শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

গাজায় ৮০০০ সেনা মোতায়েন করবে ইন্দোনেশিয়া

প্রকাশিত: ০২:৫৭, ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | ১০

ইন্দোনেশিয়া কয়েক সপ্তাহের মধ্যে গাজায় এক হাজার সেনা পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রপতি ডোনাল্ড ট্রাম্পের শান্তি বোর্ডের অধীনে আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনী (আইএসএফ)-এর অংশ হিসেবে জাকার্তা ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে প্রায় আট হাজার সেনা মোতায়েনের প্রতিশ্রুতি নিয়েছে।

ইন্দোনেশিয়ার সেনাবাহিনীর মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডনি প্রামোনো সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, প্রথম সেনারা এপ্রিলের মধ্যে গাজায় পৌঁছানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে এবং জুনের মধ্যে বেশির ভাগ সেনা গাজায় স্থলে পৌঁছাবে।

কিন্তু তাড়াহুড়ো করে সেনা মোতায়েনের এই ঘটনা যতই ঘনিয়ে আসছে, ততই কিছু ইন্দোনেশিয়ার নাগরিক প্রশ্ন তুলছেন, ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরায়েলের গণহত্যা করেছে, সেখানে তাদের সশস্ত্র বাহিনী এই মিশনে কী ভূমিকা পালন করবে?

ইন্দোনেশিয়া জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনে অভিজ্ঞ হলেও সমালোচকরা ভাবছেন, তারা সেনাদের ব্যবহার করে গাজার ফিলিস্তিনিদের নিয়ন্ত্রণ ও দখলদার কাজের জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ‘সহায়ক’ হিসেবে ব্যবহার করতে পারে।

ইন্দোনেশিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক শোফওয়ান আল বান্না চোইরুজ্জাদ বলেন, ‘আমরা ভয় পাচ্ছি, ফিলিস্তিনিদের নিয়ন্ত্রণে ইন্দোনেশিয়াকে শুধু মধ্যস্থতাকারী হিসেবে ব্যবহার করা হবে।’

তিনি বলেন, ‘ইন্দোনেশিয়া ফিলিস্তিনে সক্রিয় অংশীদার হিসেবে সুনাম পেয়েছে। যদি তাদের সেনাদের দখলদার কাজে ব্যবহার করা হয়, তা ফিলিস্তিনি ও ইন্দোনেশিয়ার জন্যই খারাপ হবে।’

শোফওয়ান আরো বলেন, ‘উদ্বেগের বিষয় হলো, ইন্দোনেশিয়া কেবল চাপ সামলানোর ভূমিকা নেবে।

ইসরায়েলের দখলের বৈধতা দেখাতে সাহায্য করবে।’
ফিলিস্তিনিদের সমর্থনের কারণে ইন্দোনেশিয়ার ইসরায়েলের সঙ্গে কোনো কূটনৈতিক সম্পর্ক নেই, যা পরিস্থিতিকে আরো জটিল করে।

তিনি বলেন, ‘ইন্দোনেশিয়াকে স্পষ্ট করতে হবে, তারা ফিলিস্তিনিদের সঙ্গে সংঘর্ষপূর্ণ বা ইসরায়েলি নিয়ন্ত্রিত এলাকায় অবস্থান করবে না। কারণ এতে ইসরায়েলের সঙ্গে সমন্বয় করতে হবে, যা ইসরায়েলের স্বীকৃতি হিসেবে গণ্য হবে।

সূত্র: আলজাজিরা। 

Mahfuzur Rahman

Publisher & Editor