বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারি ২০২৬

দক্ষিণ কোরিয়ার পণ্যে শুল্ক বাড়িয়ে ২৫ শতাংশ করার ঘোষণা ট্রাম্পের

প্রকাশিত: ০৫:০৮, ২৭ জানুয়ারি ২০২৬ |

দক্ষিণ কোরিয়ার পণ্যের ওপর বিদ্যমান ১৫ শতাংশ শুল্ক বাড়িয়ে ২৫ শতাংশ করার ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর ভাষ্যে, দেশটি বাণিজ্যচুক্তির শর্ত পূরণ করছে না। তাই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
গতকাল সোমবার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প এই ঘোষণা দেন। তিনি লেখেন, ‘যেহেতু দক্ষিণ কোরিয়ার আইনসভা আমাদের ঐতিহাসিক বাণিজ্যচুক্তি কার্যকর করেনি, যা তাদের নিজস্ব অধিকার। তাই আমি দক্ষিণ কোরিয়ার গাড়ি, কাঠ, ওষুধপণ্যসহ অন্যান্য পণ্যে পাল্টা শুল্ক ১৫ থেকে ২৫ শতাংশে উন্নীত করছি।’

তবে এই শুল্কবৃদ্ধি এরই মধ্যে কার্যকর হয়েছে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়। এ বিষয়ে জানতে হোয়াইট হাউসের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন। তবে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
যুক্তরাষ্ট্রে আমদানি হওয়া বিদেশি পণ্যের অন্যতম প্রধান উৎস দেশ—দক্ষিণ কোরিয়া। মার্কিন বাণিজ্য দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, দক্ষিণ কোরিয়া ২০২৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রে ১৩২ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি করেছে।

দক্ষিণ কোরিয়া মূলত মার্কিন বাজারে গাড়ি, গাড়ির যন্ত্রাংশ, সেমিকন্ডাক্টর ও ইলেকট্রনিক পণ্য রপ্তানি করে থাকে। বাড়তি শুল্কের ফলে এসব পণ্যের দাম যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে আরও বেড়ে যেতে পারে।

গত বছরের জুলাইয়ে ট্রাম্প দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে একটি বাণিজ্যচুক্তির ঘোষণা দিয়েছিলেন। চুক্তিটি দক্ষিণ কোরিয়ার পণ্যের ওপর মার্কিন শুল্কের হার ১০ থেকে ২৫ শতাংশে বাড়ানো ঠেকিয়েছিল। চুক্তিতে আমদানি করা গাড়িসহ অন্যান্য পণ্যের ওপর অগ্রাধিকারমূলক শুল্কহারের কথাও বলা হয়েছিল।

দক্ষিণ কোরিয়া বা অন্যান্য দেশ থেকে আসা পণ্যের ওপর সব ধরনের শুল্ক একযোগে বাড়ানোর ক্ষেত্রে ট্রাম্পের ক্ষমতা মার্কিন সুপ্রিম কোর্টে চলমান একটি গুরুত্বপূর্ণ শুল্ক-সংক্রান্ত মামলার রায়ের ফলাফলের কারণে বাধাগ্রস্ত হতে পারে।

এ মামলায় নির্ধারণ করা হবে, নির্দিষ্ট কোনো দেশের সব পণ্যের ওপর ব্যাপক শুল্ক আরোপ করার আইনগত ক্ষমতা ট্রাম্পের ছিল কি না।

যদি বিচারকেরা বর্তমান মার্কিন প্রশাসনের বিরুদ্ধে রায় দেন, তাহলে ট্রাম্প সম্ভবত নির্দিষ্ট দেশ থেকে আমদানি হওয়া সব পণ্যের শুল্কহার তাৎক্ষণিকভাবে পরিবর্তন করতে পারবেন না।

Mahfuzur Rahman

Publisher & Editor