃহত্তর যুদ্ধেও রূপ নিতে পারত।
ওমানের মন্ত্রীর আশাব্যঞ্জক মন্তব্যের আগে জেনেভায় ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি এবং যুক্তরাষ্ট্রের দূত স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনারের মধ্যে পরোক্ষ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সকালে একটি এবং বিকেলে আরেকটি অধিবেশন হয়।
আল-বুসাইদি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতির মাধ্যমে আমরা আজকের দিন শেষ করেছি।’
ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনকে আরাঘচি বলেন, ‘কিছু বিষয়ে আমরা একমত হয়েছি, আবার কিছু বিষয়ে মতপার্থক্য রয়ে গেছে। এক সপ্তাহেরও কম সময়ের মধ্যে পরবর্তী দফার আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে এবং ইরান স্পষ্টভাবে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে।’
আলোচনার ফল নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদলের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে কয়েক দশকের বিরোধ ঘিরে এই আলোচনা এমন সময়ে হচ্ছে, যখন মধ্যপ্রাচ্যে বৃহত্তর সংঘাতের আশঙ্কা বাড়ছে। কোনো চুক্তি না হলে ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকি দিয়ে আসছেন ট্রাম্প, আর ইরানের নিকটবর্তী জলসীমায় যুক্তরাষ্ট্র সামরিক শক্তি জড়ো করেছে।
ইরানের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানান, ওয়াশিংটন যদি পারমাণবিক ও অ-পারমাণবিক ইস্যু আলাদা করে, তবে একটি কাঠামোগত চুক্তিতে পৌঁছানো সম্ভব হতে পারে। অন্যদিকে ট্রাম্প প্রশাসন বলছে, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি ও অন্যান্য বিষয়ও আলোচনার অংশ হতে হবে।
সকালের অধিবেশন শেষে আল-বুসাইদি জানান, দুই পক্ষ ‘সৃজনশীল ও ইতিবাচক ধারণা’ বিনিময় করেছে। তবে ইরানের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, এখনও কিছু ব্যবধান কমাতে হবে।
ওয়াশিংটনের অভিযোগ, তেহরান পারমাণবিক বোমা তৈরির সক্ষমতা অর্জন করতে চায়। তাই তারা চায় ইরান সম্পূর্ণভাবে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কার্যক্রম বন্ধ করুক। এই প্রক্রিয়ায় পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের জ্বালানি তৈরি হয়, তবে একই সঙ্গে এটি অস্ত্র তৈরির উপাদানও সরবরাহ করতে পারে।
ইরান বরাবরই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে এবং বৃহস্পতিবারের আলোচনায় নমনীয়তা দেখানোর কথা জানিয়েছে। রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের অধিকার স্বীকৃতির বিনিময়ে তেহরান নতুন কিছু ছাড় দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে।
তবে যুক্তরাষ্ট্র চায়, আলোচনার পরিধি বাড়িয়ে ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ভাণ্ডার ও আঞ্চলিক সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর প্রতি তাদের সমর্থনের বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত করা হোক।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বুধবার বলেন, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকৃতি ‘বড় সমস্যা’ এবং এটি শেষ পর্যন্ত সমাধান করতেই হবে। তার মতে, এসব ক্ষেপণাস্ত্র ‘মূলত আমেরিকাকে লক্ষ্য করে তৈরি’ এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘায়ি প্রেস টিভিকে জানান, আলোচনা কেবল পারমাণবিক ইস্যু ও নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার নিয়েই সীমাবদ্ধ থাকবে। তিনি বলেন, তেহরান ‘গম্ভীরতা ও নমনীয়তা’ নিয়েই আলোচনায় অংশ নিচ্ছে।
সূত্র- আল আরাবিয়া
Publisher & Editor