বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

শিশু খেতে চায় না কেন, করণীয় কী

প্রকাশিত: ০৬:০৩, ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ |

‘শিশু একদম খেতে চায় না। তার ক্ষুধা বলতে কিছু নেই’—এগুলো খুবই পরিচিত অভিযোগ। সাধারণভাবে এর দুটি কারণ দেখা যায়। প্রথমত; শিশুকে তার প্রয়োজন, পছন্দ-অপছন্দ বা তার শারীরিক বিকাশের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে খাওয়ানো হচ্ছে না। দ্বিতীয়ত; উদরাময় বা অন্য কোনো অসুখ, যা শিশুর ক্ষুধা লোপের কারণ।

শিশু কেন খেতে চায় না

যেকোনো রোগে ক্ষুধা বা রুচিতে প্রভাব পড়ে। এর বাইরে শিশু খেতে না চাওয়ার প্রধান কারণ হলো জোর করে খাবার খাওয়ানো। যেমন—

চামচে করে জোরের সঙ্গে মুখে ঢোকানো।

আরও বেশি বেশি খেতে অনুরোধ, আদেশ বা নির্দেশ।

প্লেটের পুরোটাই যেন নিঃশেষ করে খেয়ে নেয়, সেই চেষ্টা।

না খাওয়ার জন্য শাস্তি প্রদান।

সে যখন যা চায়—চিপস, জুস, চকলেট, তা খেতে দিয়ে বায়না মেটানো।

প্রধান খাবারের মাঝখানে যখন-তখন স্ন্যাকস খাওয়ানো।

খাওয়ানোর সময় নানাভাবে তার মনভোলানোর ব্যবস্থা।

শিশুর খিদে কম হলে করণীয়

একই ধরনের খাবার শিশু প্রতিদিন প্রতিবেলা খেতে চায় না। তাই খাবারের উপাদানে পরিবর্তন আনুন।

প্রথম দিকে খাবারগুলো একটু চটকিয়ে দেওয়া, পরে ঘন ও দানাদার খাবার পরিবেশন করা।

শিশু ক্ষুধার্ত হলে তবেই খেতে দিতে হবে।

কখনো খেতে জোরাজুরি করতে নেই, বরং ধৈর্য ধরে খাওয়াতে হবে।

যেসব পুষ্টিকর খাবার পছন্দ করছে, তা-ই খেতে দেওয়া।

যখন-তখন পানি, জুস, চিপস ও চকলেটে পেট ভর্তি থাকলে খেতে পারে না।

প্রতিবার মুখের গ্রাস নেওয়ার সময় তাকে প্রশংসা করা। তার চোখে চোখ রেখে উৎসাহ জোগানো।

সময় দিয়ে, শিশুর পছন্দ-অপছন্দের তালিকা জেনে শিশুকে খাবার খাওয়াতে হবে।

যদি আন্ত্রিক অসুখে ভোগে, তবে তার খিদে কমে যায়। সে জন্য খাবার পরিবেশন, খাবার তৈরি, খাবার সংরক্ষণ—প্রতিটি পদক্ষেপে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে হবে।

যদি নিজে নিজেই খেতে চায়, তবে সেভাবে তাকে নিজের হাতে খাওয়ার জন্য সুযোগ দিতে হবে।

খাওয়ানোর সময় কখনো খেলনা বা ফোন নিয়ে খেলতে দেওয়া উচিত নয়। কেননা এতে তার খাওয়ার উৎসাহে ভাটা পড়ে।

Mahfuzur Rahman

Publisher & Editor