বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারি ২০২৬

মাদুরোকে আটক করতে ‘গোপন এক নতুন অস্ত্র’ ব্যবহার করেছে যুক্তরাষ্ট্র: ট্রাম্প

প্রকাশিত: ০৫:০৯, ২৭ জানুয়ারি ২০২৬ | ১০

ভেনেজুয়েলার তৎকালীন প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক করার সময় যুক্তরাষ্ট্র একটি গোপন অস্ত্র ব্যবহার করেছে বলে দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি অস্ত্রটির নাম উল্লেখ করেন ‘ডিসকম্বোবুলেটর’ হিসেবে। নিউইয়র্ক পোস্টকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ‘ডিসকম্বোবুলেটর সম্পর্কে আমি কথা বলতে পারি না।’ তবে তিনি দাবি করেন, অভিযানের সময় এটি শত্রুপক্ষের সরঞ্জাম অকার্যকর করে দিয়েছিল। শনিবার প্রকাশিত ওই সাক্ষাৎকারে তিনি এ মন্তব্য করেন।

তবে জ্যেষ্ঠ এক মার্কিন কর্মকর্তা সিএনএনকে জানিয়েছেন, ট্রাম্প সম্ভবত বিভিন্ন সামরিক সক্ষমতাকে একত্র করে একটি কাল্পনিক অস্ত্র হিসেবে উল্লেখ করেছেন। কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, ‘ডিসকম্বোবুলেটর’ নামে আলাদা কোনো অস্ত্রের অস্তিত্ব নেই।

সিএনএনের তথ্যমতে, অভিযানের সময় মার্কিন বাহিনী ভেনেজুয়েলার আগাম সতর্কতা ব্যবস্থা ও অন্যান্য প্রতিরক্ষাব্যবস্থা নিষ্ক্রিয় করতে সাইবার প্রযুক্তি ব্যবহার করে। পাশাপাশি মাটিতে থাকা সেনাদের বিভ্রান্ত করতে শব্দভিত্তিক (অ্যাকুস্টিক) সরঞ্জামও ব্যবহৃত হয়।

মার্কিন সামরিক বাহিনীর কাছে দীর্ঘদিন ধরে থাকা ‘অ্যাকটিভ ডিনায়েল সিস্টেম’ (এডিএস) নামের একটি তাপ বিকিরণ অস্ত্রের কথাও আলোচনায় এসেছে। তবে মাদুরোকে আটক করার সময় এই অস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছিল কি না, তা নিশ্চিত করা হয়নি। সিএনএনের আগের প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, এডিএস একটি অপ্রাণঘাতী অস্ত্র, যা বিদ্যুৎচৌম্বকীয় তরঙ্গ ছুড়ে মানুষের ত্বকে তীব্র উত্তাপের অনুভূতি সৃষ্টি করে এবং মানুষকে সরে যেতে বাধ্য করে।

মাদুরোকে আটক করার কয়েক দিন পর হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলাইন লেভিট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি পোস্ট শেয়ার করেন। সেখানে ভেনেজুয়েলার এক নিরাপত্তারক্ষীর বক্তব্য উদ্ধৃত করা হয়। ওই নিরাপত্তারক্ষী দাবি করেন, অভিযানের সময় যুক্তরাষ্ট্র এমন কিছু ব্যবহার করেছিল, যা ‘তীব্র শব্দতরঙ্গের মতো’ মনে হয়েছিল।

ওই ব্যক্তি বলেন, ‘হঠাৎ মনে হয়েছিল আমার মাথা ভেতর থেকে ফেটে যাচ্ছে। আমাদের নাক দিয়ে রক্ত ঝরছিল, কেউ কেউ রক্ত বমি করছিল। আমরা মাটিতে পড়ে যাই, নড়াচড়া করতে পারছিলাম না।’ তবে সিএনএন জানিয়েছে, এই বক্তব্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

সিএনএনের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ৩ জানুয়ারি ভেনেজুয়েলায় একযোগে বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে হামলার মধ্য দিয়ে অভিযান শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র। এতে রাডার, যোগাযোগব্যবস্থা ও আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ধ্বংস করা হয়, যাতে মার্কিন হেলিকপ্টারগুলো নির্বিঘ্নে অগ্রসর হতে পারে।

মার্কিন জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান বিমানবাহিনীর জেনারেল ড্যান কেইন জানান, অভিযানে স্থল ও সমুদ্রভিত্তিক ২০টি ঘাঁটি থেকে বোমারু ও নজরদারি বিমানসহ ১৫০টির বেশি উড়োজাহাজ ব্যবহার করা হয়।

বিশেষজ্ঞদের ধারণা, উপকূলীয় শহর হিগুয়েরোতে হামলার সময় একমুখী আক্রমণকারী ড্রোনও ব্যবহৃত হয়ে থাকতে পারে। এ শহরটি ভেনেজুয়েলার আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটি।

ফোর্ট টিউনা সামরিক কমপ্লেক্সে মার্কিন বাহিনীর অবতরণের সময়কার ভিডিওতে টানা গুলির শব্দ শোনা যায়। সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, শব্দগুলো এমএইচ–৬০ ব্ল্যাকহক আক্রমণকারী হেলিকপ্টারের ৩০ মিলিমিটার স্বয়ংক্রিয় কামান থেকে ছোড়া গোলার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

তবে ফোর্ট টিউনার ঠিক কোন স্থানে মাদুরোকে আটক করা হয়েছে এবং মার্কিন বাহিনী ভেতরে প্রবেশের পর কী ঘটেছিল—সে বিষয়ে এখনো বিস্তারিত প্রকাশ করা হয়নি।

Mahfuzur Rahman

Publisher & Editor